Published : 06 Feb 2026, 08:58 AM
“আসলে এতকিছু… দুই মাসের জিনিস তো একদিনে বলা সম্ভব নয়! আস্তেধীরে সব জানবেন ইনশাল্লাহ”, এটুকু বলেই হাসলেন রিশাদ হোসেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল বিগ ব্যাশ আর অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে। তিনি হয়তো সেসব এড়িয়ে যেতে চাইছিলেন। কিন্তু চাইলেই তো হবে না, সবার আগ্রহের কেন্দ্রে তো এই প্রসঙ্গই। একের পর এক প্রশ্ন ছুটে গেল বিগ ব্যাশ নিয়েও। এই লেগ স্পিনারও শোনালেন তার অভিজ্ঞতা।
সংবাদ সম্মেলনটি ছিল অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপের উদ্বোধনী ম্যাচ শেষে। দারুণ বোলিংয়ে ম্যাচে তিনটি উইকেট নিয়েছেন রিশাদ। কিন্তু এই ম্যাচে তার পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন হলো মোটে একটি! প্রায় সব প্রশ্নই বিগ ব্যাশ সংক্রান্ত।
সেটি অস্বাভাবিকও নয় আসলে। বিগ ব্যাশ থেকে ফেরার পর তার প্রথম সংবাদ সম্মেলন এটিই। অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি এই টি-টোয়েন্টির আসরে এবার দারুণ বোলিংয়ে ১৫ উইকেট নিয়েছেন রিশাদ। দারুণ সাড়া ফেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট মহলে। অস্ট্রেলিয়া নিয়ে তার সব কথা শোনার কৌতূহল তো থাকবেই!
বিগ ব্যাশের গত আসরেও রিশাদকে নিয়েছিল হোবার্ট হারিকেন্স। কিন্তু বিপিএলের ব্যস্ততায় তিনি সেবার যেতে পারেননি। এবার বিপিএল বাদ দিয়েই পুরো মৌসুম সেই দলেই খেলেছেন। গত বছর তিনি খেলেছেন পাকিস্তান সুপার লিগেও।
অভিজ্ঞতা থেকেই তার উপলব্ধি, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট ও ক্রিকেটীয় আবহের অবস্থান ভিন্ন উচ্চতায়।
“আপনারা তো জানেন যে কন্ডিশন পুরো আলাদা বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ান। সেদিক থেকে বললে, পরিবেশ থেকে শুরু করে সবকিছু, খেলার যে পরিবেশ, ওইটা ভিন্ন লেভেলের আর কী। আমার মনে হয়, এর চেয়ে বড় লেভেল আর নেই আর কী।”
বিগ ব্যাশের এই অভিযানে তার বোলিংয়ে মুগ্ধতার কথা বলেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটার ও বিশ্লেষকদের অনেকেই। অনেকে তার সঙ্গে কথাও বলেছেন। ব্রেট লি, রিকি পন্টিং, স্টিভেন স্মিথদের সঙ্গে তার ছবিও দেখা গেছে সামাজিক মাধ্যমে।
রিশাদ জানালেন, ওই তারকারা নিজে থেকেই ডেকে নিয়ে কথা বলেছেন তার সঙ্গে। তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছেনও তিনি।
“আসলে ছবি তুলতে চাইনি। আমি বোলিং করতেছিলাম, উনারা ডাকছিলেন। আমি কথা বলতেছিলাম যে এই এরকম। ওরা অনেক অনেক ফ্রেন্ডলি এবং অনেক অনেক কিছু ওদের কাছ থেকে শেখার আছে। চেষ্টা করেছি যতটুকু কথা বলার এবং শেখা যায়।”
“আমার কাছে মনে হয় যে ওরা অনেক বিনয়ী। যত বড় ক্রিকেটার হোক না কেন, ওরা অনেক সাদা, সরল। মানে যে কারও সঙ্গে সহজে মানিয়ে নেয় আর কী। আমার কাছে এটা ভালো লাগছে যে, বড়-ছোট কোনো কিছু দেখে না। আমি চেষ্টা করব এরকম থাকতে।”

বোলিং পারফরম্যান্সে রিশাদ শুধু নিজেকেই দারুণভাবে তুলে ধরেননি, দেশের ক্রিকেটের ঝান্ডাও বয়ে নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায়। সেখানকার ক্রিকেট মহলে আগ্রহের জায়গাও তৈরি হয়েছে বাংলাদেশকে নিয়ে।
“ওরা জিজ্ঞেস করছিল যে, ‘বাংলাদেশের তো অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার আছে, ওরা বাইরে খেলে না কেন?’ আমি বলেছি যে, ‘অবশ্যই খেলবে এখন। সুযোগ এলেই খেলবে।’ ওরা অনেক আগ্রহী, যদি ওই সুযোগটা দিতে পারে আর কী।”
বিগ ব্যাশ মাতিয়ে এসে দেশে ফিরে অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্ট কাপের প্রথম ম্যাচেই দারুণ বোলিংয়ে তিন উইকেট নিয়েছেন রিশাদ। সাফল্যই তার এখন নিয়মিত চিত্র। বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলের তিনি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
অথচ একসময় দিনের পর দিন, মাসের পর মাস ম্যাচ খেলার জন্য হাপিত্যেশ করতে হয়েছে তাকে। ঘরোয়া ক্রিকেটের কোনো পর্যায়ে এবং কোনো সংস্করণেই সেভাবে মাঠে নামার সুযোগ পাননি লম্বা সময় ধরে। পেছন ফিরে তাকিয়ে ২৩ বছর বয়সী লেগ স্পিনার বললেন, ওই সময়টাই তাকে সমৃদ্ধ করেছে।
“আসলে যখন খেলতে পারতাম না, তখন সময় আমার জন্য একটা শিক্ষণীয় ছিল। ওই সময়টা আমি অনেক কিছুর অভিজ্ঞতা নিতে পেরেছি। আমার মনে হয় যে, ওটা আমার জন্য সবচেয়ে সেরা সময় ছিল যে অভিজ্ঞতাগুলো নিতে পেরেছি এবং নিজেকে গড়ে তুলতে পেরেছি।”