Published : 18 May 2025, 08:57 AM
সঙ্গীদের আসা-যাওয়ার মিছিলের মাঝেও অবিচল তখন পারভেজ হোসেন। ১৫ থেকে ১৭, এই তিন ওভারে একের পর এক চার-ছক্কায় দলের স্কোরে যোগ হলো ৪৬ রান। কিন্তু পরের তিন ওভারে এর অর্ধেক রানও পেল না বাংলাদেশ। মঞ্চ সাজিয়েও দুইশ ছোঁয়া ছাড়ানো সম্ভব হলো না। ম্যাচ জিতলেও শেষের ব্যাটিং নিয়ে দুর্ভাবনার কথা বললেন লিটন কুমার দাস।
শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার রাতের ম্যাচে পারভেজ ছাড়া বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যান উইকেটে টিকতে পারেননি। একপ্রান্তে ৯ ছক্কার রেকর্ড গড়া ইনিংসে ৫৪ বলে ১০০ রান করেন বাঁহাতি ওপেনার। অন্য পাশে আর কেউ ২০ রানও ছাড়াতে পারেননি।
বলতে গেলে, পারভেজের একার চেষ্টায় ১৯১ রান পর্যন্ত যেতে পারে বাংলাদেশ। অথচ ১০ ওভারে একশ পেরিয়ে বেশ ভালোভাবেই দুইশ ছাড়ানোর পথে ছিল তারা। এমনকি ১৭ ওভারেও রান ছিল ৫ উইকেটে ১৬৯ রান।
তখনও পারভেজের সঙ্গে ক্রিজে ছিলেন শামীম হোসেন। সাম্প্রতিক সময়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শেষ দিকে ক্যামিও খেলার সামর্থ্য দেখিয়েছেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। এবারও একই দাবি ছিল তার ব্যাটে। কিন্তু সেই চাহিদা মেটাতে পারেননি শামীম।
ইনিংসের শুরু থেকে খেলতে থাকা পারভেজও পারেননি আর বাউন্ডারি মারতে। ফলে শেষের তিন ওভারে মাত্র ২২ রান করতে পারে বাংলাদেশ। এর মধ্যে অতিরিক্ত থেকেই আসে সাত রান। ব্যাটসম্যানরা মারতে পারেন মাত্র দুটি চার।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে পারভেজের ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করলেও শেষ দিকে রান করতে না পারার আক্ষেপের কথা বলেন টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের নতুন অধিনায়ক লিটন।
“অবশ্যই (ভালো স্কোর ছিল)। উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো ছিল। (পারভেজ হোসেন) ইমন যেভাবে ব্যাটিং করেছে, খুবই দারুণ ছিল। তবে আমাদের আরও ভালোভাবে শেষ করতে হবে। কারণ শেষ তিন ওভারে আমরা তেমন বেশি রান করতে পারিনি।”
দুইশ ছুঁইছুঁই পুঁজি নিয়েও একপর্যায়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। মোহাম্মদ ওয়াসিম ও রাহুল চোপড়ার দারুণ জুটির পর ক্রিজে গিয়ে আসিফ খান ঝড় তুললে আধিপত্য দেখাতে শুরু করে স্বাগতিকরা।
১৩ ওভারে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ১৩১ রান। জয়ের জন্য ৪২ বলে প্রয়োজন ছিল আর ৬১ রান। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ ৭ ওভারে আর মাত্র ৩৩ রান দিয়ে বাকি ৭ উইকেট নিয়ে নেয় বাংলাদেশ।
লিটন জানালেন, বোলারদের ওপর সবসময়ই বিশ্বাস ছিল তার।
“অবশ্যই (বোলারদের কৃতিত্ব)। আমি জানি, যে কোনো সময় আমার বোলাররা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। আমাদের বোলারদের শক্তি আমি জানি।”
চমৎকার ব্যাটিংয়ে জয়ের সম্ভাবনা জাগানো আমিরাতের ব্যাটসম্যানদেরও প্রাপ্য কৃতিত্ব দিতে ভুল করেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক।
“সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যাটসম্যানরা খুব ভালো খেলেছে। তাদেরকে কৃতিত্ব দিতেই হবে, যেভাবে মাঝের ওভারে তারা ব্যাটিং করেছে। আমাদেরকে নিজেদের বোলিংয়েও মনোযোগ দিতে হবে। এই মাঠ ও উইকেটে কোন ধরনের বোলিং কাজে লাগবে, সেটি শিখতে হবে।”
সিরিজটি খেলতে দেশ ছাড়ার আগে লিটন বলেছিলেন, ক্রিকেটারদের কাছ থেকে পরিস্থিতির দাবি মেটানো পারফরম্যান্স দেখতে চান তিনি। ব্যাটসম্যানরা সেটি না পারলেও, বল হাতে মুস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসানরা পূরণ করেন অধিনায়কের চাওয়া।
বোলারদের প্রশংসা ছিল অধিনায়কের কণ্ঠে।
“অবশ্যই আত্মবিশ্বাস (পরের ম্যাচের জন্য নেব)। যেভাবে সবাই বোলিং করেছে, স্থিশোন্ত থেকেছে। মাঝের ওভারগুলোতে মনে হচ্ছিল ফিফটি-ফিফটি। তবে যেভাবে সব বোলার বোলিং করেছে, দুর্দান্ত ছিল।”
ম্যাচজুড়ে শারজাহর গ্যালারিতে ছিল প্রবাসী দর্শকদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উপস্থিতি। পুরো ম্যাচেই বাংলাদেশের জন্য গলা ফাটান তারা। ইনিংস বিরতিতে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান সেঞ্চুরি করা পারভেজ।
ম্যাচ শেষের লিটনের কণ্ঠেও একই সুর।
“যখনই আমরা খেলি, আমাদের সমর্থকরা মাঠে এসে সমর্থন জানায়। খুবই অসাধারণ ব্যাপার।”
একই মাঠে সোমবার সিরিজের শেষ ম্যাচ।