Published : 28 Aug 2025, 01:31 AM
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ ও ইউনিসেফ-এর যৌথ উদ্যোগে ‘ডিজিটাল স্কিলস’ প্রোগ্রামের আওতায় ৩০ হাজার তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
জেনারেশন আনলিমিটেড (জেনইউ)-এর পাসপোর্ট টু আর্নিং (পিটুই) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এ উদ্যোগটি পরিচালিত হচ্ছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
দুই বছরের এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে একটি চুক্তিতে সই করেছেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের সিইও নাসের এজাজ বিজয় এবং বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রোগ্রামে অংশগ্রহণকারীদের অন্তত অর্ধেক হবেন নারী, যারা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বা নিজস্ব ব্যবসা শুরু করার সুযোগ পাবেন এবং সরাসরি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।
আর্থিক সাক্ষরতা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও সেলস স্কিলের মত গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
প্রকল্পটির আওতায় শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন কোর্সের ব্যবস্থা করা হবে, যেখানে সঠিক মূল্যায়নসহ, সার্টিফিকেশন, ব্লেন্ডেড লার্নিং এবং মেন্টরশিপের সুযোগ থাকবে।
তাছাড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষত প্রতিবন্ধী তরুণ-তরুনীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চালানো হবে টার্গেটেড ক্যাম্পেইন। পাশাপাশি মোবাইল-ফার্স্ট ও অফলাইন সুবিধার কারণে সংযোগজনিত সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করা সম্ভব হবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে অন্তত ৬ হাজার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণ-তরুণী বিভিন্ন খাতে চাকরির সুযোগ পাবে এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল শ্রমবাজারে টিকে থাকার মত দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও আর্থিক জ্ঞান অর্জন করবে।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের সিইও নাসের এজাজ বিজয় বলেন, “ইউনিসেফ--এর সঙ্গে এই সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা ৩০ হাজারের বেশি তরুণ জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর তরুণীদের, আধুনিক কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার মতো দক্ষতা দিতে পারব।
“ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি, উদ্যোক্তা তৈরি ও সেলস স্কিলে প্রশিক্ষণ দেবার পাশাপাশি আইসিটি, খুচরা ব্যবসা, এফএমসিজি ও আর্থিক খাতসহ বিভিন্ন সেক্টরের নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে তাদের সংযুক্ত করার মাধ্যমে তাদের অর্থবহ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং নিজেদের ব্যবসা গড়ে তুলতে সহায়তা করাই আমাদের লক্ষ্য। এর মাধ্যমে দেশের তরুণ প্রজন্ম সরাসরি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।”
ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, “বাংলাদেশে ৮ লাখের বেশি শিক্ষিত বেকার, যা গতানুগতিক শিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত তরুণদের দক্ষতা এবং চাকরির বাজারের প্রকৃত চাহিদার মধ্যে অমিলের ইঙ্গিত দেয়।”
“নারীদের জন্য এ চ্যালেঞ্জ আরো বড়। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সাথে পার্টনারশিপের মাধ্যমে ইউনিসেফ, জেনারেশন আনলিমিটেড উদ্যোগের অধীনে পাসপোর্ট টু আর্নিং কর্মসূচি চালু করবে, যা কার্যকরভাবে ৩০ হাজার প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী ও প্রতিবন্ধীদের কাছে পৌঁছাবে। এর মাধ্যমে তাদেরকে দক্ষতায় ও আত্মবিশ্বাসে এমনভাবে তৈরি করা হবে, যাতে তারা তাদের শিক্ষাকে প্রকৃত সুযোগে রূপান্তরিত করে জীবিকা সফলতা ও স্বাধীনতার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।”
পাসপোর্ট টু আর্নিং (পিটুই) প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা এই প্রোগ্রামে ইতোমধ্যে দেশব্যাপী ৩৮ হাজারের বেশি তরুণ-তরুণী অংশগ্রণ করেছে এবং মাইক্রোসফট প্রযুক্তির সহায়তায় এক হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।