সেপ্টেম্বরের সেরার লড়াইয়ে আভিশেক-রাজা-গিল
পুরুষদের মতো নারী ক্রিকেটারদের সেরার লড়াইয়েও আছেন ভারতের দুই জন।
সেঞ্চুরি ছোঁয়ার পরের ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে দারুণ এক স্বীকৃতির হাতছানি শুবমান গিলের সামনে। ‘আইসিসি প্লেয়ার অব দা মান্থ’-এর সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন ভারত অধিনায়ক। সেপ্টেম্বরের সেরার লড়াইয়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বী স্বদেশি আভিশেক শার্মা ও জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা।
গত মাসের সেরার লড়াইয়ে মনোনীত পুরুষ ও নারী ক্রিকেটারদের নাম মঙ্গলবার ঘোষণা করেছে আইসিসি।
পুরুষদের মতো নারী ক্রিকেটারদের সেরার লড়াইয়েও আছেন ভারতের দুইজন- শেফালি ভার্মা ও শ্রী চারানি। অন্যজন হলেন শ্রীলঙ্কার চামারি আতাপাত্তু।
শুবমান গিল
সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে থিরুভানান্থাপুরামে প্রথম ওয়ানডেতে ১১০ রানের ইনিংস খেলেন গিল। ওয়ানডেতে সেটা ছিল তার দশম সেঞ্চুরি। ম্যাচটি জিতে সিরিজে এগিয়ে যায় ভারত।
গুয়াহাটিতে পরের ম্যাচে ৪০৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ২২৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। ওয়ানডেতে রান তাড়ায় গড়েন সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড। দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে একাধিক ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তিও গড়েন তিনি।
তার সেই রেকর্ডময় ইনিংসে ভারতও পায় ওয়ানডে ইতিহাসে রান তাড়ায় দ্বিতীয় সেরা জয়। ৪০০-এর বেশি লক্ষ্য তাড়ায় ভারত ছাড়া জয়ের কীর্তি আছে কেবল দক্ষিণ আফ্রিকার।
আভিশেক শার্মা
টি-টোয়েন্টির পারফরম্যান্স দিয়ে আভিশেক জায়গা করে নিয়েছেন সেরার লড়াইয়ে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে একটি করে সেঞ্চুরি ও ফিফটি করেন তিনি। দুই ম্যাচের সেরা ও সিরিজ সেরার পুরস্কার জেতেন বাঁহাতি ওপেনার।
প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৩২ বলে ৮২ রান করেন আভিশেক। ইনিংসটির পথে ২২ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন তিনি। পরের ম্যাচে ১৯ বলে করেন ৩৯ রান।
শেষ ম্যাচে ৩৪ বলে ১০৮ রান করেন আভিশেক। সেদিন ৩০ বলে তিন অঙ্কে পা রাখেন তিনি। আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যা দ্রুততম শতকের রেকর্ড।
সিকান্দার রাজা
গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে দল হোয়াইটওয়াশড হলেও ভালো পারফর্ম করেন রাজা। প্রথম ওয়ানডেতে ৫৭ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। সঙ্গে ৬২ রান খরচায় নেন এক উইকেট।
দ্বিতীয় ম্যাচে ফিফটির কাছে গিয়ে নেন বিদায়, করেন ৪৫ রান। সেদিন উইকেটের দেখা পাননি এই স্পিনিং অলরাউন্ডার। শেষ ম্যাচে অপরাজিত ৮১ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। ৪২ রান দিয়ে ধরেন দুই শিকার।
শেফালি ভার্মা
গত মাসে ভারত নারী দলের এশিয়া কাপ জয় এবং এশিয়ান গেমসে সোনা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন শেফালি। সেপ্টেম্বরে সাত টি-টোয়েন্টি খেলে ৭২ গড় ও ১৮৪.৬১ স্ট্রাইক রেটে ৩৬০ রান করেন তিনি। বল হাতে ওভারপ্রতি ৪.৩৩ রান দিয়ে নেন ছয় উইকেট।
এশিয়া কাপে পাঁচ ইনিংসে আসরের সর্বোচ্চ ২৩৬ রান করেন শেফালি। সেমি-ফাইনালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৬৪ ও ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬৮ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। এশিয়ান গেমসের সেমি-ফাইনালে ৪৯ বলে ১০০ রান করেন এই ব্যাটার।
শ্রী চারানি
বল হাতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে যাচ্ছেন শ্রী চারানি। গত মাসে ৭ টি-টোয়েন্টিতে ১৮ উইকেট নিয়েছেন তিনি ৪.৮৩ গড়ে। উইমেন’স এশিয়া কাপে ভারতের জার্সিতে তার শিকার ১২ উইকেট।
এশিয়ান গেমসে জাপানের বিপক্ষে ১০ রানে ৪ উইকেট নেন এই স্পিনার। পরে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৭ রানে দুটি এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৩ রানে দুটি শিকার ধরেন টি-টোয়েন্টির এক নম্বর বোলার।
চামারি আতাপাত্তু
লঙ্কান অধিনায়ক আতাপাত্তু সেপ্টেম্বরে ব্যাট ও বল হাতে দারুণ ছন্দে ছিলেন। এশিয়া কাপের সেমি-ফাইনাল ও এশিয়ান গেমসে দলকে ফাইনালে তোলার পথে অবদান রাখেন তিনি। গত মাসে সাত টি-টোয়েন্টিতে ২২৬ রান করার পাশাপাশি ১৪ উইকেট নেন এই ক্রিকেটার।
এশিয়া কাপে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে স্রেফ ৫ রান দিয়ে হ্যাটট্রিকসহ ৭ উইকেট নেন আতাপাত্তু। মেয়েদের টি-টোয়েন্টিতে যা পঞ্চম সেরা বোলিং।
