Published : 07 May 2026, 07:08 PM
শত শত বছর ধরে অ্যাডভেঞ্চার পিপাসুদের অন্যতম আকর্ষণ বরফঢাকা দুর্গম উত্তর মেরু। আর্কটিক তুন্দ্রা অঞ্চল ও সেখানকার প্রাণিজগতের সঙ্গে পরিচয় ভিন্নরকম এক অভিজ্ঞতা দেয় ভ্রমণকারীদের।
ইতোমধ্যে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রসাটম আয়োজিত ‘আইসব্রেকার অব নলেজ’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশসহ ২৩ দেশের চার শতাধিক শিক্ষার্থী বিভিন্ন সময় উত্তর মেরু ভ্রমণ করেছেন।
এ বছর প্রতিযোগিতার সপ্তম আসরে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে আবারও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উত্তর মেরু ভ্রমণের সুযোগ দিচ্ছে রসাটম।
আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি হিসেবে রসাটম এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে।
প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ, রাশিয়াসহ ২৩ দেশের ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার রসাটম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দেশ থেকে নির্বাচিত বিজয়ীরা ২০২৬ সালের অগাস্টে পারমাণবিক আইসব্রেকার জাহাজে চড়ে উত্তর মেরু ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।
প্রতিযোগিতার বিজয়ী নির্বাচন প্রক্রিয়া হবে তিন ধাপে।
প্রথম ধাপে অংশগ্রহণকারীরা অনলাইনে নিবন্ধন করে বিজ্ঞানভিত্তিক একটি কুইজে অংশ নেবেন।
দ্বিতীয় ধাপ, ওয়েবিনারের মাধ্যমে রসাটম এর উন্নত প্রযুক্তি, বিশেষ করে ‘নিরাপদ আর্কটিক নেভিগেশনের উদ্ভাবন’ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হবে। এরপর অংশগ্রহণকারীরা নির্ধারিত পরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করবে।
তৃতীয় ধাপে প্রতিটি দেশ থেকে সেরা ১০ জন ফাইনালিস্ট একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে নিজেদের ধারণা তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত ভিডিও জমা দেবেন।
প্রতিযোগিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং অংশ নিতে ভিজিট করতে হবে https://goarctic.energy/ লিংকে।
সর্বশেষ ২০২৪ সালে এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আট দেশের ১৪ জন আইসব্রেকার জাহাজে করে উত্তর মেরু ভ্রমণ করেন। এর মধ্যে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কৌশিক আহমেদও ছিলেন।
রসাটম এর সহায়তায় চালু হওয়া এই প্রকল্পের লক্ষ্য, বিজ্ঞান ও পারমাণবিক প্রযুক্তির প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে তোলা। মেধাবী শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করার মাধ্যমে তাদের ক্যারিয়ার গঠনে প্রাথমিক দিকনির্দেশনা দেওয়া।
প্রতিযোগিতার গত ছয় আসরে বিশ্বের চার শতাধিক শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির মাধ্যমে উত্তর মেরু অভিযানে অংশ নিয়েছে।
বর্তমানে একমাত্র রাশিয়াই পারমাণবিক শক্তি চালিত আইসব্রেকার বহর পরিচালনা করছে। দেশটি অ্যাটম ফ্লোট বিভাগের অধীনে পরিচালিত বহরে বর্তমানে ৮টি আইসব্রেকার জাহাজ রয়েছে।