ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপ
বাংলাদেশ ‘এ’ দলকে হারিয়ে ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপের সেমি-ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করল আফগানিস্তান ‘এ’ দল।
Published : 20 Oct 2024, 11:20 PM
শেষ ওভারে জয়ের জন্য আফগানিস্তান ‘এ’ দলের প্রয়োজন ৬ রান। আবু হায়দারের অফ স্টাম্পের বাইরের প্রথম বলেই এক্সট্রা কভারের ওপর দিয়ে ছক্কা মারলেন সেদিকউল্লাহ আটাল। বল সীমানাছাড়া হওয়ার আগেই উল্লাসে ফেটে পড়লেন বাঁহাতি ওপেনার। হতাশায় ডুবল বাংলাদেশ ‘এ’ দল।
ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপে রোববার বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারাল আফগান 'এ' দল। ওমানের আল আমেরাত ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ১৬৪ রানের লক্ষ্য পাঁচ বল বাকি থাকতেই ছুঁয়ে সবার আগে সেমি-ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করল তারা।
পরপর দুই ম্যাচে আফগানিস্তানের জয়ের নায়ক সেদিকউল্লাহ। আগের ম্যাচে ৮৩ রান করে শ্রীলঙ্কাকে হারাতে বড় অবদান রাখেন তিনি। এবার বাংলাদেশের বিপক্ষে খেললেন ৯৫ রানের হার না মানা ইনিংস। ৫৫ বলের ইনিংসটি তিনি সাজান ৯ চার ও ৫ ছক্কায়।
বাংলাদেশের পক্ষে ফিফটি করেন পারভেজ হোসেন। ৪টি করে চার-ছক্কায় তার ব্যাট থেকে আসে ৩২ বলে ৫৪ রান।
হংকংকে হারিয়ে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশের সেরা চারে খেলার সম্ভাবনাও আছে এখনও। 'বি' গ্রুপের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারাতে পারলেই আফগানিস্তানের সঙ্গী হবে আকবর আলির নেতৃত্বাধীন দল।
টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় আফগানিস্তান। পারভেজ ছাড়া কেউই শুরুতে ছন্দ পাননি। ইনিংসের প্রথম বৈধ বলেই ছক্কা মারেন পারভেজ। এক ওভার পর আবার প্রথম বল ছক্কায় ওড়ান তিনি।
বিলাল সামির ওই ওভারেই ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন আরেক ওপেনার জিসান আলম। এরপর সাইফ হাসানকে নিয়ে ৪১ বলে ৫৬ রানের জুটি গড়ে তোলেন পারভেজ। বড় অবদান বাঁহাতি এই ওপেনারের।
৪টি করে চার-ছক্কায় মাত্র ২৬ বলে ফিফটি করেন পারভেজ। দশম ওভারে আউট হন তিনি। পরের ওভারে সাইফ হাসানও ফিরে গেলে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ১৬ রান করতে ১৯ বল খেলেন সাইফ।
বিপদ বাড়িয়ে অল্পেই ড্রেসিং রুমে ফেরেন অধিনায়ক আকবর। পরে ছন্দ পেতে কিছুটা সময় লেগে যায় তাওহিদ হৃদয় ও শামীম হোসেনের। তবে শেষ দিকে দারুণ ব্যাটিংয়ে দলকে দেড়শ পার করান তারা।
অবিচ্ছিন্ন পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৪৫ বলে ৭০ রান যোগ করেন হৃদয় ও শামীম। ২টি করে চার-ছক্কায় ৩১ বলে ৪২ রান করেন হৃদয়। শামীমের ব্যাট থেকে আসে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ২৪ বলে ৩৮ রান।
রান তাড়ায় পাওয়ার প্লেতে দুই উইকেট হারায় আফগানিস্তান। দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে এসেই আঘাত করেন রেজাউর রহমান রাজার জায়গায় সুযোগ পাওয়া আলিস আল ইসলাম। পরের ওভারে আফগান অধিনায়ক দারভিশ রাসুলির বিদায়ঘণ্টা বাজান রিপন মন্ডল।
সপ্তম ওভারে কারিম জানাতকে ফিরিয়ে আফগানদের ওপর চাপ আরও বাড়ান আলিস। পরে প্রতিরোধ গড়েন সেদিকউল্লাহ ও শাহিদউল্লাহ কামাল। দুজনের চতুর্থ উইকেট জুটিতে আসে ৩৯ বলে ৪২ রান।
তখনও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের কাছেই ছিল। ২২ বলে ১৯ রান করা শাহিদউল্লাহ ফিরে গেলে হাত খোলেন সেদিকউল্লাহ। রকিবুল হাসানের ওভারে ছক্কা-চার মেরে দলের একশ ও নিজের পঞ্চাশ পূর্ণ করেন বাঁহাতি ওপেনার।
শেষ তিন ওভারে আফগানিস্তানের বাকি থাকে ৩৩ রান। আবু হায়দারের ওভারে দুটি ছক্কা মেরে সমীকরণ নিজেদের নাগালে আনেন সেদিকউল্লাহ। পরে শেষ ওভারে তার ব্যাট থেকেই আসে ম্যাচ জেতান ছক্কা।
আগের ম্যাচে ১৭ রানে ৪ উইকেট নেওয়া রিপন এদিন ২৬ রানে ধরেন ২ শিকার। পরপর দুই ম্যাচেই খরুচে বোলিং করেন আবু হায়দার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ‘এ’ দল: ২০ ওভারে ১৬৪/৪ (পারভেজ ৫৪, জিসান ৪, সাইফ ১৬, হৃদয় ৪২*, আকবর ৪, শামীম ৩৮*; বিলাল ৪-০-৪৩-১, ঘাজানফার ৪-০-৩৮-০, ফারিদুন ২-০-১৫-০, কাইস ৪-০-২৬-১, জানাত ৪-০-৩২-১, শারাফউদ্দিন ২-০-৯-১)
আফগানিস্তান ‘এ’ দল: ১৯.১ ওভারে ১৬৫/৬ (আকবারি ১৬, সেদিকউল্লাহ ৯৫*, রাসুলি ৫, জানাত ৯, শাহিদউল্লাহ ১৯, ইশহাক ১০, শারাফউদ্দিন ১, কাইস ২*; রিপন ৪-০-২৬-২, আলিস ৪-০-২৯-২, রাকিবুল ৩-০-৩১-০, আবু হায়দার ৩.১-০-৩৭-১, সাইফ ৩-০-২০-০, শামীম ২-০-১৯-১)
ফল: আফগানিস্তান ‘এ’ ৪ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: সেদিকউল্লাহ আটাল