Published : 18 Dec 2025, 10:23 AM
সর্বনাশ যা হওয়ার, তা তো হয়েই গেছে। সেটি আর পুষিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে একটি ‘সান্ত্বনা পুরস্কার’ পেয়েছে ইংল্যান্ড। অ্যালেক্স কেয়ারিকে আউট করে উইকেট না পেলেও হারানো সেই রিভিউটি পরদিন ফিরে পায় তারা।
অ্যাশেজের অ্যাডিলেই টেস্টের প্রথম দিনের ঘটনাটি নিয়ে এর মধ্যেই তোলপাড় হয়েছে বেশ। কেয়ারির ৭২ রানের সময় জশ টংয়ের বলে তার ব্যাটে হালকা স্পর্শ করে বল যায় ইংল্যান্ডের কিপারের গ্লাভসে। ইংলিশদের জোরাল আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। অধিনায়ক বেন স্টোকস নেন রিভিউ।
রিভিউয়ে রিয়েল-টাইম স্লিনোমিটারে বেশ পরিষ্কার স্পাইক ফুটে ওঠে। তবে বল কেয়ারির ব্যাটের নিচ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার তিন-চার ফ্রেম আগে সেই স্পাইক দেখা যায়। তাতে জেগে ওঠে সংশয়। বারবার রিপ্লে দেখার পর টিভি আম্পায়ার ক্রিস গ্যাফানি বহাল রাখেন মাঠের আম্পায়ারের ‘নট আউট’ সিদ্ধান্ত।
কেয়ারি পরে আরও ৩৪ রান যোগ করে আউট হন ১০৬ রানে। দিনের খেলা শেষে তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তার নিজের কাছেই মনে হয়েছিল, বল সামান্য স্পর্শ করেছে তার ব্যাটে। অস্ট্রেলিয়াতে রিয়েল-টাইম স্নিকোমিটার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিবিজি স্পোর্টস পরে জানায়, অডিও প্রক্রিয়ার সময় ভুল স্টাম্প মাইক নির্বাচন করেছিলেন স্নিকো অপারেটর এবং সেই ভুলের দায় তারা নিচ্ছেন পুরোপুরি।
ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো জানতে পেরেছে, প্রথম দিনের খেলা শেষে ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রোর সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ জানান ইংল্যান্ডের কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও ম্যানেজার ওয়েইন বেন্টলি। রিভিউ পদ্ধতি ‘রিভিউ’ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও উন্নত করতে আইসিসিকে অনুরোধ করে ইংল্যান্ডের বোর্ড।
আইসিসি প্লেয়িং কন্ডিশন অনুযায়ী, প্রযুক্তিগত কোনো ঘাটতি বা সমস্যার কারণে কোনো রিভিউ পুরোপুরি সমাপ্ত করতে না পারলে ম্যাচ রেফারির এখতিয়ার আছে সেই রিভিউটি পুনর্বহাল করার। সেই নিয়ম অনুযায়ীই দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরুর আগে ইংল্যান্ডকে রিভিউটি ফেরত দেওয়া হয়।
ইংল্যান্ডের যদিও তা প্রয়োজন পড়েনি। অস্ট্রেলিয়া প্রথম দিনে হারায় ৮ উইকেট। দ্বিতীয় দিনে বাকি দুই উইকেটে ৮.২ ওভারে ৪৫ রান যোগ করে অলআউট হয় তারা। শেষ দুটি উইকেট নিয়ে ৫ উইকেট পূর্ণ করেন জফ্রা আর্চার।
২০২১ সালে ইংল্যান্ডের ভারত সফরে চেন্নাই টেস্টে আজিঙ্কা রাহানেকে প্রযুক্তির কারণে ভুল করে নট আউট দেওয়ার পর এভাবেই একটি রিভিউ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
শব্দের মাধ্যমে ব্যাটের কানায় বল লাগা সনাক্তকরণের জন্য আইসিসি দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। রিয়েল-টাইম স্নিকো (আরটিএস) ব্যবহৃত হয় শুধু অস্ট্রেলিয়ায়, বাকি বিশ্বে ব্যবহৃত হয় ‘আল্ট্রাএজ’।
আরটিএস নিয়ে নানা সময়ে আগেও কিছু আপত্তি-অভিযোগের কথা শোনা গেছে। চ্যানেল সেভেনের ধারাভাষ্যে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক রিকি পন্টিং সেটিই তুলে ধরেন।
“আমরা এখানে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করছি, অন্যান্য দেশের প্রযুক্তির তুলনায় এটা যথেষ্ট ভালো নয়। আম্পায়ারদের সঙ্গে কথা বলে দেখুন, তারাও এটা বলবে। তারা স্রেফ এটাকে যথেষ্ট বিশ্বাস করতে পারেন না।”