Published : 28 Aug 2025, 09:47 AM
সাকিব আল হাসান যখন বোলিংয়ে এলেন, টিভি ক্যামেরা তাক করা হলো গ্যালারির একটি অংশের দিকে। সেখানে বাংলাদেশের পতাকা হাতে ও জার্সি গায়ে কিছু দর্শক। সেই দর্শকদের আনন্দের উপলক্ষ এনে দিয়ে সাকিব উইকেট শিকার করলেন তৃতীয় বলেই। তবে ম্যাচজুড়ে এমন উল্লাসের মুহূর্ত খুব একটা পেলেন না তারা।
এই টুর্নামেন্টের ছয় ইনিংসে প্রথমবার পুরো চার ওভার হাত ঘোরানোর সুযোগ পেলেন সাকিব। উইকেট ওই একটি পেলেও বেশ নিয়ন্ত্রিত বোলিংই করলেন তিনি। তবে আবার ব্যর্থ হলেন ব্যাট হাতে। বড় ব্যবধানে হারল তার দলও। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের কাছে ৮ উইকেটে উড়ে গেল অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকনস।
ব্যাটিংয়ে ১৪ বলে ১৩ রান করে আউট হওয়ার পর বল হাতে ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন সাকিব। আগের ম্যাচে ৩ উইকেট নিয়ে ও ১৮ বলে ২৫ রান করে ম্যান অব দা ম্যাচ হয়েছিলেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার।
ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডাকে প্রথম ওভারেই জোড়া ধাক্কায় নাড়িয়ে দেন মোহাম্মাদ আমির। ম্যাচের দ্বিতীয় বলে তিনি ফেরান রাকিম কর্নওয়ালকে, পঞ্চম বলে কারিমা গোরকে।
দ্বিতীয় উইকেটে জুয়েল অ্যান্ড্রু ও আন্দ্রিয়েস হাউস চেষ্টা করেন জুটি গড়ার। ৫ ওভারে ২৮ রানে থাকা দল কিছুটা গতি পায় ষষ্ঠ ওভারে সুনিল নারাইনের বলে অ্যান্ড্রুর দুটি ছক্কায়।
তবে ৪৬ রানের জুটির পর হাউস আউট হয়ে যান ১৭ বলে ১৪ রান করে।
পাঁচ নম্বরে ক্রিজে যান সকিব। প্রথম বলেই বাউন্ডারি পান ব্যাটের কানায় লেগে। পরের বলে রান আউট হওয়া থেকে রক্ষা পান একটুর জন্য।
একটু পর আরেকটি বাউন্ডারি মারেন তিনি আকিল হোসেনের বলে রিভার্স সুইপ করে। বাঁহাতি এই স্পিনারের পরের ওভারেই স্লগ সুইপ করে সীমানায় নারাইনের হতে ধরা পড়ে শেষ হয় তার ইনিংস।
এরপর আন্দ্রে রাসেলের এক ওভারেই যখন আউট হন অ্যান্ড্রু (৩১ বলে ৪০) ও ফ্যাবিয়ান অ্যালেন (০), দ্বাদশ ওভারে অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডার রান তখন ৬ উইকেটে ৭১।
সেখান থেকে দলকে টেনে নেন অধিনায়ক ইমাদ ওয়াসিম ও তার স্বদেশি উসামা মির। ২৫ বলে ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন ইমাদ। উসামা মূলত লেগ স্পিনার হলেও ব্যাট হাতে করেন ২৬ বলে ৩৪।
২০ ওভারে অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা তোলে ১৪৬ রান।
রান তাড়ায় ত্রিনবাগো প্রথম তিন ওভারে ২৬ রান তোলার পর আক্রমণে আনা হয় সাকিবকে। প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন তিনিই। বিপজ্জনক কলিন মানরো (৯) সীমানায় ধরা পড়েন স্লগ সুইপ করে।
প্রথম ওভারে চার রান দেওয়ার পর সাকিব পাওয়ার প্লেতে আরেকটি ওভার করে রান দেন ১০। পরে দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে দুই ওভারে দেন ১১ রান।
তবে ওই পুঁজি নিয়ে লড়াই করতে পারেনি অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা। দ্বিতীয় উইকেটেই ম্যাচ কার্যত শেষ করে দেন অ্যালেক্স হেলস ও কেসি কার্টি।
৪৫ বলে ৬০ রান করে আউট হন কার্টি। হেলস অপরাজিত থাকেন ৪৬ বলে ৫৫ রান করে। ১১ বলে ২২ রানে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক নিকোলাস পুরান।
আসরের ছয় ইনিংসে ৮১ বল খেলে সাকিবের রান ৭৭, ওভারপ্রতি ৬.৭২ রান দিয়ে উইকেট ৫টি।
সাত ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে এখনও শীর্ষে অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা। তবে ম্যাচও সবচেয়ে বেশি খেলেছে তারা। দুটি দল তো এখনও পর্যন্ত খেলেছে স্রেফ তিনটি করে ম্যাচ।
সাকিবদের পরের ম্যাচ রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় সেন্ট লুসিয়া কিংসের বিপক্ষে।