আইপিএলের নিলামে চোখধাঁধানো অঙ্কে দল পেয়ে আলোড়ন তোলা ভেঙ্কাটেশ আইয়ার বললেন, ‘মিথ্যে বলব না, চাপ আছে’, তবে সেটি টাকার চাপ নয় বলেই দাবি কলকাতা নাইট রাইডার্সের সহ-অধিনায়কের।
Published : 04 Apr 2025, 12:03 PM
স্রেফ দুটি ইনিংসের ব্যর্থতা এমনিতে বড় কিছু নয়। তবে সেই ক্রিকেটার যদি হন নিলামে আলোড়ন তোলা একজন, যার পারিশ্রমিক চোখধাঁধানো অঙ্কের, তখন তার দিকে বাঁকা চোখে তাকানোর লোকের অভাবও নেই। ভেঙ্কাটেশ আইয়ারকে নিয়েও সেরকম ঢাক গুড়গুড় কিছুটা শুরু হয়েছিল। তবে তৃতীয় ইনিংসেই ম্যাচ জেতানো ব্যাটিং উপহার দিয়ে তিনি থামিয়ে দিলেন আলোচনা। কলকাতা নাইট রাইডার্সের ক্রিকেটার জবাব দিলেন পারিশ্রমিক আর প্রত্যাশার চাপ নিয়েও।
২০২১ থেকে এবার, গোটা আইপিএল ক্যারিয়ারই কলকাতা নাইট রাইডার্সে খেলেছেন ভেঙ্কাটেশ। ২০২১ আসরে রান করেছিলেন তিনি ৩৭০। ভালো করতে পারেননি পরের আসরে (১৮২ রান)। তবে সবশেষ দুই আসরে দলের সেরা পারফরমারদের একজন ছিলেন তিনি (৪০৪ ও ৩৭০ রান)। তারপরও এবার নিলামের আগে তাকে ছেড়ে দেয় কলকাতা।
এটি যেমন কিছুটা বিস্ময়ের জন্ম দেয়, তেমনি আরও বড় চমক আসে নিলামে। ভেঙ্কাটেশকে নিলাম থেকে ২৩ কোটি ৭৫ লাখ রুপিতে দলে নেয় কলকাতাই! পরে দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে।
বিশাল অঙ্কের পারিশ্রমিক নিয়ে এবারের মৌসুমে কলকাতার প্রথম তিন ম্যাচে দুইবার ব্যাট করে আউট হন তিনি ছয় ও তিন রান করে। অবশেষে ঘরের মাঠে বৃহস্পতিবার জ্বলে ওঠেন তিনি। ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ২৯ বলে ৬০ রানের ইনিংস খেলে সহায়তা করেন দলcj ২০০ রানে নিয়ে যেতে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে ৮০ রানে হারায় কলকাতা।
ম্যাচের পর পারিশ্রমিকের প্রসঙ্গ টেনেই জিজ্ঞেস করা হয়, চাপ সরে গেল কি না। কিন্তু পারিশ্রমিকের ব্যাপারটিকে পাত্তাই দিলেন না ৩০ বছর বয়সী ক্রিকেটার।
“আপনিই বলুন, চাপ সরে গেছে কি না…(হাসি)! বারবারই এটা বলছি যে, আইপিএল শুরু হওয়ার পর ‘প্রাইস ট্যাগ’ কোনো মূল্য রাখে না। আমাদের দলে আংক্রিশ রাঘুভানশির মতো একজন আছে যে খুব ভালো খেলছে। দলের জন্য কে কীভাবে খেলছে, এটা পারিশ্রমিক ঠিক করে দেয় না।”
“আমি জানি, এই প্রসঙ্গ বারবার উঠে আসে। অবশ্যই উচ্চ পারিশ্রমিকের সঙ্গে প্রত্যাশার ব্যাপারটিও আসে। তবে আমি এই দলের ক্রিকেটার এবং দলের জয়ে অবদান রাখতে চাই। কখনও কখনও এমন পরিস্থিতি আসবে, যখন আমার কাজ থাকবে স্রেফ কয়েক ওভারের। সেখানে যদি ভালো করতে পারি, তা বড় স্কোর নাও হতে পারে, কিন্তু দলের জন্য তা কাজে লাগবে। দলের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকের ক্রিকেটার হওয়া মানেই যে প্রতি ম্যাচে রান করতে হবে, এমন নয়। ব্যাপারটি হলো দলে প্রভাব রাখার।”
চাপ যে নেই, তা অবশ্য বলছেন না ভারতের হয়ে ১১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ক্রিকেটার। তবে সেই চাপ পারিশ্রমিকের নয় বলেই দাবি তার।
“আমি মিথ্যা বলব না, চাপ কিছু আছে। তবে সেই চাপ হলো দলের জন্য কীভাবে ম্যাচ জিততে বা জেতাতে পারি, কতটা প্রভাব দলে রাখতে পারি। পারিশ্রমিকের কারণে বা কত রান করতে পারব, এসব কারণে কোনো চাপ অনুভব করি না। এসব চাপ কখনও আমার ছিল না।”