Published : 24 Aug 2025, 02:46 PM
দুই বছরের বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের বাইরে। ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে অবশ্য খেলছিলেন নিয়মিত। এবার দুটিরই ইতি টেনে দিলেন চেতেশ্বর পুজারা। দেশের ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন ৩৭ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।
একসময় টেস্টে ভারতের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানদের একজন পুজারা রোববার সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছেন অবসরের।
“ভারতীয় জার্সি পরা, জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া ও প্রতিবার মাঠে নামার সময় আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করা- এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। কিন্তু যেমন বলা হয়, সব ভালো কিছুরই একদিন শেষ হয়। তাই অপরিসীম কৃতজ্ঞতা নিয়ে আমি ভারতীয় ক্রিকেটের সব সংস্করণ থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ।”
ভারতের হয়ে পুজারা সবশেষ টেস্ট খেলেছিলেন ২০২৩ সালের জুনে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে। ২০৯ রানে হেরে যাওয়া ওই ম্যাচে ১৪ ও ২৭ রান করে তিনি পরে জায়গা হারান দলে। এরপর আর সুযোগ মেলেনি।
গত কয়েক মাসে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানানো ভারতের শীর্ষ ক্রিকেটারদের তালিকায় যোগ দিলেন পুজারা। গত বছরের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া সফরের মাঝপথে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন অভিজ্ঞ স্পিনার রাভিচান্দ্রান অশ্বিন। ইংল্যান্ড সফরের আগে আইপিএলের মাঝে এক সপ্তাহের মধ্যে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় বলে দেন দুই তারকা ব্যাটসম্যান রোহিত শার্মা ও ভিরাট কোহলি।
দেশের হয়ে ১০৩ টেস্ট খেলে ৪৩.৬০ গড়ে পুজারার রান ৭ হাজার ১৯৫। ১৯টি সেঞ্চুরির পাশে ফিফটি আছে ৩৫টি। ঘরের মাঠে ৫২.৫৮ গড়ে তার টেস্ট রান ৩ হাজার ৮৩৯। এক দশকের বেশি সময় ধরে তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে তিনি ছিলেন ভারতের বড় ভরসা। দেশে ও বিদেশে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ কিছু টেস্ট জয়ে তার ছিল বড় অবদান।

আফগানিস্তান ছাড়া নিজের খেলা প্রতিটি টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষেই সেঞ্চুরি করেছেন পুজারা। আফগানদের বিপক্ষে একমাত্র ইনিংসে করেছেন ৩৫। অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি সেঞ্চুরি করেছেন পাঁচটি করে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চারটি।
প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির স্বাদ পান তিনি ২০১২ সালের অগাস্টে, হায়দরাবাদে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে। দুই মাস পর প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আহমেদাবাদে। পরের টেস্টে সেঞ্চুরি করেন ওয়াংখেড়েতে। ম্যাচটি বেশি পরিচিত হয়ে আছে কেভিন পিটারসেনের ১৮৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের জন্য। ২০১৩ সালে জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ড্র টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে প্রায় ছয় ঘন্টা ব্যাট করে ১৫৩ রান করেন পুজারা।
বিদেশের মাটিতে তার আরেকটি উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স ২০১৫ সালে কলম্বোতে। দলের ইনিংস শুরু করে ২৮৯ বলে ১৪৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ২০১৮ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সাউথ্যাম্পটনে পেস সহায়ক উইকেটে খেলেন অপরাজিত ১৩২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস, যেখানে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল কেবল ৪৬।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভারতের পরপর দুটি টেস্ট সিরিজ জয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন পুজারা। ২০১৮-১৯ সিরিজে তিনটি সেঞ্চুরি করেন তিনি অ্যাডিলেইড, মেলবোর্ন ও সিডনিতে। সেবারই প্রথম অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বাদ পায় ভারত। দুই বছর পরের সফরে প্যাট কামিন্স, জশ হেইজেলউড ও মিচেল স্টার্কের মতো পেসারদের সামলে চার টেস্ট মিলিয়ে তিনি বল খেলেন ৯২৮টি। সেবার ব্রিজবেনে রান তাড়ায় শরীরে বারবার বলের আঘাত সয়ে ২১১ বলে ৫৬ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে দলের জয়ে অবদান রাখেন পুজারা। ৩২ বছর পর ব্রিজবেনে টেস্ট হারের তেতো স্বাদ পায় অস্ট্রেলিয়া।
বিশ্বজুড়ে যখন একের পর এক টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের আবির্ভাবে সাদা বলের ক্রিকেট বেশি গুরুত্ব পেতে শুরু করে এবং আইপিএলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেতে থাকে, তখনও লাল বলের ক্রিকেটকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন পুজারা।
ভারতের হয়ে ২০১৩ সালের অগাস্ট থেকে ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত পাঁচটি ওয়ানডে খেলে তার রান ৫১। আইপিএলে তিনি খেলেছেন তিনটি দলের হয়ে- কলকাতা নাইট রাইডার্স (২০১০), রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (২০১১ থেকে ২০১৩) ও কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব (বর্তমানে পাঞ্জাব কিংস, ২০১৪)। ২০২১ সালে চেন্নাই সুপার কিংস দলের অংশ ছিলেন তিনি, কিন্তু কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি।
ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি সবশেষ লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলেন ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে, সবশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ২০২২ সালের নভেম্বরে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলে গেছেন নিয়মিতই।
২০০৫ সালের ডিসেম্বরে সৌরাষ্ট্রের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় পুজারার। দলটির হয়ে ২০২৪-২৫ রাঞ্জি ট্রফিতেও খেলেন তিনি। গত ফেব্রুয়ারিতে আসামের বিপক্ষে আউট হন ৯৯ রানে। পরের ম্যাচে গুজরাটের বিপক্ষে করেন ২৬ ও ২। সেটিই হয়ে রইল ভারতীয় ক্রিকেটে তার শেষ ম্যাচ।
ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটে পুজারা সবশেষ খেলেছেন সাসেক্সের হয়ে। সব মিলিয়ে ২৭৮টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৫১.৮২ গড়ে তার রান ২১ হাজার ৩০১। সেঞ্চুরি ৬৬টি, যার তিনটি ট্রিপল।