Published : 22 Jan 2026, 09:21 AM
উইকেটে প্রতিটি মুহূর্ত যেন ধুঁকছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ। টাইমিং করতে পারছিলেন না একটি শটেও। তিনি যখন ক্রিজে গিয়েছিলেন, দলের সম্ভাবনা তখন ছিল বেশ উজ্জ্বল। কিন্তু যখন আউট হয়ে ফিরছেন, জয়ের সম্ভাবনা তখন দূরের বাতিঘর। পরিস্থিতির দাবিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সিলেট টাইটান্স অধিনায়ক আউট হয়ে যান দলকে আঁধারে ডুবিয়ে।
বিপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচটিতে মিরাজ আউট হন ১৩ বলে ৯ রান করে। দলের পরাজয়ের একমাত্র কারণ বা মূল কারণ অবশ্যই তার ব্যাটিং নয়। তবে অধিনায়কের বাজে ব্যাটিংয়ের পর ভীষণ কঠিন হয়ে ওঠা সমীকরণ মেলাতে পারেননি সতীর্থরা। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে হেরে বাদ পড়ে যায় সিলেট টাইটান্স।
শুধু এই ম্যাচই নয়, মিরাজের এমন ব্যাটিং ছিল এবার বিপিএলজুড়েই। এই ম্যাচের ৯ রান দিয়ে আসরে ১০০ রান পূর্ণ হয় তার। ৯ ইনিংস খেলে তার ব্যাটিং গড় ১২.৫০, স্ট্রাইক রেট মাত্র ৯০.৯০।
কোয়ালিফায়ার ম্যাচটিতে অবশ্য বোলিং ভালো করেছেন মিরাজ। ৪ ওভারে ২০ রান দিয়ে উইকেট নিয়েছেন দুটি। তবে এই ম্যাচটি ছিল ব্যতিক্রম। আগের ম্যাচগুলোয় তার বোলিংও ছিল ব্যাটিংয়ের মতোই রুগ্ন। আসরের ১২ ম্যাচে তার শিকার মোটে ৬ উইকেট, ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন ৯। শেষ ম্যাচটি ছাড়া আর কোনো ম্যাচে ৪ ওভার করতে পারেননি।
অথচ গত বিপিএলে ৩৫৫ রান করে ও ১৩ উইকেট নিয়ে মিরাজ হয়েছিলেন ম্যান অব দা টুর্নামেন্ট। এবার তাকে বলা যায় ‘ফ্লপ অব দা টুর্নামেন্ট।’
রাজশাহীর বিপক্ষে কোয়ালিফায়ারে যে ব্যাটিং করেছেন মিরাজ, সেটির কোনো ব্যাখ্যা এমনিতে থাকার কথা নয়। কোচ সোহেল ইসলাম তবু ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করলেন।
“মিরাজ যেটা পরিকল্পনা করেছিল… খেলাটা যে অবস্থায় ছিল, সেখান থেকে আরেকটু যদি গভীরে নিয়ে যায়, তাহলে পরে আমাদের লোয়ার অর্ডার যারা আছে, খুব ভালো হিটার কিছু আছে… তো আমরা চিন্তা করছিলাম যে খেলাটা যদি ওরা আরেকটু গভীরে নিয়ে যায়, তাহলে খেলাটা আমাদের জন্য সহজ হবে এবং আমাদের ভালো চান্স থাকবে।”

সিলেট টাইটান্সের কোচ ছাড়াও সোহেল বিসিবির নিয়মিত কোচদের একজন। মিরাজের সঙ্গে নানা সময় নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন। মিরাজের পারফরম্যান্স কেন এত বাজে হলো, কারণ খোঁজার চেষ্টা করলেন এই কোচ।
“মিরাজ গত বছর যেভাবে পারফর্ম করেছে, এই বছরটা আসলে সেভাবে করেনি। আমার কাছে মনে হয়, শুরুটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুরুটা ওর ভালো হয়নি। সিলেটে আমাদের টানা একের পর এক খেলা ছিল। তখন আসলে ওই ধরনের চিন্তা করার বা কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে, সেসব ভাবার আসলে ওই কোনো সময়ও ছিল না। তার মধ্যে অধিনায়কত্বের চাপ তা ছিলই একটা।”
“সবকিছু মিলিয়ে আমাদের কাছে মনে হয়েছে যেন, মানসিকভাবে মিরাজ আসলে সেটেলড ডাউন বা স্থির অবস্থায় ছিল না। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের ইস্যুজ ছিল, আপনারা জানেন সেটা। পারফরম্যান্সের পিছনে শুধু স্কিল জরুরি, এটাও ঠিক না। মানসিক অবস্থা কেমন, দলের ফলাফল কেমন হচ্ছে, দল কেমন খেলছে, এগুলোরও আসলে প্রভাব ছিল। সব কিছু মিলিয়ে যে ধরনের পারফম্যান্স ও করে সাধারণত, এবার করতে পারেনি।”
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটিং-বোলিং দুটিতেই মিরাজের ঘাটতি নিয়ে নানা সময়েই প্রশ্ন উঠেছে। সোহেল ইসলাম বললেন, তারাও সেটি উপলব্ধি করতে পারছেন। বিপিএলের পর পর্যাপ্ত কোনো ফাঁকা সময়ে নিবিড়ভাবে কাজ করা হবে বলেও জানালেন তিনি।
“আমরা যারা বোর্ডের চাকরি করি, জাতীয় ক্রিকেটাররা আমাদের কাছে আসে এবং প্র্যাকটিস করে। তবে যে কোনো জিনিস উন্নতি করতে গেলে কিন্তু আসলে তা খুঁজে বের করা ও কাজ করা একটা দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। একটা টুর্নামেন্ট চলার সময় এগুলো কঠিন, কারণ টেকনিক্যাল কোনো অ্যাডজাস্টমেন্ট বা কোনো জায়গায় উন্নতি করতে আসলে আলাদা করে প্র্যাকটিস করাতে হয় এবং অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।”
“বিপিএলের মাঝে টানা ম্যাচ খেলার মধ্যে এই কাজগুলি খুবই কঠিন। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে। কথা হয়েছে, কিছু জায়গায় আমরা চিন্তা ভাবনা করেছি যে, পরে প্র্যাকটিসগুলো করব ও এই জায়গাগুলোতে কাজ করব।”