Published : 02 May 2026, 09:32 PM
“না নেই, এটা আর নেই। আমরা ছেড়ে দিয়েছি, আপনি যত তাড়াতাড়ি ছাড়বেন, ততই ভালো…”- সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন লিটন কুমার দাস। তার কাছে প্রশ্নটা ছিল সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে না পারার ধাক্কা কতটা কাটিয়ে উঠতে পারলেন তারা। বাংলাদেশ অধিনায়ক আরেকবার জানিয়ে দিলেন, অতীত নিয়ে তারা আর ভাবছেন না। বরং অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় আগামী বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবনার কথা জানিয়ে রাখলেন তিনি।
ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত গত বিশ্বকাপ খেলতে না পেরে লিটনরা যে তীব্র হতাশায় মুষড়ে পড়েছিলেন, সেটা তো আর অজানা নয়। হতাশা, ক্ষোভ, অসহায়ত্ব্, সবই ছিল তাদের। সময়ের স্রোতে তা মুছে গেছে। পরের বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করে দিতে চায় বাংলাদেশ দল। আর ২০২৮ সালের বিশ্বকাপটা যেহেতু উপমহাদেশের বাইরে, দলে অনেক উন্নতির জায়গা দেখছেন লিটন।
মিরপুরে শনিবার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টিতে হেরে গেলেও অধিনায়ক হিসেবে সময়টা বেশ ভালোই কাটছে লিটনের। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তখনকার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর চোটে লিটনের নেতৃত্বেই ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে বাংলাদেশ। পরের সিরিজে পাকাপাকিভাবে নেতৃত্ব পেয়ে যান লিটন।
তার নেতৃত্বে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দুই সিরিজ হারলেও পরের তিনটি সিরিজ টানা জিতে নেয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে পাঁচটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়ে নেতৃত্ব তিনি দলকে। সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে যৌথভাবে এখন বাংলাদেশের সফলতম টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক তিনি। তিন জনের নেতৃত্বেই জয় ১৬টি করে।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে এই সিরিজটি যদিও বাংলাদেশ জিততে পারেনি। চট্টগ্রামে প্রথম ম্যাচ জিতে যদিও এগিয়ে ছিল তারা। পরের ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ার পর শনিবার মিরপুরে বৃষ্টিবিঘ্নিত শেষ ম্যাচে ৬ উইকেটে হেরে যায় বাংলাদেশ। সিরিজ শেষ ১-১ সমতায়।
ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে লিটন বললেন, অধিনায়কত্বকে আলিঙ্গন করেই নিয়েছেন তিনি। অধিনায়ক হিসেবে নিজের মূল্যায়ন অবশ্য নিজে করতে চাইলেন না।
“আমি অনেক উপভোগ করছি (অধিনায়কত্ব)। আর আমার ভাবনা অবশ্যই… যেহেতু এশিয়াতে খেলা না (বিশ্বকাপ), খেলাটা বাইরে। এশিয়ার (কন্ডিশন) অনুযায়ী হয়তো বা আমাদের দলটা আগেরবার অভ্যস্ত ছিল, বাইরে আমাদের দলে আরও অনেক কিছু আনতে হবে খেলোয়াড় হিসেবে। কারণ যে কন্ডিশনে খেলবেন, যাদের সঙ্গে খেলবেন, খুবই কঠিন হবে। এই দেড়টা বছর যদি আমরা ওই ব্যাপারগুলো মানিয়ে নিয়ে ওখানে যেতে পারি, তাহলে আশা করি ভালো কিছুই হবে।”
অধিনায়কত্বের এই সময়ের প্রাপ্তি নিয়েও নিজ থেকে বেশি কিছু বলতে চাইলেন না লিটন।
“প্রাপ্তি তো খারাপ ছিল না। আপনারা যদি উত্তরটা দেন তাহলে খুব ভালো হবে যে, আমার প্রাপ্তি কেমন ছিল। আমার মনে হয়, দল হিসেবে বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা যারা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে খেলেছে, তারা খুবই ভালো করেছে গত এক বছরে।”
“অবশ্যই চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, এই বছরটা আমরা কীভাবে দিতে পারছি, কারণ এই বছরে আরও ছয়টা ম্যাচ আছে এবং ভালো দলের সঙ্গে আছে।”
বাংলাদেশের পরের টি-টোয়েন্টি সিরিজ আগামী মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। এই বছরের অন্য সিরিজটি ভারতের বিপক্ষে অগাস্টে।