Published : 21 Dec 2025, 02:05 PM
এই অ্যাশেজে তাকিয়ে মাস তিনেক আগে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম বলেছিলেন, “আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সিরিজ..।” ইংল্যান্ড কোচের কথার প্রতিধ্বনি ছিল অধিনায়ক বেন স্টোকসের কণ্ঠেও। স্বপ্ন, লক্ষ্য, পরিকল্পনা, প্রত্যাশা, গত কয়েক মাসে ও অস্ট্রেলিয়া পা রাখার পরও অনেক কিছুই বলেছিলেন তিনি। কিন্তু সিরিজের মাত্র তিন টেস্ট আর স্রেফ ১১ দিনের খেলা শেষে সেই স্টোকস মুখে রাজ্যের অন্ধকার নিয়ে থমথমে কণ্ঠে শোনালেন স্বপ্নভঙ্গের বেদনার কথা।
২০১০-১১ অ্যাশজে সবশেষ অস্ট্রেলিয়া থেকে সিরিজ জিতে ফিরেছিল ইংল্যান্ড। সেটির পুনরাবৃত্তির সেরা সুযোগ হিসেবে এবারের সিরিজকে দেখা হচ্ছিল ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে। অস্ট্রেলিয়া দলকে ‘বুড়ো’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল ইংলিশ মিডিয়ায়। ইংলিশ গ্রেট স্টুয়ার্ট ব্রড বলেছিলেন, “গত ১৫ বছরের সবচেয়ে বাজে অস্ট্রেলিয়া দল এটি।”
অথচ সেই অস্ট্রেলিয়া দল, প্রথম দুই টেস্টে নিয়মিত অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে ছাড়া, তৃতীয় টেস্টে স্টিভেন স্মিথকে ছাড়া, অভিজ্ঞ বোলার জশ হেইজেলউডকে কোনো টেস্টে না পেয়েও সিরিজ জিতে গেল প্রথম তিন টেস্টেই।
ম্যাচ শেষে স্টোকসের তুলে ধরলেন তাদের হতাশার কথা। পাশাপাশি শোনালেন, পরের দুই টেস্টে হাল না ছাড়ার কথাও।
“যে স্বপ্ন নিয়ে আমরা এখানে এসেছিলাম, তা এখন শেষ। অবশ্যই এটা চরম হতাশার। সবার হৃদয় পুড়ছে এবং সবাই কষ্ট পাচ্ছে। আরও দুটি ম্যাচ বাকি আছে এবং মনোযোগ এখন সেদিকে। একটি লক্ষ্য মাথায় রেখেই আমরা এখানে এসেছিলাম এবং সেটি অর্জন করতে পারিনি। খারাপ লাগছে, জঘন্য। তবে আমরা এখানেই থামছি না।”
দুই দলের পার্থক্য দেখছেন তিনি পরিকল্পনার ঠিকঠাক প্রয়োগের জায়গায়।
“পরিকল্পনার টানা বাস্তবায়নেই পার্থক্য। ব্যাটে-বলে-ফিল্ডিংয়ে আমাদের চেয়ে অনেক ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছে অস্ট্রেলিয়া। ক্রিকেট খেলাটি নির্ভর করে এসবের ওপরই এবং অস্ট্রেলিয়া এখানে আমাদেরকে পর্যদুস্ত করেছে অনেক উঁচু পর্যায়ে। আগের ম্যাচগুলোয় ও এই সপ্তাহে আমরা কিছু কিছু পর্যায়ে তা পেরেছি, কিন্তু ধারাবাহিক হতে পারিনি।”
২০২২ সালে নেতৃত্ব পাওয়া স্টোকস এই সফরের আগেই দুই বছরের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে সই করেছেন। আগেই বলেছেন, সিরিজের ফলাফল যেমনই হোক, নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়া বা খেলা ছাড়ার ইচ্ছে তার এখনও নেই। সিরিজ হারার পর জানিয়ে দিলেন, তার আগের ভাবনায় বদল নেই এখনও। বরং শেষ দুই টেস্টে সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটানোর প্রত্যয় ফুটে উঠল তার কণ্ঠে।
“যদিও ফলাফল আমাদের পক্ষে আসেনি, তবে এই ম্যাচ থেকে অনেক কিছু আমরা পরের দুই ম্যাচে বয়ে নিতে পারি। দল হিসেবে নিজেদের নিয়ে অনেক কিছু জানতে পেরেছি আমরা। যথেষ্ট ধারাবাহিক ও বিরামহীন আমরা হতে পারিনি। অস্ট্রেলিয়ায় এসে ওদের সঙ্ড়ে লড়তে যতটা ভালো হওয়া উচিত, আমরা এর ধারেকাছে ছিলাম না। স্কোর লাইনেই তা ফুটে উঠছে।”
“তবে আরও দুটি ম্যাচ আছে। অনেক কিছু এখনও বাকি আছে। আমরা ভেঙে পড়ব না বা স্রেফ সিরিজ শেষ করার জন্য বা খেলার জন্য খেলব না। মাঠে সবকিছুই উজাড় করে দেব আমরা। অনেকেই দেশ থেকে খেলা দেখতে এসেছে, শেষ দুই ম্যাচেও থাকবে। তাদের জন্য সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করব আমরা।”