চতুর্থ দিন সকালে বাংলাদেশকে দ্রুত গুটিয়ে দিয়ে ম্যাচ জিততে চায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
Published : 23 Oct 2024, 07:02 PM
ইনিংস জয়ের হাতছানিতে দিন শুরু করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্রুত তিন উইকেট নিয়ে লক্ষ্যটা নাগালেও পেয়ে গিয়েছিল তারা। কিন্তু মেহেদী হাসান মিরাজ ও জাকের আলির লড়াইয়ে সেই লক্ষ্য সরতে থাকে দূরে। দিন শেষে এমন অবস্থা, জয়ের স্বপ্নও দেখতে পারছে বাংলাদেশ!
দক্ষিণ আফ্রিকা অবশ্য এখনও জয়কে দৃষ্টিসীমাতেই দেখছে। লড়াইয়ের জন্য জাকের ও মিরাজের পিঠ চাপড়ে দিচ্ছেন কেশাভ মহারাজ। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞ স্পিনার এখনও নিজেদের সম্ভাবনাই দেখছেন বেশি।
এই কন্ডিশনে জয়ের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা তাকিয়ে ছিল মূলত মহারাজের দিকেই। দলের স্পিন আক্রমণের মূল অস্ত্র তিনি। প্রথম ইনিংসে দারুণ বোলিং করে তিন উইকেট নেন প্রত্যাশিতভাবেই। দ্বিতীয় ইনিংসেও এখনও পর্যন্ত তিন উইকেট হয়ে গেছে তার। তবে এবার তাকে খাটতে হয়েছে অনেক বেশি।
তৃতীয় দিন সকালে কাগিসো রাবাদা তিন বলের মধ্যে মাহমুদুল হাসান জয় ও মুশফিকুর রহিমকে ফেরানোর পর মহারাজ দ্রুত বিদায় করে দেন লিটন কুমার দাসকে। পরের উইকেটের জন্য মহারাজ ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে অপেক্ষা করতে হয় অনেকটা সময়।
মিরাজ ও জাকের আলি এই সময়ে গড়ে তোলেন ১৩৮ রানের জুটি, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে যা বাংলাদেশের যে কোনো জুটিতে রেকর্ড।
জাকেরকে ৫৮ রানে থামিয়ে জুটি ভাঙেন মহারাজই। আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ হওয়ার আগে আর কোনো উইকেট নিতে পারেনি প্রোটিয়ারা। প্রথম ইনিংসে ১৬.৫ ওভারে তিন উইকেট শিকার করা মহারাজ এবার এখনও পর্যন্ত ৩৭ ওভার বোলিং করে তিন উইকেট নিয়েছেন ১০৫ রানে।
দিন শেষে বাংলাদেশ এগিয়ে ৮১ রানে। উইকেট আছে আর তিনটি। মিরাজ এখনও অপরাজিত ৮৭ রানে।
বাংলাদেশকে প্রাপ্য কৃতিত্ব দিচ্ছেন মহারাজ। তবে এটিও বলে রাখছেন, তারাই এখনও জয়ের কাছে।
“বাংলাদেশ অবশ্যই আজকে সত্যিই ভালো করেছে। সত্যি বলতে, আজকে কন্ডিশন কিছুটা ভালো ছিল, বল ছিল অনেকটাই ব্যবহৃত। তবে আমার মনে হয়, এখনও আমরাই এগিয়ে। যদিও বাংলাদেশ লিড পেয়েছে এবং আরও তিনটি উইকেট নিতে হবে আমাদের। তবে আমাদের ব্যাটসম্যানরা প্রথম ইনিংসে যেভাবে খেলেছে, আমরাই এখনও চালকের আসনে।”
“আমরা সকালে তিন উইকেট নেওয়ার পর মেহেদী ও জাকের খুব ভালো খেলেছে। ওদেরকে থামানোর সব চেষ্টাই আমরা করেছি। আমাদের দিক থেকে ঢিল দেওয়ার কোনো ব্যাপার ছিল না। ওরা আজকে সত্যিই ওরা ভালো খেলেছে এবং এই অবস্থায় ব্যাটারদেরকে কৃতিত্ব দিতেই হবে।”
চতুর্থ দিন সকালেই দ্বিতীয় নতুন বলে বল করতে পারবে দক্ষিণ আফ্রিকা। রাবাদা, মুল্ডার সুযোগ পাবেন বাংলাদেশের লেজ ছেঁটে দেওয়ার। মহারাজ জানালেন, দলও এই আশাতেই শুরু করবে নতুন দিন।
“লক্ষ্যটা ১০০ বা এর নিচে রাখতে পারলে তো খুবই ভালো! তবে গুরুত্বপূর্ণ হলো কালকে (বৃহস্পতিবার) সকালে শুরুটা ভালো করা এবং সেখান থেকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এগিয়ে যাওয়া।”