Published : 17 Jun 2026, 10:26 PM
ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম সেঞ্চুরিতে দেড়শ ছোঁয়া ইনিংস খেললেন শুবমান গিল। বিস্ফোরক শতক উপহার দিলেন কিষান কিষান। তাদের দুইশ ছাড়ানো জুটিতে যে উচ্চতায় উঠল ভারতের স্কোর, তার ধারেকাছেও যেতে পারল না আফগানিস্তান। আরেকটি অনায়াস জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জিতে নিল ভারত।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৭০ রানের বিশাল জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে গিলের দল।
এই সংস্করণে রানের হিসাবে আফগানিস্তানের এর চেয়ে বড় হার আছে কেবল একটি। ২০১৫ বিশ্বকাপে পার্থে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৭৫ রানে হেরেছিল তারা।
নিজেদের সবশেষ ছয়টি দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজে আফগানদের প্রথম সিরিজ হার এটি। আর অধিনায়ক হিসেবে গিলের তিন সিরিজে প্রথম সিরিজ জয়।
লখনৌতে বুধবার ভারত এক বল বাকি থাকতে অলআউট হয় ৪০২ রানে। আফগানিস্তান থমকে যায় ২৩২ রানে। ব্যাটিংয়ের সময় আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়া দারভিশ রাসুলি পরে আর নামেননি।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে দল জিতে যাওয়ায় ৮৪ রানে অপরাজিত থাকতে হয়েছিল গিলকে। এবার ১১০ বলে ১৫৪ রানের ইনিংস খেলে আবার ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ তিনি। ২২ চার ও দুই ছক্কায় গড়া তার নবম ওয়ানডে সেঞ্চুরির ইনিংসটি।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টেও সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি।
সাড়ে তিন বছরের সেঞ্চুরি-খরা কাটিয়ে ১৪ চার ও সাত ছক্কায় ৭৯ বলে ১২৫ রান করেন কিষান। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি (২১০) এতদিন এই সংস্করণে ছিল তার আগের একমাত্র তিন অঙ্ক ছোঁয়া ইনিংস।
প্রচণ্ড গরমের মধ্যে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারতের শুরুটা ভালো ছিল না। সিরিজে প্রথম খেলতে নেমে দ্বিতীয় ওভারে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ইয়াশাসভি জয়সওয়াল।
দারুণ কিছু শট খেলেন রোহিত শার্মা। অসাধারণ ফর্ম ধরে রেখে ছুটতে থাকেন গিল। সপ্তম ওভারেই পঞ্চাশ পেরিয়ে যায় ভারত।
রাশিদ খানের গুগলিতে পরাস্ত হয়ে ফিফটির কাছে গিয়ে থামেন রোহিত (৩৯ বলে ৪৮)। তবে ভারতের রান প্রবাহ থামেনি। গিল পঞ্চাশ পূর্ণ করেন ৩৮ বলে।

কিষান শুরুতে শান্ত ছিলেন কিছুটা। পঞ্চাশে পা রাখেন ৫২ বলে। এরপর বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন তিনি। পরের পঞ্চাশ ছুঁতে তার লাগে কেবল ১৯ বল।
৭১ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন কিষান। তার আগেই ৭৭ বলে তিন অঙ্কের ছোঁয়া পান গিল। এই প্রথম কোনো ওয়ানডেতে ৮০ বা এর কম বলে সেঞ্চুরি করলেন ভারতের দুই ব্যাটসম্যান।
২৮ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ১৯৩ রান। পরের আট ওভারে তারা ঝড়ের গতিতে তোলে ১১৪ রান।
নানগেয়ালিয়া খারোটেকে পরপর দুই ছক্কার পরের বলে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন কিষান। থামে ১৪১ বলে ২২৪ রানের বিস্ফোরক জুটি।
গিল চালিয়ে যায় ব্যাটিং। দেড়শতে পা রাখেন তিনি ১০৮ বলে, ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে যা তৃতীয় দ্রুততম।
৪০ ওভার শেষে ভারতের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ৩৪০। ৪৫০ বা তার বেশি রানে দৃষ্টি থাকার কথা তাদের। কিন্তু শেষ ১০ ওভারে ৬২ রান তুলতে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা।
দেড়শ ছোঁয়ার পর খারোটের বলে ক্যাচ দিয়ে থামেন গিল। পরের বলে শূন্য রানে বিদায় নেন লোকেশ রাহুল। শ্রেয়াস আইয়ার বিদায় নেন ২৪ বলে ২৬ রান করে। শেষ ওভারে কোনোমতে চারশ ছাড়ায় ভারত।
ওয়ানডেতে চারশ ছুঁয়ে অলআউট হওয়া প্রথম দল তারাই। সবচেয়ে বেশিবার চারশ ছোঁয়ার রেকর্ডে দক্ষিণ আফ্রিকার পাশেও বসে ভারত, আটবার।
আফগানিস্তানের হয়ে ৭৬ রানে ৪ উইকেট নেন খারোটে, ৪৮ রানে ৩টি রাশিদ। ৮.৫ ওভারে ৯০ রান দেন বিলাল সামি।
বিশাল রান তাড়ায় ৫২ রানের উদ্বোধনী জুটিতে শুরুটা ভালো করে আফগানিস্তান। কিন্তু তাদের ইনিংস সত্যিকার অর্থে গতি পায়নি কখনোই।
প্রথম ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান রাহমানউল্লাহ গুরবাজ থামেন ৪১ রানে। চল্লিশ ছুঁয়ে ফেরেন সেদিকউল্লাহ আটালও (৪২)। বেশিদূর যেতে পারেননি ইব্রাহিম জাদরান।
অন্যদের আসা-যাওয়ার মাঝে দলকে একাই টানেন রেহমাত শাহ। ৮৯ বলে সর্বোচ্চ ৭৯ রান করে তিনি ফেরার পরই সমাপ্তি ঘটে ম্যাচের।
আঁটসাঁট বোলিংয়ে ৩টি করে উইকেট নেন আর্শদিপ সিং ও গুরনুর ব্রার। অভিষিক্ত প্রিন্স ইয়াদাভের শিকার ২টি।
আগামী শনিবার চেন্নাইয়ে হবে শেষ ম্যাচ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ৪৯.৫ ওভারে ৪০২ (জয়সওয়াল ৪, রোহিত ৪৮, গিল ১৫৪, কিষান ১২৫, শ্রেয়াস ২৬, রাহুল ০, ওয়াশিংটন ১৯, গুরনুর ৩, আর্শদিপ ৩, কুলদিপ ৩*, প্রিন্স ৫; গাজানফার ১০-১-৬৯-১, সালিম ৮-০-৭৫-১, বিলাল ৮.৫-০-৯০-, খারোটে ১০-০-৭৬-৪, রাশিদ ৮-০-৪৮-৩, শাহিদি ৫-০-৩৬-০)
আফগানিস্তান: ৪৪.৩ ওভারে ২৩২ (গুরবাজ ৪১, ইব্রাহিম ২১, সেদিকউল্লাহ ৪২, রেহমাত ৭৯, রাসুলি ৬ রিটায়ার্ড হার্ট, শাহিদি ৪, খারোটে ৬, রাশিদ ১২, গাজানফার ১, সালিম ৯, বিলাল ২*; আর্শদিপ ৯-০-৪৫-৩, প্রিন্স ৭.৩-০-৫৬-২, গুরনুর ১০-০-৬০-৩, কুলদিপ ১০-০-৪২-০, ওয়াশিংটন ৭-০-২৪-১, জয়সওয়াল ১-০-৩-০)
ফল: ভারত ১৭০ রানে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ২-০-তে এগিয়ে ভারত
ম্যান অব দা ম্যাচ: শুবমান গিল