Published : 25 Mar 2026, 10:58 AM
২০০৮ সালে আইপিএলে সূচনার সময় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামি ফ্র্যাঞ্চাইজি ছিল বেঙ্গালুরু। ১১ কোটি ১৬ লাখ মার্কিন ডলারে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি কিনেছিল ভিজায় মালিয়ার প্রতিষ্ঠান। সময়ের পরিক্রমায় সেই ফ্র্যাঞ্চাইজির মূল্য এখন এমন উচ্চতায় পৌঁছে গেছে যে, চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। আইপিএলের গত আসরের চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু বিক্রি হয়েছে ১৭৮ কোটি মার্কিন ডলারে, ভারতীয় মুদ্রায় যা ১৬ হাজার ৬৬০ কোটি রুপির আশেপাশে।
ভারতীয় ও বিদেশি মিলিয়ে চারটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কনসোর্টিয়াম কিনে নিয়েছে এই ফ্র্যাঞ্চাইজিকে। ‘অল-ক্যাশ’ চুক্তিটি সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দিয়েয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজির এখনকার স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড স্পিরিটস লিমিটেড (ইউএসএল)। এই প্রতিষ্ঠানের সহযোগী সংস্থা রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স স্পোর্টস প্রাইভেট লিমিটেড এতদিন পরিচালনা করেছে এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
ইউএসএল গ্রুপ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বেঙ্গালুরুর মালিকানা এখন ভারতের খ্যাতনামা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আদিত্য বিরলা গ্রুপ, দা টাইমস অব ইন্ডিয়া গ্রুপ, বোল্ট ভেঞ্চার্স ও বিএক্সপিই (ব্ল্যাকস্টোন’স পারপেচুয়াল প্রাইভেট ইকুইটি স্ট্র্যাটেজি), এই চার প্রতিষ্ঠানে কনসোর্টিয়ামের এবং তারাই এটি পরিচালনা করবেন।
বেঙ্গালুরুর পুরুষ ও নারী, দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজিই থাকছে এই মালিকানার অংশ। উইমেন’স প্রিমিয়ার লিগেও সবশেষ আসরে গত মাসে শিরোপা জিতেছে বেঙ্গালুরু।
শুরুর সময়ের চেয়ে এখন প্রায় ১৫০০ শতাংশ বেড়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির দাম।
এই অঙ্ক কতটা অবিশ্বাস্যকমের, সেটির ধারণা পাওয়া যাবে আরেকটি তথ্যে। আইপিএলের নবীনতম দুই ফ্র্যাঞ্চাইজি গুজরাট লায়ন্স ও লাক্ষ্নৌ সুপার জায়ান্টস ২০২১ সালে বিক্রি হয়েছিল মোট ১২ হাজার ৭১৫ কোটি রুপিতে। ওই দুই ফ্র্যাঞ্চাইজির সম্মিলিত মূল্যের চেয়েও প্রায় ৪ হাজার কোটি রুপি বেশি লাগল বেঙ্গালুরু ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনতে।

ভিরাট কোহলির দল অবশ্য বরাবরই দর্শক সমর্থন, বিজ্ঞাপনের বাজার ও সব পারিপার্শ্বিকতা মিলিয়ে আইপিএলের সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ডগুলোর একটি ছিল। কেবল মাঠের ক্রিকেটেই শিরোপা ধরা দিচ্ছিল না। অবশেষে গত মৌসুমে কোহলির অসাধারণ পারফরম্যান্সেই প্রথমবার ট্রফি জয়ের স্বাদ পায় তারা। নিশ্চিতভাবেই তাতে আরও বেড়ে গেছে ফ্র্যাঞ্চাইজির ব্র্যান্ড মূল্য।
নতুন মালিকানায় দলটির চেয়ারম্যান হবেন আরিয়ামান বিরলা। আদিত্য বিরলা গ্রুপের চেয়ারম্যান কুমার মাঙ্গালাম বিরলা ছেলে তিনি এবং এই গ্রুপের একজন পরিচালকও। তার আরেকটি পরিচয়, তিনি সাবেক ক্রিকেটারও। বাবার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য থাকলেও তিনি চেষ্টা করেছেন ক্রিকেটে ক্যারিয়ার গড়তে। মুম্বাই ছেড়ে এক পর্যায়ে থিতু হন মধ্য প্রদেশে। সেখানে চার বছর ঘাম ঝরানোর পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পা রাখেন। ম্যাচ বাঁচানো একটি সেঞ্চুরি করেন বাংলার বিপক্ষে। আইপিএলে রাজস্থান দলেও ছিলেন। তবে একের পর এক চোট তার বাধা হয়ে দাঁড়ায় বারবার। এক পর্যায়ে মানসিক অবদাস পেয়ে বসে থাকে। অবসাদে কাবু হয়ে ক্রিকেট থেকে বিরতি নেন। সেই বিরতি রূপ নেয় সমাপ্তিতে। ৯টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ ও ৮টি লিস্ট 'এ' ম্যাচেই শেষ হয় তার ক্যারিয়ার। স্বীকৃত ক্রিকেটে শেষ ম্যাচটি খেলেন ২২ বছর বয়সেই। এখন ২৮ বছর বয়সে নতুন পরিচয়ে ফিরছেন তিনি ক্রিকেটে। নতুন মালিকানায় বেঙ্গালুর ভাইস চেয়ারম্যান হচ্ছেন টাইমস অব ইন্ডিয়া গ্রুপের সাত্যায়ন গাজওয়ানি।
আইপিএল শুরুর সময়ের মূল ৮ ফ্র্যাঞ্চাইজির একটি বেঙ্গালুরু। ভিজায় মালিয়ার ইউনাটেড ব্রুয়ারিজ গ্রুপ কিনেছিল দলটি। পরে নানা কেলেঙ্কারিতে মালিয়া ভারত ছেড়ে চলে যাওয়ার পর ২০১৬ সাল থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মালিকানা ছিল যুক্তরাজ্যভিত্তিক গ্লোবাল অ্যালকোহল ও বেভারেজ জায়ান্ট 'ডিয়াজিও'। তাদের প্রতিষ্ঠান ইউএসএল-ইন্ডিয়া পরিচালনা করে আসছিল দলটি।
তবে গত আইপিএলে শিরোপা জয়ের পর বেঙ্গালুরুতে বিজয় উৎসবে বিশৃঙ্খলা ও বহু হতাহতের ঘটনার পর তাদের ওপর প্রবল চাপে পড়ে যায় প্রতিষ্ঠানটি। পরে গত নভেম্বরে ভারতের বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়াকে দেওয়া নথিতে ডিয়াজিও জানায় যে, তারা এই ফ্র্যাঞ্চাইজিতে বিনিয়োগের একটি "কৌশলগত পর্যালোচনা" করছে। ডিয়াজিও তখন উল্লেখ করে যে, ক্রিকেট তাদের কোম্পানির মূল ব্যবসার ক্ষেত্র নয় এবং তারা এই বছরের ৩১শে মার্চের মধ্যে বিক্রয় চুক্তিটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য ঠিক করছে।
সেই লক্ষ্য তারা পূরণ করতে পারল ঠিক সময়েই। চুক্তি হওয়ার পর পরবর্তী ধাপ হবে ভারতীয় বোর্ড ও এবং কম্পিটিশন কমিশন অফ ইন্ডিয়ার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন। এরপর ফ্র্যাঞ্চাইজির দায়িত্ব বুঝে পাবে নতুন মালিকানা পাওয়া কনসোর্টিয়াম।