২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

‘ঠিক হয়ে যাবে’ আলিসের বোলিং অ্যাকশন, জরুরি এখন মানসিক সমর্থন

সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনে অভিযুক্ত আলিস আল ইসলাম বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দেওয়ার আগে অ্যাকশন নিয়ে কাজ করছেন নেটে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 28 Oct 2026, 08:56 PM

Updated : 28 Oct 2026, 08:56 PM

মিরপুর টেস্ট শুরুর দুই দিন আগের ঘটনা। জাতীয় ক্রিকেট একাডেমি মাঠের সেন্টার উইকেটে নেট সেশনে ব্যস্ত ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়রা। তাদের থেকে কিছুটা দূরে অন্য পাশের নেটে তখন একাই বোলিং করে যাচ্ছেন আলিস আল ইসলাম। বলা ভালো, বোলিংয়ের চেষ্টা করে যাচ্ছেন রহস্য এই স্পিনার।

অথচ সপ্তাহখানেক আগেও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজে একসঙ্গেই ছিলেন শান্ত, হৃদয়, আলিসরা। সব ঠিক থাকলে টেস্টের প্রস্তুতিতেও আলিসের রহস্য স্পিন মোকাবিলা করতে পারতেন জাতীয় দলের ব্যাটসম্যানরা। কিন্তু সব বদলে দিয়েছে আইসিসির সিদ্ধান্ত। সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনে অভিযুক্ত হওয়ার পর এখন তাই একার লড়াইয়ে আলিস।

সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ারে এমন লড়াইয়ের মুখোমুখি আগেও হয়েছেন আলিস। দেশের অভ্যন্তরে দেওয়া পরীক্ষায় একাধিকবার উতরে বোলিংয়ে ফিরেছেন তিনি। তবে এবার পরীক্ষা দিতে হবে আইসিসি অনুমোদিত স্বতন্ত্র ল্যাবে। কঠিন এই সময়ে তাই আলিসের পাশে থাকা আহ্বান জানালেন দেশের অভিজ্ঞ কোচ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন।

গত সপ্তাহে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচ দিয়ে ওয়ানডে অভিষেক হয় আলিসের। ম্যাচে ৮.৫ ওভার বোলিং করে কোনো সাফল্য পাননি তিনি। ওই ম্যাচেই তার বোলিং অ্যাকশনের ওপর সন্দেহ প্রকাশ করেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা। তবে নির্দিষ্ট কোনো ডেলিভারির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

আইসিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বোলিং অ্যাকশন শুধরে স্বতন্ত্র পরীক্ষাগারে পরীক্ষা দিয়েই ছাড়পত্র নিতে হবে তার। দেশে ফিরে সেই অভিযানেই একাডেমি মাঠে ঘাম ঝরাচ্ছেন ৩০ ছুঁইছুঁই স্পিনার। জাতীয় দলের ব্যস্ততার মাঝেও সেখানে তাকে সময় দেওয়ার চেষ্টা করছেন সালাহ উদ্দীন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষের মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে ওঠে সেই প্রসঙ্গ। জাতীয় দলের ভারপ্রাপ্ত এই ব্যাটিং কোচ বললেন, এই সময়ে মানসিক সমর্থন সবচেয়ে বেশি জরুরি আলিসের জন্য।

“(আলিসকে নিয়ে) আমি খুব আশাবাদী। এই সময়টা যেকোনো মানুষের জন্য আসলে মানসিক সমর্থন দেওয়াটা সবচেয়ে বেশি জরুরি। এখানে টেকনিক্যাল বিষয়ের চেয়ে তার মানসিকভাবে তার পাশে থাকাটা খুব... আমার কাছে খুব খারাপ লাগছিল গত দুই দিন।

“আমি যেহেতু জাতীয় দলের সঙ্গে অনুশীলনে, তাকে সেভাবে সময় দিতে পারছি না। তবে এই সময়ে সব ক্রিকেটারই... কারণ একটা ছেলে ক্রিকেট খেলতে পারবে না, তার চেয়ে বড় কিছু কিন্তু আসলে নেই। তো তাকে মানসিকভাবে সাহায্য করাটা, তাকে সাপোর্ট করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”

সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনে অভিযুক্ত হওয়ার ঘটনা আলিসের জন্য অবশ্য নতুন নয়। ২০১৯ সালের বিপিএলে অভিষেকেই হ্যাটট্রিক হইচই ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। ওই টুর্নামেন্টেই প্রশ্নের মুখে পড়ে তার বোলিং অ্যাকশন।

সেবার পরীক্ষা দেওয়ার আগে চোটে পড়ে আট মাসের জন্য ছিটকে যান। পরে বোলিং অ্যাকশন শুধরে ফেরেন ঘরোয়া ক্রিকেটে। গত বছরের বিপিএলে আবারও অভিযোগ ওঠে আলিসের বোলিং অ্যাকশন। সেবারও পরীক্ষা দিয়ে দ্রুতই ফেরেন ক্রিকেটে।

এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রথম ওয়ানডে খেলতে নেমে তৃতীয়বার একই অভিযোগ আলিসের বিরুদ্ধে। আগের দুবারই আলিসের বোলিং অ্যাকশন শোধরানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখেন সালাহ উদ্দীন। তার আশা, এবারও দ্রুত সমস্যা কাটিয়ে উঠবেন আলিস। তবে অ্যাকশন শোধরালেও এই স্পিনারের সম্ভাব্য একটি চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরলেন তিনি।

“আমি আশা করি, তার যেভাবে উন্নতি দেখছি, আমি আশাবাদী যে, তাড়াতাড়ি এটা (বোলিং অ্যাকশন) ঠিক করবে। একটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে যে, তাকে হয়তো ঠিক করে দিলাম। একমাত্র মনে হয় (আব্দুর) রাজ্জাকই পেরেছে যে, অ্যাকশন ঠিক করার পরও বলের কার্যকরিতা ছিল।

“এখন তাকে ঠিক করে দিলাম, কিন্তু বলের কার্যকরিতা নেই, তাতে আসলে ক্যারিয়ারের কোনো লাভ হবে না। তো আমাদের আসলে দুইটা জিনিসে লক্ষ্য রাখতে হচ্ছে যে, তার কার্যকরিতাও যেন থাকে এবং সে যেন মানসিকভাবে অনেক শক্তিশালী হয়, সেটাও সাপোর্ট করতে হবে। আমি আশাবাদী সে ঠিক হয়ে যাবে।”

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, বোলিং অ্যাকশন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পর দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আইসিসি অনুমোদিত ল্যাবে পরীক্ষা দিতে হয়। আলিস পরীক্ষা দেবেন চেন্নাইয়ে।