Published : 08 Nov 2025, 09:15 PM
শক্ত ভিত, বড় সংগ্রহের হাতছানি। কিন্তু হলো ঠিক উল্টো। নাটকীয় ব্যাটিং ধসে দক্ষিণ আফ্রিকা গুটিয়ে গেল দেড়শর নিচে। বোলারদের নৈপুণ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর পর, সাইম আইয়ুবের আগ্রাসী ইনিংসে অনায়াস জয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিল পাকিস্তান।
সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে পাকিস্তানের জয় ৭ উইকেটে। এই সংস্করণে অধিনায়কত্বের অভিষেক সিরিজ ২-১ ব্যবধানের জয়ে রাঙালেন শাহিন শাহ আফ্রিদি।
প্রথমবার ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল পাকিস্তান।
ফয়সালাবাদে শনিবার ৭২ রানের উদ্বোধনী জুটির পর একপর্যায়ে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ছিল ১ উইকেটে ৮৭। সেখান থেকে পথ হারিয়ে ১৪৩ রানে অলআউট হয় তারা ৩৭.৫ ওভারে। ৫৬ রানে হারায় শেষ ৯ উইকেট, ৩৭ রানে শেষ ৮টি।
ছোট লক্ষ্য পাকিস্তান ছুঁয়ে ফেলে ১৪৯ বল হাতে রেখেই।
১১ চার ও এক ছক্কায় ৭০ বলে ৭৭ রানের চমৎকার ইনিংস খেলেন ওপেনার সাইম।
ম্যাচ-সেরা যদিও তিনি নন। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ১০ ওভারে ২৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে পুরস্কারটি পান লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ।
পাকিস্তানের স্পিনাররা মিলে শিকার করেন ৮ উইকেট। সালমান আলি আগা ও মোহাম্মদ নাওয়াজের প্রাপ্তি ২টি করে। অন্য ২টি উইকেট পেসার আফ্রিদির।
মন্থর উইকেটে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান কুইন্টন ডি কক ও লুয়ান-ড্রে প্রিটোরিয়াসের ব্যাটে ভালো শুরু পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচের প্রথম বলে চার মেরে শুরু করেন তরুণ ব্যাটসম্যান প্রিটোরিয়াস।
পাওয়ার প্লেতে প্রোটিয়ারা করে বিনা উইকেটে ৪৭ রান। পঞ্চদশ ওভারে প্রিটোরিয়াসকে (৪৫ বলে ৩৯) ফিরিয়ে শুরুর জুটি ভাঙেন সালমান। পরে তার বলেই আলগা শট খেলে আউট হন টনি ডি জর্জি।
এদিন ৪৪ রানে পৌঁছে ওয়ানডেতে সাত হাজার রান পূর্ণ করেন ডি কক। দ্বিতীয় দ্রুততম মাইলফলকটি স্পর্শ করলেন এই সিরিজ দিয়ে দুই বছর পর ওয়ানডেতে ফেরা অভিজ্ঞ কিপার-ব্যাটসম্যান (১৫৮ ইনিংস)। রেকর্ডটির চূড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকারই সাবেক ব্যাটসম্যান হাশিম আমলা (১৫০ ইনিংস)।
একপর্যায়ে ২ উইকেটে ১০৬ রানের শক্ত ভিতে দাঁড়িয়ে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ধস নামে এরপরই। মোহাম্মদ নাওয়াজকে চার মেরে ফিফটি করার এক বল পরই এলবিডব্লিউ হয়ে যান ডি কক (৭০ বলে ৫৩)।
ওয়ানডে অভিষিক্ত রুবিন হারমান টিকতে পারেন দুই বল। প্রথম পাঁচ ওভারে উইকেটশূন্য আবরার শিকার ধরা শুরু করেন হারমানকে ফিরিয়েই। পরের ওভারে পরপর দুই বলে ডনোভান ফেরেইরা ও কর্বিন বশকে বোল্ড করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি।
নিয়মিত উইকেট পতনের সেই ধারা চলতেই থাকে। দুই ওপেনার ছাড়া দুই অঙ্কে যেতে পারেন আর কেবল অধিনায়ক ম্যাথু ব্রিটস্কি ও নাকাবা পিটার; দুজনই করেন ১৬।
পরপর দুই বলে শেষ দুই ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস গুটিয়ে দেন আফ্রিদি।
রান তাড়ায় পাকিস্তানের শুরুটা ভালো ছিল না। দ্বিতীয় বলে ফাখার জামান বোল্ড হয়ে যান নান্দ্রে বার্গারের দারুণ ডেলিভারিতে। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে শূন্য রানে ফিরলেন বাঁহাতি ওপেনার।
দ্বিতীয় উইকেটে ৬৫ রানের জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন সাইম ও বাবর আজম। তৃতীয় রানের চেষ্টায় রান আউটে কাটা পড়েন বাবর (৩২ বলে ২৭)।
আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে সাইম ফিফটি তুলে নেন ৩৯ বলে। তার টানা দ্বিতীয় ফিফটি এটি।
আরেকটি ৬৫ রানের জুটি গড়েন তিনি তৃতীয় উইকেটে, মোহাম্মদ রিজওয়ানের সঙ্গে। জয় থেকে ১৪ রান দূরে থাকতে শেষ হয় সাইমের দারুণ ইনিংসটি। বাকিটা সারেন রিজওয়ান ও সালমান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা: ৩৭.৫ ওভারে ১৪৩ (প্রিটোরিয়াস ৩৯, ডি কক ৫৩, ডি জর্জি ২, ব্রিটস্কি ১৬, হারমান ১, ফেরেইরা ৭, বশ ০, ফোরটান ৩, পিটার ১৬, বার্গার ৩*, এনগিডি ০; আফ্রিদি ৪.৫-০-১৮-২, সাইম ৭-০-৩০-০, রউফ ৩-০-১৭-২, সালমান ৪-০-১৮-২, আবরার ১০-১-২৭-৪, মোহাম্মদ নাওয়াজ ৯-০-৩১-২)
পাকিস্তান: ২৫.১ ওভারে ১৪৪/৩ (ফাখার ০, সাইম ৭৭, বাবর ২৭, রিজওয়ান ৩২*, সালমান ৫*; বার্গার ৫-১-২৯-১, এনগিডি ৩-১-১৭-০, বশ ৩-০-২৩-০, ফোরটান ৬.১-০-৩৪-১, ফেরেইরা ৪-০-২১-০, পিটার ৪-০-১৮-০)
ফল: পাকিস্তান ৭ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজ পাকিস্তান ২-১ ব্যবধানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: আবরার আহমেদ
ম্যান অব দা সিরিজ: কুইন্টন ডি কক