‘আইপিএলে খেললে অনেক আগেই টেস্ট খেলতে পারত ইশ্বরন’
বেশ কয়েকবার ভারতের টেস্ট দলে ডাক পেলেও খেলার সুযোগ কখনও পাননি ১০১টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা এই ব্যাটসম্যান।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রায় এক যুগের ক্যারিয়ার। একশর বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা। ২৭টি সেঞ্চুরিতে রান সাড়ে সাত হাজারের বেশি। ভারতের টেস্ট দলেও ডাক মিলেছে কয়েক দফায়। তবু এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়নি আভিমান্যু ইশ্বরনের। ২৯ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানের বাবার ধারণা, আইপিএলে খেলতে পারলে অনেক আগেই টেস্ট অভিষেক হয়ে যেত তার ছেলের।
ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক দিন ধরেই ধারাবাহিক পারফরমার ইশ্বরন। ভারত ‘এ’ দলের হয়েও পারফর্ম করেছেন নিয়মিত। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক থেকে এখন পর্যন্ত ১০১ ম্যাচে ৪৮.৮৭ গড়ে তার রান সাত হাজার ৬৭৪। লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলেছেন ৮৯টি, টি-টোয়েন্টি ৩৪টি।
২০২১ সালে ইংল্যান্ড সফরে, ২০২২ সালে বাংলাদেশ সফরে, ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে, ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে টেস্ট দলে ডাক পেলেও ম্যাচ খেলার সুযোগ কখনও তিনি পাননি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আইপিএলেও কখনও খেলার সুযোগ মেলেনি বেঙ্গলের এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’র সঙ্গে আলাপে ইশ্বরনের বাবা রাঙ্গানাথান ইশ্বরন বললেন, আইপিএলের যে বিশালতা, সেখানে না খেলার কারণেই সেভাবে নজর কাড়তে পারেনি তার ছেলে।
“আইপিএলে নিজের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ পেলে অনেক আগেই ভারতের হয়ে অভিষেক হতে পারত আভিমান্যুর। এই টুর্নামেন্টের বিশালতার কারণেই এখানে খেলাটা অনেক বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। (দারুণ পারফরম্যান্স করেও) আভিমান্যু সেভাবে নজর কাড়তে পারে না, সেঞ্চুরি করার পরও সে চারপাশে দৌড়ায় না (খুব একটা উদযাপন করে না)। এই বিষয়গুলো তার বিপক্ষে যায়।”
“আভিমান্যু নির্ভরযোগ্য পারফরমার, যার প্রমাণ ১০১টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৪৮.৮৭ গড়ে সাত হাজার ৬৭৪ রান। (ভারত ‘এ’ দলের হয়ে) নিউ জিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কন্ডিশনে তার অভিজ্ঞতাও তাকে (জাতীয় দলে) খেলার দাবিদার হিসেবে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।”
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে টানা চার ম্যাচে সেঞ্চুরি, ছয় ম্যাচের মধ্যে পাঁচ সেঞ্চুরি (যার একটি ডাবল) করে ‘ব্যাকআপ’ ওপেনার হিসেবে গত বছর অস্ট্রেলিয়া সফরের টেস্ট দলে ডাক পেয়েছিলেন ইশ্বরন। প্রথম টেস্টে রোহিত শার্মার অনুপস্থিতিতে তার খেলার ভালো সম্ভাবনাও জেগেছিল। কিন্তু সেবার অস্ট্রেলিয়া সফরে ভারত ‘এ’ দলের হয়ে দুটি আনঅফিসিয়াল টেস্টে চার ইনিংসে মাত্র ৩৬ রান করার পর আর টেস্ট একাদশে সুযোগ মেলেনি তার। মিডল অর্ডার থেকে লোকেশ রাহুলকে তুলে আনা হয় ওপেনিংয়ে।
আসন্ন ইংল্যান্ড সফরের টেস্ট দলেও আছেন ইশ্বরন। এই মাসের শুরুতে পাঁচ দিনের ব্যবধানে টেস্ট ক্রিকেট থেকে রোহিত ও ভিরাট কোহলির অবসরের পর দলে জায়গাও তৈরি হয়েছে। টেস্ট সিরিজের আগে ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিপক্ষে দুটি আনঅফিসিয়াল টেস্টে ভারত ‘এ’ দলের হয়েও খেলবেন ইশ্বরন। ‘এ’ দলের অধিনায়ক তিনি। সেখানে ভালো করে টেস্ট একাদশে জায়গা পাওয়ার দাবি জানানোর সুযোগ তার সামনে।
রাঙ্গানাথান জানালেন, ইংলিশ কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে প্রস্তুতির কোনো কমতি রাখছেন না ইশ্বরন।
“আভিমান্যু ভোর সাড়ে ৫টায় ঘুম থেকে ওঠে এবং পেসারদের বিপক্ষে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় ব্যয় করে। প্রস্তুতিতে কোনো ফাঁক না রাখতে আমরা দুই ডজন ডিউক বলের ব্যবস্থা করেছি। লাল মাটির সবুজ উইকেটে সে ব্যাট করছে, কারণ বাউন্স তাকে ইংলিশ কন্ডিশনের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করছে। ম্যাচের চতুর্থ বা পঞ্চম দিনে স্পিনারদের মুখোমুখি হওয়ার জন্য বিশেষ অনুশীলনও করছে সে। সবরকম পরিস্থিতি সামলানোর জন্য সে ইংল্যান্ড দলের সব বোলার সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছে।”
