Published : 13 Oct 2025, 08:42 PM
উইকেটে বল টার্ন ও গ্রিপ করল বেশ। ভালো বোলিং করলেন দুই দলের স্পিনাররাই। সেনুরান মুথুসামির ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে পাকিস্তানকে চারশর আগে থামিয়ে ব্যাটিংয়ে শক্ত ভিত পেল দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু দিনের শেষ সেশনে চার উইকেট হারাল প্রোটিয়ারা। নোমান আলির দারুণ বোলিংয়ে লাহোর টেস্টের লাগাম এখন পাকিস্তানের হাতে।
সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২১৬ রান। এখনও ১৬২ রানে পিছিয়ে আছে সফরকারীরা। ১৪০ বলে ৮১ রানে অপরাজিত আছেন টনি ডি জর্জি।
একপর্যায়ে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ছিল ২ উইকেটে ১৭৪। সেখান থেকে ২৬ রান আর ৬২ বলের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। তাদের ৬ উইকেটের ৪টি নিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনার নোমান।
দিনের শেষটা ভালো না হলেও, শুরুটা দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য ছিল দুর্দান্ত। ৬৫ রানের মধ্যে শেষ ৫ উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানকে ৩৭৮ রানে অলআউট করে দেয় তারা।
মুথুসামি এদিন এক ওভারে তিনটিসহ মোট ৬ উইকেট শিকার করেন ১১৭ রান দিয়ে। ৩১ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনারের ৬ টেস্টের ক্যারিয়ারে আগের সেরা বোলিং ছিল ৪৫ রানে ৪ উইকেট।
গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ৫ উইকেটে ৩১৩ রান নিয়ে সোমবার দ্বিতীয় দিন ব্যাটিং শুরু করে পাকিস্তান। প্রথম দিন ফিফটি করে অপরাজিত থাকা মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগা দিনের প্রথম ১১ ওভার পার করে দেন নিরাপদে।
মুথুসামি আক্রমণে আসার পর পাল্টে যায় চিত্র। রিজওয়ানকে (১৪০ বলে ৭৫) থামিয়ে ১৬৩ রানের জুটি ভাঙার পর একই ওভারে পরপর দুই বলে নোমান ও সাজিদ খানকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান তিনি।
তার হ্যাটট্রিক ডেলিভারি ঠেকিয়ে দেওয়া সালমান সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন শাহিন শাহ আফ্রিদিকে সঙ্গে নিয়ে। আফ্রিদিকে বোল্ড করে ষষ্ঠ শিকার ধরেন মুথুসামি। পরের ওভারে সালমানকে আউট করে পাকিস্তানের ইনিংস গুটিয়ে দেন অফ স্পিনার প্রেনেলান সুব্রায়েন।
আগের দিন ইমাম-উল-হাকের মতো সালমানও সেঞ্চুরি পাননি ৭ রানের জন্য। ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ১৪৫ বলে ৯৩ রানের ইনিংস খেলেন পাকিস্তান অধিনায়ক। এই সংস্করণে তিনটি সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যান প্রথমবার কাটা পড়লেন নব্বইয়ের ঘরে।
জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে লাঞ্চ বিরতির আগে চার ওভার কাটিয়ে দেন এইডেন মার্করাম ও রায়ান রিকেলটন। বিরতির পর টেস্ট ক্যারিয়ারে তিন হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন মার্করাম।
দারুণ ডেলিভারিতে মার্করামকে কিপার রিজওয়ানের ক্যাচ বানিয়ে ৪৫ রানের শুরুর জুটি ভাঙেন নোমান। রিকেলটন এরপর বেশ কয়েকটি চার মারলেও, ভিয়ান মুল্ডারকে (৪১ বলে ১৭) বেশিদূর যেতে দেননি নোমান।
রিকেলটন ফিফটি করেন ১০৬ বলে। টনি ডি জর্জির সঙ্গে জমে ওঠে তার জুটি। ডি জর্জি ফিফটিতে পা রাখেন ৬৩ বলে।
রিকেলটনকে (১৩৭ বলে ৭১) ফিরিয়ে ১৫৩ বল স্থায়ী ৯৪ রানের জুটি ভাঙেন সালমান। স্লিপে দারুণ ক্যাচ নেন সাবেক অধিনায়ক বাবর আজম। ট্রিস্টান স্টাবসকে দ্রুত বিদায় করে তৃতীয় শিকার ধরেন নোমান। সাজিদের বলে আলগা শটে ‘গোল্ডেন ডাক’ এর তেতো স্বাদ পান ডেওয়াল্ড ব্রেভিস।
টিকতে পারেননি কাইল ভেরেইনাও। তাকে এলবিডব্লিউ করে চতুর্থ উইকেটের দেখা পান নোমান।
২ উইকেটে ১৭৪ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর হয়ে যায় ৬ উইকেটে ২০০।
দিনের বাকি কয়েক ওভার নিরাপদে কাটিয়ে দেন ডি জর্জি ও মুথুসামি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: (আগের দিন ৩১৩/৫) ১১০.৪ ওভারে ৩৭৮ (রিজওয়ান ৭৫, সালমান ৯৩, নোমান ০, সাজিদ ০, আফ্রিদি ৭, হাসান ০*; রাবাদা ১৭-২-৫৬-১, মুল্ডার ২-০-১৩-০, সুব্রায়েন ২৫.৪-১-৭৮-২, হার্মার ৩৩-৫-১০১-১, মুথুসামি ৩২-৬-১১৭-৬, মার্করাম ১-০-৬-০)
দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ৬৭ ওভারে ২১৬/৬ (মার্করাম ২০, রিকেলটন ৭১, মুল্ডার ১৭, ডি জর্জি ৮১*, স্টাবস ৮, ব্রেভিস ০, ভেরেইনা ২, মুথুসামি ৬*; আফ্রিদি ৫-২-১৫-০, নোমান ২৭-৩-৮৫-৪, সাজিদ ২৪-২-৭৩-১, হাসান ৪-২-১৪-০, সালমান ৭-২-২১-১)