Published : 12 Apr 2026, 11:47 AM
খুব চোখধাঁধানো কিংবা খ্যাপাটে বা চোখে পড়ার মতো উদযাপন কখনোই করেন না সাঞ্জু স্যামসন। দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে শতরানের পর তার উদযাপনের একটু অংশ তবু নজর কাড়ল অনেকের। চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরির পর এই উদযাপনেই কৃতজ্ঞতা জানালেন তিনি কোচ স্টিভেন ফ্লেমিংয়ের প্রতি।
আইপিএলে শনিবার চেন্নাইয়ে ১৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৫৬ বলে ১১৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন স্যামসন। টি-টোয়েন্টিতে তার সপ্তম শতরান এটি, আইপিএলে চতুর্থ। তবু এই ইনিংসটি একটু আলাদা। তার নতুন দলের হয়ে প্রথম তিন অঙ্কের স্বাদ বলে কথা!
তুমুল আলোচিত দলবদলে রাজস্থান রয়্যালস ছেড়ে চেন্নাইয়ে এসেছেন ১৮ কোটি রুপির স্যামসন। গত মৌসুমের ব্যর্থতা পেছনে ফেলে তাকে ঘিরেই এবার দল ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় চেন্নাই। তবে শুরুটা তার ভালো হয়নি। নতুন দলে প্রথম ৩ ইনিংস মিলিয়ে তার রান ছিল ২২। দল হেরেছিল সব ম্যাচই।
অবশেষে নিজেকে খুঁজে পেলেন শনিবার দিল্লির বিপক্ষে। শতরানের পর হেলমেট খুঁজে ব্যাট উঁচিয়ে ধরা, মুখের হাসি, সবকিছুতে উচ্ছ্বাসের চেয়ে স্বস্তিই যেন বেশি ছিল তার উদযাপনে। এক পর্যায়ে মাথার হ্যাট খুলে হাতে ঘুরিয়ে স্যালুটের মতো ভঙ্গি করে ইশারা করলেন দলের ডাগআউটের দিকে। উদযাপনে ব্যতিক্রমী অংশ ছিল সেটুকুই।
ম্যাচের পর স্যামসন খোলাসা করলেন তার ওই উদযাপনের পেছনের কথা।
“এটা ছিল ফ্লেমিংয়ের জন্য । আমি জানি, কাজটা কত কঠিন হতে পারে। গত পাঁচ বছর ধরে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নেতৃত্ব দিয়ে বুঝতে পেরেছি, মানসিকভাবে কতটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে এসব। তাই আমি এটা আমাদের কোচ ফ্লেমিংকে উৎসর্গ করতে চেয়েছি।”
স্যামসনের সেঞ্চুরিতে ২১২ রানের পুঁজি গড়ে ২৩ রানে ম্যাচ জিতে নেয় চেন্নাই। আইপিএলের সফলতম দলটি এই মৌসুমে প্রথম জয়ের স্বাদ পায়।
চেন্নাইয়ের মতো দল, যারা প্রতি মৌসুমেই ট্রফির লক্ষ্যে মাঠে নামে, তাদের জন্য হ্যাটট্রিক হার দিয়ে মৌসুমে শুরু করা চরম হতাশারই হওয়ার কথা। কিন্তু স্যামসন বললেন, তাদের ওপর কোনো ধরনের চাপই ছিল না।
“নতুন একটি ফ্র্যাঞ্চাইজিতে এভাবে একটি টুর্নামেন্ট শুরু করা কখনোই সহজ নয়। তবে আমার কখনোই মনে হয়নি এটি ভিন্ন কোনো দল। সবসময়ই নিজের ঘর বলে মনে হয়েছে। সবাই খুবই আন্তরিক, শান্ত ও স্বচ্ছন্দ্য এখানে।”
“এমনকি টানা তিন ম্যাচ জয়ের পরও আজকে আমাদের টিম মিটিং হয়েছে ৫০ সেকেন্ডের। সেটিই ফুটিয়ে তোলে, এখানকার আবহ কতটা রিল্যাক্সড এবং আমার ধরনের সঙ্গে এটা মানিয়ে যায়। এই দলে আসতে পেরে আমি খুবই খুশি।”