Published : 09 Nov 2025, 12:57 PM
জয়ের জন্য ৭ বলে প্রয়োজন তখন ১২ রান। জ্যাকব ডাফির লেংথ ডেলিভারিতে গায়ের জোরে ব্যাট চালালেন শামার স্প্রিঙ্গার। গুলির বেগে ছুটে আসা বল অসাধারণ রিফ্লেক্সে ফলো-থ্রুতে হাতে জমালেন ডাফি। ধারাভাষ্যকক্ষ থেকে তখন ইয়ান বিশপের চিৎকার ভেসে আসছে, “এর চেয়ে তীক্ষ্ণ ফিরতি ক্যাচ কোনো পর্যায়ের ক্রিকেটেই আর দেখতে পাবেন না…।”
সেই ক্যাচে বদলে গেল ম্যাচের চিত্র। শেষ ওভারে ১২ রানের সমীকরণে দারুণ বোলিং করলেন কাইল জেমিসন। বড় হারের দুয়ারে দাঁড়িয়ে নবম উইকেটে দুর্দান্ত প্রতিআক্রমণে জুটির রেকর্ড গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জয়ের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন রোমারিও শেফার্ড ও শামার স্প্রিঙ্গার। কিন্তু শেষের রোমাঞ্চে শেষ হাসি নিউ জিল্যান্ডের।
তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিবিয়ানদের ৯ রানে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল কিউইরা।
নেলসনে শনিবার নিউ জিল্যান্ডের ১৭৭ রান তাড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ আটকে যায় ১৬৮ রানে।
৮৮ রানে ৮ উইকেট হারানো দলের হয়ে ৩৯ বলে ৭৮ রানের জুটি গড়েন শেফার্ড ও স্প্রিঙ্গার, নবম উইকেটে যা আইসিসির পূর্ণ সদস্য কোনো দেশের রেকর্ড জুটি। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তাদের।
এই নিয়ে সিরিজের তিনটি ম্যাচেই ফয়সালা হলো শেষ ওভারে। প্রতিটিতেই রান তাড়া করা দল বড় হারের মুখ থেকে প্রবলভাগে ঘুরে দাঁড়িয়েও হেরে গেল শেষ পর্যন্ত।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা নিউ জিল্যান্ড ছুটতে শুরু করে প্রথম ওভারেই আকিল হোসেনের বলে টিম রবিনসনের চার ও ছক্কায়। পাওয়ার প্লেতে দলকে ৪৭ রান এনে দেন রবিনসন ও ডেভন কনওয়ে।
রবিনসন আউট হন ২১ বলে ২৩ রান করে, তিনে নেমে রাচিন রাভিন্দ্রা ফেরেন ১৫ বলে ২৬ করে।
কনওয়ের ব্যাট থেকে আসে ম্যাচের একমাত্র ফিফটি। ৩৪ বলে ৫৬ করে রান আউট হয়ে ফেরেন এই ওপেনার।
এরপর ড্যারিল মিচেল ছাড়া আর কেউ ভালো করতে পারেননি। ১৫ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের রান ছিল ৩ উইকেটে ১৪২। সেখান থেকে ১৯০-২০০ রানে ছিল তাদের দৃষ্টি। কিন্তু মিচেল ২৪ বলে ৪১ রান করলেও পরিস্থিতির দাবি মেটাতে পারেননি মিচেল স্যান্টনার, মাইকেল ব্রেসওয়েল, জিমি নিশামরা।

রান তাড়ায় প্রথম ওভারে তিন বাউন্ডারিতে শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু পরের ওভারেই আমির জাঙ্গু ও শেই হোপকে বিদায় করেন জ্যাকব ডাফি।
আলিক আতানেজ (২৩ বলে ৩১) ও আকিম ওগিস (১৬ বলে ২৪) পাল্টা আক্রমণ করলেও তা লম্বা হয়নি। ইশ সোধির তিন উইকেটের সঙ্গে ব্রেসওয়েল-স্যান্টনারদের সংযোগে ৮৮ রানে ৮ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এরপরই সেই জুটি। দশ নম্বরে নেমে প্রথম বলেই ছক্কায় শুরু করেন স্প্রিঙ্গার। আরেকপাশে শেফার্ডও জ্বলে ওঠেন। তিন ওভারে যখন প্রয়োজন ৪৩ রান, নিশামের এক ওভার থেকে আসে ১৯ রান।
১৯তম ওভারেও ডাফিকে টানা দুই বলে চার ও ছক্কা মারেন শেফার্ড। ওই ওভারের শেষ বলেই ডাফির সেই ক্যাচে স্প্রিঙ্গার ফেরেন ২০ বলে ৪৯ রান করে।
শেষ ওভারে প্রথম বলে রান নিতে পারেননি শেফার্ড। পরের বলে নেন সিঙ্গল। তৃতীয় বলে আকিল সিঙ্গল নিলেও চতুর্থ বলে আবার রান নিতে ব্যর্থ শেফার্ড।
শেষ দুই বলে প্রয়োজন তখন ১০ রানের। পঞ্চম বলে শেফার্ড আউট হয়ে যান ৩৪ বলে ৪৯ রান করে।
মাঝের সময়টায় তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা ইশ সোধি। ১৫৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমানকে (১৫৫) পেছনে ফেলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির তৃতীয় সফলতম বোলার আপাতত এই লেগ স্পিনার।
সিরিজের পরের ম্যাচ নেলসনে সোমবারই।
নিউ জিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৭৭/৯ (কনওয়ে ৫৬, রবিনসন ২৩, রাভিন্দ্রা ২৬, মিচেল ৪১, ব্রেসওয়েল ১১, নিশাম ২, স্যান্টনার ৪, হে ২, জেমিসন ৪, সোধি ১*, ডাফি ২*; আকিল ৪-০-৫০-০, ফোর্ড ৪-০-২০-২, শেফার্ড ৩-০-২৩-১, আথানেজ ১-০-১৬-০, হোল্ডার ৪-০-৩১-২, স্প্রিঙ্গার ৪-০-৩৬-১)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৯.৫ ওভারে ১৬৮ (জাঙ্গু ৫, আথানেজ ৩১, হোপ ১, ওগিস ২৪, রাদারফোর্ড ২, পাওয়েল ২, হোল্ডার ৩, শেফার্ড ৪৯, ফোর্ড ৪, স্প্রিঙ্গার ৩৯, আকিল ১*; জেমিসন ৩.৫-০-৩৫-১, ডাফি ৪-০-৩৬-৩, ব্রেসওয়েল ২-০-৭-১, সোধি ৪-০-৩৪-৩, স্যান্টনার ৪-০-২৯-১, নিশাম ২-০-২৫-০)।
ফল: নিউ জিল্যান্ড ৯ রানে জয়ী।
সিরিজ: পাঁচ ম্যাচ সিরিজে নিউ জিল্যান্ড ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে।
ম্যান অব দা ম্যাচ: ইশ সোধি।