২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

‘ওয়ান ম্যান শো’ শেষে শামীম বললেন, ‘আমার কিছু করার ছিল না’

অসাধারণ ইনিংস খেলে অভাবনীয় এক জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন শামীম, কিন্তু শেষ বলে ছক্কা মারতে পারেননি।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Jan 2026, 08:14 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:28 PM

শেষ ডেলিভারিটি ঠেকানোর পর সিঙ্গল নিতে পারতেন শামীম হোসেন। কিন্তু রান নিতে আগ্রহ দেখালেন না তিনি, হাত ইশারায় মানা করলেন অপর প্রান্তের ব্যাটসম্যানকে। হয়তো ভাবলেন, প্রয়োজন যেখানে অন্তত ছয় রান, সেখানে ওই এক রানে তেমন কিছু কী আর যায়-আসে!

তার দল যে ম্যাচটি হারবে, এটা একরকম নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল বেশ আগেই। মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের বিদায়ে অষ্টম উইকেটের পতন যখন হলো, জয়ের জন্য ঢাকা ক্যাপিটালসের প্রয়োজন তখন ২১ বলে ৫৬ রান। তখন মূল কৌতূহল ছিল, ৩৭ রানে ক্রিজে থাকা শামীমের ফিফটি হবে কি না। 

সেই শামীম পরের তিন ওভারে তাণ্ডব চালালেন ব্যাট হাতে। রিভার্স সুইপ, রিভার্স র‌্যাম্পসহ দারুণ সব শট খেললেন। প্রতিপক্ষের সেরা দুই বোলার আজমাতউল্লাহ ওমারজাই ও মোহাম্মাদ আমিরকে তুলাধুনা করলেন শেষ দুই ওভারে।

১৯তম ওভারে ওমারজাইয়ের ওভার থেকে এলো ১৮ রান। আমিরের করা শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ২৭ রানের। সেটিও নেমে এলো শেষ বলে ৭ রানের সমীকরণে। ছক্কা মারতে পারলে ম্যাচ গড়াবে সুপার ওভারে। 

ম্যাচের সেরা ডেলিভারিটি তখনই করলেন আমির। প্রায় নিখুঁত ইয়র্কার। শামীম স্রেফ ব্যাট পেতে দিলেন। কী আর করবেন! সিলেট টাইটান্স ম্যাচ জিতে নিল ৬ রানে। 

৯ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৩ বলে ৮১ রানের অপরাজিত ইনিংস। তার ক্যারিয়ার সেরা পারফরম্যান্স। কিন্তু শেষটায় একটু খামতি। ওই শেষ ডেলিভারি নিয়ে তার কণ্ঠেও ফুটে উঠল অসহায়ত্ব।

“ভালো বল করে ফেলেছে… এক্সট্রা অর্ডিনারি বল করে ফেলছে। এটায় আমার কিছু করার ছিল না…।”

শামীমের অসহায়ত্ব শুধু ওই শেষ ডেলিভারি নিয়েও নয়, সতীর্থদের ব্যর্থতা নিয়েও। কেউ একজন যদি তাকে সঙ্গ দিতে পারতেন, তাহলে তো ম্যাচ শেষ বল পর্যন্ত গড়াতই না। ঢাকা জিতে যেত আগেই।

ম্যাচের পর ঢাকার অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন অকপটেই তুলে ধরলেন নিজের ব্যর্থতা আর কৃতিত্ব দিলেন শামীমকে। 

“অসাধারণ ইনিংস ছিল। আমরা জানি, শামীমের সামর্থ্য কেমন…।”

“এটা স্রেফ ‘ওয়ান ম্যান শো’ ছিল। আমাদের ব্যাটিংয়ের কথা বললে, কেবল শামীমই টিকে ছিল। অন্য কেউ তার পাশে থাকতে পারলে ভিন্ন ফল হতে পারত।”

সেই একই আক্ষেপ শামীমের কণ্ঠেও। নিজের ওপর বিশ্বাসের কমতি ছিল না তার। কিন্তু উপযুক্ত একজন সঙ্গী না পাওয়ার আফসোসও করলেন। 

“ম্যাচ হেরে গেলে তো অবশ্যই আফসোস থাকে। বিশ্বাস ছিল যে, যতক্ষণ পর্যন্ত থাকব… নিজের উপরে বিশ্বাস ছিল যে পারব।”

“যদি কেউ একটু সাপোর্ট করত, তাহলে সহজেই… আমি মনে করি উইকেট অনেক ভালো ছিল। সহজেই ম্যাচটা বের হয়ে যেত।”