চুয়েটে আন্দোলন দশম দিনে, ছবি-গান-কবিতায় প্রতিবাদ
ক্যাম্পাসের মূল ফটক বন্ধ রেখে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করে ছাত্রছাত্রীরা।
আগের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে টানা দশম দিনের মত আন্দোলন করেছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসের মূল ফটক বন্ধ রেখে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করে ছাত্রছাত্রীরা।
পাশাপাশি টানা পঞ্চম দিনের মতো কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।
এদিকে বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটা থেকে চুয়েট শহীদ মিনারে শুরু হয় প্রতিবাদী আলোকচিত্র প্রদর্শনী।
পরে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উপাচার্য ভবনের সামনে ‘প্রতিবাদী কনসার্ট’ নামে কর্মসূচির আয়োজন করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
প্রতিবাদী কনসার্ট চলাকালে আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে এতদিন ধরে আন্দোলন করছি। প্রতিবাদ ততদিন চলমান থাকবে যতদিন দাবি পূরণ হবে না।
“আমাদের একটাই দাবি সায়েম স্যারকে আবার ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হোক।”
আরেক ছাত্রী বলেন, “উপর মহলের যারা এখন পর্যন্ত পদক্ষেপ নিচ্ছেন না তাদের বলতে চাই, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের প্রতিবাদ ও আন্দোলন চলতেই থাকবে। প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর থামবে না।”
গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে শিক্ষার্থীদের ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’কর্মসূচি চলছে।
ইতোমধ্যে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা মশাল মিছিল, লাল কার্ড প্রদর্শন, চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে।
আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। ২১ সেপ্টেম্বর তাকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য করা হয়।
৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে তারা শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
আন্দোলনের মধ্যেই ২৪ সেপ্টেম্বর বিকালে অনলাইনে উপাচার্য হিসেবে যোগ দেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তবে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তিনি চুয়েট ক্যাম্পাসে যাননি।
রিলেটেড লিংক-
চুয়েট আন্দোলন: নবম দিনে চোখ বেঁধে প্রতিবাদ মিছিল
চুয়েটে উপাচার্য পুনর্বহালের আন্দোলন: অচলাবস্থা সপ্তম দিনে
চুয়েটে উপাচার্য পুনর্বহালের আন্দোলন: শাটডাউনে শিক্ষার্থীরা, শিক্ষকরা সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে
ভিসি বহালের আন্দোলনে অচল চুয়েট
উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা
উপাচার্য পুনর্বহালের দাবি: দ্বিতীয় দিনের মত অচল চুয়েট
তৃতীয় দিনের মত অচল চুয়েট, প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি
আন্দোলনে চুয়েট অচল: নতুন উপাচার্যকে লাল কার্ড দেখালেন শিক্ষার্থীরা
‘আমরা উনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাই না’
চুয়েটে নতুন উপাচার্য: শিক্ষার্থীদের ‘প্রত্যাখান’, লাগাতার কর্মবিরতির ডাক শিক্ষকদের
অনলাইনে যোগ দিলেন চুয়েটের নতুন উপাচার্য, ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল
