সিলেট থেকে
Published : 07 Jan 2026, 09:29 AM
বাংলাদেশের সঙ্গে মইন আলির সম্পর্ক অনেক পুরোনো। জাতীয় দলের হয়ে ও ঘরোয়া ক্রিকেট মিলিয়ে অনেকবারই এসেছেন এদেশে। এবারের সফর তবুও একটু ভিন্ন। তার স্ত্রীর শহর সিলেটের হয়ে বিপিএলে প্রতিনিধিত্ব করছেন প্রথমবার। তার প্রথম ম্যাচে সিলেটের গ্যালারি থেকে ভেসে এসেছে ‘দুলাভাই’ স্লোগান। সিলেটের হয়ে খেলতে পেরে তিনি নিজেও বেশ আপ্লুত।
সম্পর্কটা শুধু বাংলাদেশের সঙ্গেই নয়, বড় দুই তারকা সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের সঙ্গেও তার বন্ধন অনেক পুরোনো ও পোক্ত। এমন এক সময়ে তিনি এবার খেলতে এসেছেন, যখন মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে চলছে তুমুল বিতর্ক। অ্যাশেজও চলে এসেছে শেষ পর্যায়ে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৩৮ বছর বয়সী ইংলিশ অলরাউন্ডার কথা বললেন এই সবকিছুসহ আরও অনেক প্রসঙ্গে।
বিপিএলে ফিরে কেমন লাগছে?
মইন আলি: ভালো, ফিরতে পেরে দারুণ লাগছে। যদিও কিছুটা খারাপ লাগছে কুমিল্লা নেই বলে। কুমিল্লা অসাধারণ ছিল। তবে এই টুর্নামেন্টে ফিরতে পেরে ও সিলেটের হয়ে খেলতে পেরেও ভালো লাগছে। এখানে আমার শ্বশুরবাড়ি, আত্মীয়রা আছে। এই দলে খেলতে পারাটাও দারুণ।
সিলেট টাইটান্সের সামাজিক মাধ্যমের পাতায় আপনাকে বলা হয়েছে ‘দুলাভাই।’ এই ডাকের সঙ্গে আপনার পরিচয় আছে?
মইন: হ্যাঁ, অবশ্যই। ‘জামাই’, ‘দুলাভাই’, এই ধরনের সবকিছুই আমার জানা। ব্যাপারটি এরকমই। এমনকি গতকালকে (সোমবার) খেলার সময় গ্যালারি থেকে চিৎকার করে এই নামেই ডাকছিল আমাকে।
বিপিএলে আপনার গত তিনটি আসরেই কুমিল্লার হয়ে খেলেছেন। অনেক আগে, সেই দ্বিতীয় আসরে খেলছেন রাজশাহী। এবার সিলেটে খেলতে পারছেন, যে শহরের সঙ্গে আপনার আলাদা সম্পর্ক আছে…
মইন: সত্যিই ভালো লাগছে। অবশ্যই, এই শহরের সঙ্গে বিশেষ সংযোগ তো আছেই। খুবই ভালো লাগছে। যুক্তরাজ্য প্রবাসী বেশির ভাগ বাংলাদেশিই সিলেটের। এখন মনে হচ্ছে, আমি তাদেরই প্রতিনিধিত্ব করছি, যা দারুণ।

আপনার পরিবারের সদস্যরা কি এখানে আসে নিয়মিত?
মইন: হ্যাঁ, অবশ্যই। আমার স্ত্রীর বোন, তার জীবনসঙ্গী ও ওদের পরিবার প্রায়ই আসে। এবারও সম্ভবত আসবে শিগগিরই। ওরা সবাই আসে নিয়মিতই।
আমার মেয়ে এখানকার ভাষা জানে, যা চমৎকার ব্যাপার। সে এই ভাষায় কথা বলে। আমার ছেলেও একটু-আধটু পারে। তবে মেয়েই বেশি পারে, বেশ ভালো পারে।
একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে যাওয়া যাক। আপনি তো একটি পডকাস্ট শুরু করেছেন। খেলাটির বিভিন্ন গল্প তুলে ধরতে এবং সাক্ষাৎকার নিতে বেশ উপভোগ করছেন বলেই মনে হচ্ছে!
মইন: খারাপ নয়। আমার তো মনে হয়, এটা বেশ ভালোই, কারণ এমন মানুষদের সাক্ষাৎকার আমরা নেই, যারা পডকাস্ট খুব বেশি করেন না এবং তারা এটাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে, যা দারুণ ব্যাপার।
যেমন, সাকিবকে পেয়েছিলাম আমরা। আমার মনে হয় না, এমন কিছু আগে খুব বেশি করেছে সে। সম্প্রতি ব্রাভোর একটা করেছি। আরও বেশ কজনের আসছে। তামিমের একটা নিতে পারলেও ভালো লাগবে। আমার মনে হয়, সে দারুণ করবে।
সাকিবেরটি দুর্দান্তরকম ভালো ছিল। যে ক্রিকেটাররা মিডিয়াতে খুব বেশি আসে না বা বেশি মুখ খোলে না, তাদেরকে ফুটিয়ে তুলতে পারা দারুণ। কারণ, তাদের সবারই গল্প আছে, যা অসাধারণ। ব্রাভোর গল্প যেমন ছিল অবিশ্বাস্য। সব মিলিয়ে ভালোই লাগে।
সাকিবের সঙ্গে পডকাস্টের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? তার সঙ্গে আপনার সম্পর্ক তো অনেক দিনের!
মইন: খুব ভালো। সত্যি বলতে, সাকিব ছিল খুবই উন্মুক্ত ও দুর্দান্ত। খুবই রিল্যাক্সড ছিল। যা কিছু বলতে চেয়েছে, খোলা মনে বলেছে, সব কিছু। শো সঞ্চালনা করে যে ছেলেটি, নাভিদ, তার স্ত্রীও বাংলাদেশি। সে সাকিবকে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘এমন কিছু কি আছে, যা নিয়ে কথা বলতে চান না?’ সাকিব বলেছিল, ‘যে কোনো কিছু নিয়ে কথা বলব, সবকিছু নিয়ে।’ আশা করি, এই পডকাস্টের দ্বিতীয় অংশ হয়তো আসবে।
সে দুর্দান্ত ছিল। অনেক দিন পর তার সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাতে পারাও চমৎকার ছিল। কানাডায়ও কিছুটা সময় কাটাতে পেরেছিলাম তার সঙ্গে, সে ওই লিগ খেলছিল। পরে ক্যারিবিয়ান লিগও (সিপিএল)। আমার মতোই খেলে যাচ্ছে সে।
তবে সত্যি বলতে, আমি চাই সে বাংলাদেশে ফিরুক ও এখানে খেলুক। যেখানে সে ক্যারিয়ার শেষ করতে চায়, সেখানেই শেষ করুক।

সাকিবকে ঘিরে যে পরিস্থিতি, সেটা নিয়ে ধারণা আছে আপনার?
মইন: হ্যাঁ, অবশ্যই এবং তা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। দেখুন, তার পরিস্থিতি খুবই কঠিন, কারণ সে এমন কিছু বলেছে, যা পাগলাটে…।
সাকিবের একটি ব্যাপার হলো, সে দারুণ এক ছেলে। অবশ্যই বিশেষ এক প্রতিভা। হ্যাঁ, তার আরেকটি দিকও আছে, যেখানে সে স্টাম্পে লাথি মারে এবং এসব অনেক কিছু করে। তবে সব মিলিয়ে সে ভালো ছেলে। টপ গাই।
এমনিতেই কি সাকিবের সঙ্গে আপনার কথা হয়?
মইন: হ্যাঁ, সবসময়ই। নানা সময়েই যোগাযোগ হয় আমাদের।
সাকিবের সঙ্গে আপনার পরিচয় সম্ভবত সেই ২০০৫ সালে, বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে খেলার সময়। এখনও আপনারা বিভিন্ন লিগে খেলে বেড়াচ্ছেন। বৃত্ত পূরণের মতো ব্যাপার কি মনে হয়?
মইন: হ্যাঁ, সে এমন একজন… এবং তামিম, ওদেরকে যখন দেখি, বিশেষ সম্পর্ক অনুভব করি। কারণ ওদেরকে দীর্ঘদিন ধরে চিনি। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডানের হয়ে যখন খেলেছি(২০১০-১১), দুজনের সঙ্গেই খেলেছি তখন। দুজনই আমার দেখভাল করেছে খুবই আন্তরিকভাবে। আমি তখনও ইংল্যান্ডের হয়ে খেলিনি, ওরাও তখন মহাতারকা নয়, সম্ভাবনাময় তরুণ ক্রিকেটার ছিল। আমার সঙ্গে দুজনই ছিল দারুণ।
যেভাবে ওরা আমার খেয়াল রেখেছে, দুজনের জন্যই আমার হৃদয়ে বিশেষ জায়গা আছে এবং সবসময়ই ওদের সঙ্গে আমার যোগাযোগটা ছিল। সাকিব কাউন্টি ক্রিকেটে খেলেছে আমার সঙ্গে। তামিমের বিপক্ষে খেলেছি সেখানে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও টেস্ট-ওয়ানডেতে ওদের বিপক্ষে খেলেছি।
পডকাস্টের প্রসঙ্গে এত কথা হলো। খেলাটির সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে এটা কি আপনাকে সহায়তা করে?
মইন: হ্যাঁ, উপভোগ করছি। এছাড়া আমি কোচিংও করাচ্ছি। কয়েকজন ক্রিকেটারকে, কাউন্টি ক্রিকেটার, আমার ছেলেকে ও আরও কয়েকজন বাচ্চাকে কোচিং করাই। সত্যি বলতে, এটা আমার নিজের খেলাকেও সহায়তা করে। কোচিং আমি উপভোগ করি। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচিং করাতেই মুখিয়ে থাকব।

এখন তো আপনাকে দেখে মনে হয়, খেলাটা আরও বেশি উপভোগ করছেন!
মইন: খেলতে উপভোগ করি আমি। খেলতে ভালোবাসি, কোনো একটি দলের অংশ হতে ভালো লাগে। পুরো ব্যাপারটিকে ঘিরে থাকতে ভালো লাগে আমার। এটায় এতটাই অভ্যস্ত যে… ২০ বছরের বেশি সময় ধরেই তো এই ব্যস্ততা চলছে… এক পর্যায়ে অভ্যস্ত হয়েই যায় সবাই। খেলে ছেড়ে দিলে আমি ভীষণভাবেই মিস করব। পরবর্তী সম্ভাব্য সেরা ব্যাপার হবে তাই কোচিং করানো।
মিডিয়ার কাজ, সত্যি বলতে খুব বেশি পছন্দ করি না। ভালো লাগে, তবে অত বেশি নয়।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের পর জীবন কেমন কাটছে?
মইন: ব্যস্ত, এখনও প্রচণ্ড ব্যস্ত। এত এত ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ…। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ব্যস্ততা তুমুল। সেটা খারাপ নয়, ভালোই লাগে। আলহামদুলিল্লাহ… অভিযোগ নেই।”
ব্যস্ততার কথা বলছেন, ডিসেম্বর-জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি, এই উইন্ডোতে একগাদা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ একসঙ্গে চলতে থাকে। সামনের পথচলায় বিশ্ব ক্রিকেট কিভাবে এটার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে? আপনি কি কোনো সমাধান দেখেন?
মইন: আমার মনে হয়, সমাধানটা হবে ফুটবলের মতো, যেখানে বিশ্বকাপ থাকবে, আইসিসি ইভেন্ট, একটি-দুটি বড় (আন্তর্জাতিক) দ্বিপাক্ষিক সিরিজ… আর বাকিটুকু শুধুই ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট। মানে লিগগুলোই বেশি থাকবে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কম। তবে খেলাটা এমনিতেই বেশ বিপদে আছে এসব নিয়ে, তার ওপর মুস্তাফিজের সঙ্গে যা হলো…।
সত্যি বলতে, কিছু একটা ঠিক নেই এখানে। সবকিছু ঠিকঠাক করতে কিছু একটা করা প্রয়োজন, কারণ ব্যাপারটি শুধু মুস্তাফিজের নয়। পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আমরা সবাই জানি নানা ইস্যু চলছে। এভাবে চলতে পারে না। বড় সমস্যা এসব।
আপনি নিজেই যখন প্রসঙ্গটি তুললেন, মুস্তাফিজকে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যা হচ্ছে এবং বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশের যেতে না চাওয়া, সবকিছুকে কিভাবে দেখছেন?
মইন: অন্য সবকিছুর চেয়ে মুস্তাফিজের জন্যই আমার খারাপ লাগছে বেশি। এত ভালো একটা চুক্তি পেয়েছিল, এবং তার ক্যারিয়ার ধরলে, এত বছরের কুশলী পারফরম্যান্স ও পথচলা, তার পর এত ভালো কিছু পেল…। অন্য দলেও থাকতে পারত সে, কিন্তু তাকে পেল কেকেআর… আর সত্যি বলতে, যে কারও চেয়ে বেশি ভুগতে হচ্ছে তো তাকেই।
এবং সেটির জের ধরে ভারতে না যেতে বিসিবির সিদ্ধান্ত….?
মইন: আজকেই পড়লাম বাংলাদেশ (যাচ্ছে না ভারতে)… এবং (আইপিএল) সম্প্রচার বন্ধ করেছে। এটা আসলে… বাংলাদেশকে দায় দিচ্ছি না আমি। তবে যারাই এসব করছে, যারাই এগুলো টেনে আনছে, খুবই ফালতু কাজ হচ্ছে, কারণ ক্রিকেটের ব্যাপারটি ভিন্ন। লোকে ক্রিকেট খেলে এবং ভালোবাসে, বিশেষ করে উপমহাদেশে।
লোকে প্রিয় ক্রিকেটারদের দেখতে পছন্দ করে এবং ফিজ (মুস্তাফিজ) যদি কলকাতা দলে খেলত, তাহলে বাংলাদেশের জন্য দারুণ হতো, বাংলাদেশের মানুষের জন্য চমৎকার ব্যাপার হতো। শুধু এখানেই নয়, ওখানকার বাঙালিদের জন্যও দারুণ হতো। এটা তাই দুঃখজনক। স্রেফ বাজে ব্যাপার।
অনেক দিন ধরেই এসব হচ্ছে, কিন্তু কেউ কিছু বলছে না। কেউ যেন দেখেও দেখছে না, উপেক্ষা করছে। পাকিস্তানের সঙ্গে এসব হচ্ছেই এবং আইসিসি স্রেফ…।”
আইসিসি কি সত্যিকারের অভিভাবক সংস্থার মতো কাজ করছে?
মইন: আইসিসি কখনোই এরকম নয়। এটিই সত্যি। কিন্তু কেউ কিছু বলে না। সবাই জানে, এটা কে চালায়…।
অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মতো দেশগুলির এখানেই ভূমিকা রাখা উচিত নয়?
মইন: তারাও কিছু বলে না। তাদের বলা উচিত। কিন্তু গোটা দুনিয়া এভাবেই চলছে। শুধু ক্রিকেটে নয়, বা রাজনীতিতে নয়, গোটা বিশ্বেই এসব চলছে। সবারই নিজের এজেন্ডা আছে এবং যতদিন তারা ঠিক আছে, অন্য কিছু আর পাত্তা দিচ্ছে না।
আপনার ক্যারিয়ারে ফিরে তাকালে, বিশেষ করে বোলিংয়ের ক্ষেত্রে, (বোলিং অ্যাকশন নিয়ে) আইসিসির কড়া পদক্ষেপের পর আপনি ‘দুসরা’ ডেলিভারি করা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ডেলিভারিটিই একরকম হারিয়ে যায়। অনেকে ভেবেছিল, প্রথাগত অফ স্পিনের মৃত্যু এখানেই। কিন্তু গোটা দুনিয়া দেখেছি ভিন্ন কিছু। রাভিচান্দ্রান অশ্বিন, ন্যাথান লায়ন, আপনি, অসাধারণ করেছেন। সেই পথচলা কেমন ছিল?
মইন: কঠোর পরিশ্রম করেছি। আমি অফ স্পিন শুরু করেছি খেলা শুরুর অনেক পরে, ক্যারিয়ারে অনেক দেরিতে। এজন্য বেশি খাটতে হয়েছে। প্রতিদিনই বোলিং করতাম আর করেই যেতাম, টানা। টেস্ট ম্যাচে শুধু অফ স্পিনই হতো, ফিঙ্গার স্পিন। নিয়ন্ত্রণের কথা বললে, রিস্ট স্পিন বেশি কঠিন। টি-টোয়েন্টিতে তারা (রিস্ট স্পিনাররা) ভালো করে, কারণ অনেক আলগা বলও তারা করে।
আপনি কি জানেন, কে ভালো স্পিনার? রিশাদ হোসেন। দুর্দান্ত স্পিনার। আমার মনে হয়, সে দারুণ একজন হতে যাচ্ছে।
তার বোলিং কি যথেষ্ট দেখেছেন?
মইন: হ্যাঁ। গত বিপিএলে তো কুমিল্লার তার সঙ্গে খেলেছি, সেখানেই তাকে প্রথম দেখি। তাকে দেখার পর শুধু দেখেই গেছি। তার দিকে সবসময়ই নজর থাকবে আমার, কারণ আমার মতে… সে কি আইপিএলে খেলেছে? আমার মনে হয়, সে আইপিএলে খেলবে। সে খুব ভালো, খুবই ভালো স্পিনার এবং এই মুহূর্তে সে সেরাদের একজন।
তার কোন ব্যাপারটি আপনার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে?
মইন: খুব ভালো ও শক্তিশালি অ্যাকশন। সোজা বল ছোড়ে, বল ঘোরাতে পারে। তার অ্যাঙ্গলগুলো দারুণ। ফিল্ডারও খুব ভালো সে, খানিকটা ব্যাটিং পারে। সব মিলিয়ে অসাধারণ একজন হতে যাচ্ছে সে। মানুষ হিসেবেও খুব ভালো সে।
স্পিনের কথা যখন এলোই, অফ স্পিনার শোয়েব বাশিরকে এবারের অ্যাশেজে কোনো টেস্টেই খেলানো হলো না। ন্যাথান লায়নও খুব একটা ভূমিকা রাখার সুযোগ পাননি। টেস্ট ক্রিকেট আসলে কোন দিকে এগোচ্ছে, বিশেষ করে স্পিনারদের জন্য?
মইন: ব্যাপারটি সেদিকেই এগোচ্ছে যে, শুধু স্পিন বোলিং দিয়ে একাদশে জায়গা পাওয়া কঠিন হবে। অন্তত কিছুটা ব্যাটিং জানা থাকতে হবে। লায়নের কথা বলতে পারে, সে বিশেষ একজন, তার কথা আলাদা।
শোয়েব বাশিরের বয়স এখনও কম। মাত্র ২১ বছর (২২ বছর)। কখনও কখনও আপনার মনে হতেই পারে, তাকে খেলানো উচিত। আবার কখনও কখনও না খেলাও তার জন্য সবচেয়ে ভালো। এমনও হতে পারে, খেললেই বরং ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যেতে পারে!
আমিও একইরকম ভাবতাম। সাধারণত শীর্ষ চারেই ব্যাট করতাম (ঘরোয়া ক্রিকেটে), কিন্তু ইংল্যান্ডের হয়ে বেশির ভাগ সময় খেলতে হয়েছে সাত নম্বরে। মাঝেমধ্যে আমার মনে হয়, চার নম্বরে খেললে ইংল্যান্ডের হয়ে এত ম্যাচ খেলতে পারতাম না। সাত নম্বরে নেমে দলের ভারসাম্য রক্ষা করেছি, অফ স্পিন বোলিং করেছি।
কে জানে, শোয়েব বাশিরের জন্য এবার না খেলাই হয়তো তার জন্য সবচেয়ে ভালো হয়েছে।
কিন্তু টি-টোয়েন্টি তো বটেই, টেস্ট ক্রিকেটেও এখন যেভাবে খেলা হয়, প্রথাগত অফ স্পিনারদের সামনে সমূহ বিপদ দেখছেন?
মইন: নাহ, এখনও মনে করি, প্রথাগত অফ স্পিনারই সেরা বিকল্প। তবে তাদেরকে এখন ব্যাটিংও পারতে হবে। টি-টোয়েন্টিতে খেলাটা এখন যে দিকে এগোচ্ছে, বছর পাঁচেকের মধ্যে সবাইকে অলরাউন্ডারই হতে হবে। পুরো ১১ জনই (ব্যাটিং পারবে)… হয়তো দুই-একজন শুধু রহস্য স্পিনার ধরনের থাকবে (ব্যাটিং না পারলেও)।
তবে এমনিতে সবাই অলরাউন্ডারই হবে। আইপিএলে সেরা দলগুলি ও অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোয় সবচেয়ে বেশি খরচ করা হয় অলরাউন্ডারদের পেছনেই। ওয়াশিংটন সুন্দারের মতো অলরাউন্ডারদের চাহিদা অনেক। সব ক্রিকেটার, উঠতি ছেলেরা এসব দেখবে এবং অলরাউন্ডার হয়ে উঠতে অনুশীলন চালিয়ে যাবে।
টেস্ট ক্রিকেটেও তেমন কিছু ছড়িয়ে পড়তে পারে?
মইন: হ্যাঁ, অবশ্যই। শেষ পর্যন্ত হবে। ভেবে দেখুন, এমন সব ক্রিকেটার যদি আপনার থাকে যে ব্যাটিং-বোলিং করতে পারে- ডানহাতি, বাঁহাতি স্পিনার, রিস্ট স্পিনার, অফ স্পিনার, কোনো ঘাটতি তাহলে থাকে না। চার সিমার, এক স্পিনার নিয়ে একাদশ সাজানোর মতো নয়। বরং জেকব বেথেলের মতো ক্রিকেটার, যে মূলত ব্যাটসম্যান, পাশাপাশি বাঁহাতি স্পিনও করে, এরকম অনেকে থাকবে। তারা সময়ের সঙ্গে কেবল ভালো হয়েই উঠবে। সেদিকেই এগোচ্ছে ক্রিকেট।
তবে আমি এখনও মনে করি, প্রথাগত অফ স্পিনই সেরা পছন্দ।
দুই দিনের টেস্ট ম্যাচ? এবারের অ্যাশেজে দুটি হলো। আপনার ভাবনা কি?
মইন: ভয়ঙ্কর! উইকেটগুলো ছিল প্রচণ্ড বাজে। যে কোনো কিছুই হতে পারত। এমনকি ইংল্যান্ড ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ জিততেও পারত। ট্রাভিস হেড সাধারণ খেলেছে। কিন্তু সে তো মাঠে নেমে বাজবল ঘরানার ক্রিকেটই খেলেছে। দুই দিনে শেষ হওয়া ম্যাচগুলোয় সব অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার রক্ষণাত্মক ঘরানায় গেলেই আউট হয়ে গেছে। ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রেও হতে পারত।
অস্ট্রেলিয়া যতটা ভালো ব্যাট করেছে, আমার মনে হয় না ইংল্যান্ড ততটা পেরেছে। অস্ট্রেলিয়া অবশ্যই শ্রেয়তর দল ছিল, ভুল বুঝবেন না। তবে অনায়াসেই ফলটা উল্টো হতে পারত। কিন্তু দুই দিনের টেস্ট ম্যাচ… আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এসব বাস্তবতাই বলছিলাম একটু আগে।
অ্যাশেজের পরও ইংল্যান্ড বাজবল ঘরানাকেই আঁকড়ে রাখবে বলে মনে হয়?
মইন: হ্যাঁ, তেমনটিই মনে করি। ওদেরকে স্রেফ এটাতেই আরও ভালো ও আরও স্মার্ট হতে হবে।
ব্রেন্ডন ম্যাককালামকেও কি কোচের দায়িত্বে রাখা হবে?
মইন: আশা তো করি! সে দারুণ। স্টোকস অসাধারণ। লোকের মনে থাকে না, তারা আসার আগে দলের কী অবস্থা ছিল (১৭ টেস্টের মধ্যে ১টি জিতেছিল ইংল্যান্ড)। এই দল তো এখনও ম্যাচ জিতছে।
এবারের অ্যাশেজ নিয়ে ইংলিশ ক্রিকেটে উচ্চাশা ছিল অনেক। ম্যাককালাম বলেছিলেন, তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সিরিজ। স্টোকসও অনেক আশা দেখিয়েছিলেন। প্রত্যাশার চাপই কি কাল হলো শেষ পর্যন্ত?
মইন: আমার তা মনে হয় না। আমার কাছে মূল ঘাটতি মনে হয়েছে প্রস্তুতিতে। এখন দেখুন, ওরা ভালো খেলছে। কতদিন পর? কার্যত ছয় দিনের ক্রিকেটের পর। আরেকটু ভালো উইকেটে আরেকটু অনুশীলন হয়তো প্রয়োজনীয় ছিল।
বলছি না যে অনেক বেশি গা গরমের ম্যাচ খেলতে হতো। কারণ, আমার নিজেরই এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে, কোথাও সফরে গিয়েছি প্রথম ম্যাচ শুরুর এক মাস আগে, গা গরমের ম্যাচ খেলেছি তিনটি, মূল সিরিজ শুরু হতে হতেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। ভারসাম্য তাই দরকার। আমার মনে হয়, এই দল সেখানেই ব্যর্থ হয়েছে।