উপাচার্য পুনর্বহালের দাবি: দ্বিতীয় দিনের মত অচল চুয়েট
বুধবার সকাল থেকে চুয়েট এর মূল ফটক বন্ধ রেখে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি চলছে তাদের স্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি।
অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় দিনের মত আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।
বুধবার সকাল থেকে চুয়েট এর মূল ফটক বন্ধ রেখে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শুরু হয়েছে তাদের স্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি।
আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “চুয়েট এর উপাচার্য আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদে কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজকে আমরা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করছি। সকল শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবে।
“আমরা সকল ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছি। চুয়েটে সম্পূর্ণ শাটডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।”
এর আগে মঙ্গলবার সকালে শিক্ষার্থীরা শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন। বিকেলে তারা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে মঙ্গলবার চুয়েটে কোনো ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি। প্রশাসনিক ভবনেও কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে চুয়েট শিক্ষক সমিতিও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি একাত্মতা জানিয়েছে।
মঙ্গলবার ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি থেকে জানানো হয়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চুয়েটের সকল একাডেমিক কার্যক্রম ক্লাস, পরীক্ষা ও ল্যাব এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। অর্থাৎ ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ চলবে। তবে জরুরি ও মানবিক সেবার স্বার্থে নিরাপত্তা শাখা ও মেডিকেল সেবা এই কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।
পাশাপাশি অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ঘোষিত কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হবে না বলেও ঘোষণা করা হয়।
সোমবার খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এর আগে ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম।
দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য দেওয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে সোমবার রাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে শিক্ষার্থীরা।
সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ক্যাম্পাসের স্বাধীনতা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। হল থেকে বেরিয়ে এসে ছাত্রীরাও মিছিলে যোগ দেন। পরে রাত ১২টার দিকে তারা প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে দেন।
মঙ্গলবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসে প্রবেশের মূল ফটকে তালা দিয়ে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। এরমধ্যে মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে ক্যাম্পাসে আসেন অধ্যাপক আবু আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। তখন আন্দোলনকারীরা চুয়েট এর মূল ফটকের তালা খুলে দেন।
মঙ্গলবার রাতেও চুয়েট এর মূল ফটকে তালা লাগানো ছিল। সেখানে কিছু শিক্ষার্থী অবস্থান নিয়ে ছিলেন।
উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা
