Published : 08 Apr 2023, 09:42 PM
মূল ক্যাম্পাসে ফেরার দাবির আন্দোলনের মধ্যে অবকাঠামো সংস্কারে প্রায় দুই মাস ধরে বন্ধ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট; যেটির প্রভাব পড়েছে এবার মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজনে।
ইনস্টিটিউটের ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার মধ্যে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বর্ষবরণের নিয়মিত এ আয়োজনে আগ্রহ দেখালেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাড়া না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত শোভাযাত্রা এবার আর হচ্ছে না।
চারুকলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক সুফিয়া বেগম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “চারুকলা এখন বন্ধ। আমাদের অনলাইন ক্লাস চলছে। এখানে কোনো শিক্ষার্থী নেই। তাই এ বছর আমরা মঙ্গল শোভাযাত্রা করতে পারছি না।”
তবে চারুকলায় বৈশাখ পালনের ‘ধারাবাহিকতা রক্ষায়’ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা স্ব-উদ্যোগে সড়কের দুই পাশের দেয়ালে বৈশাখী ম্যুরাল-পেইন্টিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
চট্টগ্রাম নগরীর বাদশা মিয়া সড়কে অবস্থিত এ ইনস্টিটিউট দীর্ঘদিন থেকে বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজন করছে। বৈশাখ যত এগিয়ে আসতে থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থীদের মতই বর্ষবরণের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা। তবে সংস্কার কাজ চলমান থাকায় বন্ধ পড়ে আছে চারুকলা ইনস্টিটিউটের ক্যাম্পাস। যে কারণে নিয়মিত এ আয়োজনে এবার ছেড় পড়ছে।
তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ তারা এ পরিস্থিতির মধ্যে আয়োজনে আগ্রহ দেখালেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ইনস্টিটিউটের সাড়া পাননি।
চারুকলার স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী জহির রায়হান অভি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রতি বছর শহরে চারুকলায় আমরা বৈশাখ পালন করি। তাহলে এবার কেন চারুকলাকে বাদ দিয়ে বৈশাখ পালন হবে?”
তার দাবি, “আমরা উপাচার্য ম্যাডামের সাথে দেখা করতে চেয়েছিলাম। ভিসি ম্যাডাম দেখা করেননি। প্রক্টর স্যারের কাছে গেলে, তিনি জানালেন উপাচার্যের সাথে কথা বলবেন। তবে অনুমতির জন্য আমাদের ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টরের মাধ্যমে আসতে হবে।
“কিন্তু বারবার ফোন করার পরও ডিরেক্টর কোনো রেসপন্স করছেন না। উনি কল না ধরলে, যোগাযোগটা করব কীভাবে?”
এ বিষয়ে প্রক্টর নুরুল আজিম সিকদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “চারুকলার চারজন শিক্ষার্থী আমার কাছে এসেছিল। তারা মঙ্গল শোভাযাত্রা করতে চায়। আমি তাদের বলেছিলাম, তোমরা তোমাদের ডিরেক্টরের মাধ্যমে আসো। এটার একটা প্রসিডিউর আছে, তাই প্রপার অথরিটির মাধ্যমে আসতে হয়।
“কিন্তু এরপর তারা কেউ আর আসেনি। আর যারা এসেছিল তারা সবাই পাস করা ছাত্র। অর্থাৎ রানিং কোনো স্টুডেন্ট আসেনি আমার কাছে।”
ক্যাম্পাস বন্ধের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের কাছে অনুমতি চাইতে গিয়েছিল কি না জানতে চাইলে ইনস্টিউটের পরিচালক সুফিয়া বেগম বলেন, “জানি না, ওরা আমার কাছে আসেনি বা আমার কোনো সুপারিশ নেয়নি। আমি এই ব্যাপারে কিছু জানি না।”
ক্যাম্পাসের অবকাঠামো সংস্কারের কথা বলে গত দুই মাসে তৃতীয়বারের মতো ছুটি বাড়ানো হয়েছে ইনস্টিটিউটে, ক্লাস চলছে অনলাইনে।
শ্রেণিকক্ষের ছাদ থেকে ইট-সিমেন্ট খসে পড়ায় গত বছরের ২ নভেম্বর থেকে ক্লাস বর্জন শুরু করে চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। পরে তারা ইনস্টিটিউটকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়াসহ ২২ দফা দাবিতে আন্দোলনে নামে।
২৩ জানুয়ারি থেকে আন্দোলন স্থগিত করে ক্লাসে ফিরতে রাজি হলেও অ্যাকাডেমিক ভবনের বাইরে খোলা প্রাঙ্গণে ক্লাস করে শিক্ষার্থীরা। এরপর ৩১ জানুয়ারি থেকে পুনরায় শিক্ষার্থীরা মূল ক্যাম্পাসে ফিরে যেতে নগরীর বাদশা মিয়া সড়কে চারুকলার মূল ফটকে তালা দিয়ে ক্লাস বর্জন ও আন্দোলন শুরু করে।
এর মধ্যেই ২ ফেব্রুয়ারি সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় ইনস্টিটিউট এক মাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। পরে তা আরও দুই দফা বাড়ে।
১৯৯০ সালে প্রথম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজন শুরু হয়। পরে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক পালাবদলের সূত্র ধরে তা বন্ধই হয়ে যায়।
পরে ২০১০ সালে চারুকলা বিভাগ নগরীর বাদশাহ মিয়া সড়কে স্থাপিত চারুকলা কলেজের সঙ্গে একত্রিত হয়ে ইনস্টিটিউট হলে প্রতি বছর শিক্ষার্থীরা স্বতন্ত্রভাবে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন শুরু করে।
পুরানো খবর:
চবির চারুকলা ইনস্টিটিউট বন্ধ ৬ এপ্রিল পর্যন্ত