তরুণ পেসারদের নিয়ে বাংলাদেশের ‘অপশন’ বাড়াতে চান ডোনাল্ড
জাতীয় দলের ব্যস্ততা কম থাকলে বাইরের তরুণ পেসারদের নিয়ে কাজ করতে চান জাতীয় দলের বোলিং কোচ।
নেটে বোলিংয়ে ব্যস্ত আশিকুর জামান, মুশফিক হাসান, রিপন মন্ডলরা। কিছুক্ষণ পরপর তাদের ডাক পড়ছে অ্যালান ডোনাল্ডের কাছে। কয়েকজনকে ব্যক্তিগতভাবে কিছু একটা দেখিয়ে দেন বাংলাদেশের বোলিং কোচ। পরে সবাইকে একসঙ্গে জড়ো করে দেখিয়ে দেন বল ছাড়ার সময় কব্জির অবস্থান ঠিক রাখার কৌশল। অনুশীলন সেশনটি জাতীয় দলের হলেও তরুণ পেসারদের নিয়ে এভাবেই বিশেষ কাজ করেন পেস বোলিং কোচ।
ভারতের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্ট শুরুর আগের দিনের ঘটনা সেটি। শুধু সেদিনই নয়, আগের দুদিনও জাতীয় দলের আশপাশে থাকা পেসারদের নিয়ে কাজ করেন ডোনাল্ড। তার নিজের চাওয়াতেই বিসিবি আয়োজন করে এ বিশেষ ক্যাম্পের। মূল উদ্দেশ্য, পেস বোলিংয়ে বিকল্প যতটা সম্ভব বাড়ানো।
কয়েকদিনের সেই সেশনে পেসার মুশফিক হাসানকে মনে ধরেছে ডোনাল্ডের। ডিউক বলে হওয়া জাতীয় ক্রিকেট লিগের সবশেষ আসরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় ২০ বছর বয়সী পেসারের। রংপুর বিভাগকে চ্যাম্পিয়ন করার পথে ৬ ম্যাচে দলের সর্বোচ্চ ২৫ উইকেট নেন তিনি। বাংলাদেশের স্রেফ তৃতীয় পেসার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ইনিংসে ৮ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখান ডানহাতি এই পেসার।
ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ ‘এ’ দলে সুযোগ পেয়ে যান তিনি। সিলেটে ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে সেই আনঅফিসিয়াল টেস্টে ভারতের রান উৎসবেও তিনি নেন ৩ উইকেট।
মুশফিক ছাড়াও ডোনাল্ডের সেই ক্লাসে ছিলেন আশিকুর জামান, রিপন মণ্ডল, আসাদুজ্জামান পায়েল, নাহিদ রানারা। নেটে বোলিংয়ের পাশাপাশি একটু পরপরই দক্ষিণ আফ্রিকান কোচের কাছ থেকে নানান পরামর্শ পেয়েছেন সবশেষ জাতীয় ক্রিকেট লিগে আলো ছড়ানো এসব পেসাররা।
মিরপুর টেস্টের আগের দিন বুধবার সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের ওই বিশেষ সেশন নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে ডোনাল্ড শোনালেন এটির প্রেক্ষাপট ও তার ভাবনা।
“চট্টগ্রামে আমরা হাই পারফরম্যান্স গ্রুপের ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করেছি। আমি নির্দিষ্ট করে ওদের চেয়েছিলাম। দেখতে চেয়েছি, বাংলাদেশে কেমন তরুণ পেসার আছে। আমি বিশেষ করে মুশফিকের (হাসান) বোলিংয়ে মুগ্ধ হয়েছি। সে বেশ শক্তপোক্ত, অ্যাথলেটিক শরীর। এছাড়া আশিকসহ (আশিকুর জামান) আরও কয়েকজন লম্বা ছেলেকে ভালো লেগেছে।”
“আমরা চেয়েছি এসব ছেলেরা আমাদের টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটের দর্শনের সঙ্গে আরও সম্পৃক্ত থাকুক, আমাদের আলোচনা দেখুক, ড্রেসিং রুমের পরিবেশটা বুঝুক। বোলিং কোচ হিসেবে আমি কী চিন্তা করি, তা দেখুক। ওদের সঙ্গে কাজ করা বেশ ভালো ছিল। এছাড়া স্পিনাররাও ছিল। দারুণ সময় কেটেছে।”
চট্টগ্রামের মতো ঢাকায়ও মুশফিক-আশিকুরদের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা ছিল ডোনাল্ডের। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের দশম আসরের খেলা শুরু হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। তবে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের জন্য পেস বোলারদের বড় একটা গ্রুপ তৈরি করার লক্ষ্যের কথা বললেন ডোনাল্ড।
“হ্যাঁ অবশ্যই (ওদের নিয়ে কাজ করতে চাই)। ওদের ঢাকায়ও আমাদের সঙ্গে থাকার কথা ছিল। তবে ওরা এখন (বিসিএলের) ম্যাচ খেলছে। তাই আমরা ওদেরকে খেলার আবহের বাইরে বের করে আনতে চাইনি। ওরা খেলতে চায়। এটি খুব ভালো।”
“আমি মনে করি, আমার পক্ষ থেকে শুরুর বার্তাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এখন পেস বোলিং কোচ হিসেবে আমার মূল লক্ষ্য হলো, বাংলাদেশের পেস বোলিং গ্রুপ যত বড় করা যায়। এমন একটা অবস্থায় যেতে চাই, আমরা যাতে পেসারদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে যখন ইচ্ছা খেলাতে পারি। মুশফিকের মতো তরুণদের দলে নিতে যেন সংশয় না থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে চাই।”
