০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

দেশে ফিরব, কোর্টে যাব, মামলা লড়ব, কিন্তু নিরাপত্তা তো দিতে হবে : সাকিব

আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত হয়রানির শিকার না হওয়ার নিশ্চয়তা পেলে দেশে ফিরবেন সাকিব আল হাসান।

দেশে ফিরব, কোর্টে যাব, মামলা লড়ব, কিন্তু নিরাপত্তা তো দিতে হবে : সাকিব
নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চান সাকিব আল হাসান। ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 May 2026, 04:59 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:32 PM

দেশে ফেরার আশা পুরোপুরি আছে বলেই জানালেন সাকিব আল হাসান এবং ফিরতে চান তাড়াতাড়িই। তবে দেশে ফেরার পথে মূল বাধা মনে করেন তিনি নিরাপত্তার শঙ্কাকে। সাধারণ একজন নাগরিক হিসেবে আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত হয়রানির শিকার না হওয়ার নিশ্চয়তা পেলেই দেশে ফিরবেন বলে জানালেন দেশের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার ও আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সাংসদ।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ১৭ দিন পর সাকিবের নামে হত্যা মামলা হয় রাজধানীর আদাবর থানায়। পোশাককর্মী মো. রুবেলকে হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে মামলাটিতে ২৮ নম্বর আসামী করা হয় মাগুরা–১ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যকে।

এছাড়াও তার নামে চেক প্রতারণা ও শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির মামলা আছে। 

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আর দেশে ফিরতে পারেননি বা ফেরেননি সাকিব। পরিবার নিয়ে তিনি থিতু নিউ ইয়র্কে। ৫ অগাস্টের পর বাংলাদেশ দলের পাকিস্তান ও ভারত সফরে খেললেও এরপর আর দেশের জার্সিতে দেখা যায়নি তাকে। জাতীয় দলে ফেরাতে গত এক-দেড় বছরে তার দেশে ফেরা নিয়েও আলোচনা ছিল নিত্য। বিসিবির পক্ষ থেকে উদ্যোগের কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো কিছুই বাস্তবতার মুখ দেখেননি।

সম্প্রতি একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ইভেন্টে মুম্বাই এসেছিলেন তিনি। সেখান থেকে ফোনে দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে।

এই সাক্ষাৎকারে মামলাগুলি নিয়ে নিজের অবস্থান বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন সাকিব এবং সেগুলির আইনি ভিত্তি খুব শক্ত নয় বলেই মনে করেন তিনি। এত আত্মবিশ্বাসী হলে দেশে কেন ফিরছেন না, এই প্রশ্নে সাকিব বলেন, “আমার যেসব মামলা, দেশে এসে কিছু করার আছে বলে মনে হয় না। হ্যাঁ, দুদকের মামলায় জামিন নিতে পারি। কিন্তু দুদকের এরকম মামলা তো দেশে হাজার হাজার মানুষের আছে এবং তারা দেশে খুব ভালোভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে, ব্যবসা করছে, সবই করছে।”

দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমন শঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না দেশের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক।

“এখন তো আর কোনো কিছু অস্বাভাবিক মনে হয় না! যদিও আমি আশাবাদী যে ওরকম করা হবে না। যতক্ষণ না আমার দোষ প্রমাণিত হচ্ছে, সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু অনেক কিছুই আমি ভাবতাম এক রকম, হচ্ছে আরেক রকম! কিছুই তাই বলা যায় না।”

তবু দেশে ফেরার আশা প্রবলভাবেই আছে বলেই জানালেন সাকিব। সেখানেই তুলে ধরলেন তার শঙ্কা ও প্রত্যাশার দিকটি।

“(দেশে ফেরার আশার) পুরোপুরিই আছে। আমি ফিরব, আশা করি তাড়াতাড়িই ফিরতে পারব।”

“আমি দেশে ফিরব, কোর্টে যাব, মামলা লড়ব। কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আমার নিরাপত্তা তো দিতে হবে! এতটুক তো আশা করতেই পারি। আমি বলছি না যে, নিরাপত্তা মানে আমার জন্য রাস্তা বন্ধ করে দিতে হবে বা পুলিশের চারটা গাড়ি সামনে থাকবে। ওরকম তো চাচ্ছি না। তবে একটা স্বাভাবিক নিরাপত্তা তো আছে, আইনী প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত হয়রানি করবে না। ব্যাস, এতটুকুই আশা করি। সাধারণ নাগরিক হিসেবেই তো এটুকু আশা করতে পারি। হয়রানি না করার নিশ্চয়তা যদি কালকে দেওয়া হয়, পরশুই দেশে যাব আমি।”

'কালকে যদি নিশ্চয়তা দেওয়া হয় হয়রানি করা হবে না, পরশুই দেশে ফিরব'

জাতীয় দলে ফিরতে 'এক মাসের ট্রেনিং' যথেষ্ট মনে করেন সাকিব

এবারও ভোটে দাঁড়িয়ে 'দেখিয়ে দেওয়ার' কথা ভেবেছিলেন সাকিব

আওয়ামী লীগেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ সাকিব, 'পল্টি দেওয়ার অভ্যাস নেই'