২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬ কার্তিক ১৪৩৩

চুয়েটে সায়েমকেই কেন চান আন্দোলনকারীরা, সরকার কেন চায় না?

প্রায় এক মাস ধরে আন্দোলন চললেও সরকার এখন পর্যন্ত চুয়েট নিয়ে চুপচাপই আছে।

চুয়েটে সায়েমকেই কেন চান আন্দোলনকারীরা, সরকার কেন চায় না?

আগের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে এক মাস ধরে আন্দোলন চলছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 21 Oct 2026, 08:28 AM

Updated : 21 Oct 2026, 08:30 AM

দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় সরিয়ে দেওয়া অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে ফেরানোর দাবিতে প্রায় এক মাস ধরে আন্দোলন চলছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট)।

শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরাদের একটা অংশের এ আন্দোলনে ক্যাম্পাসের শিক্ষাক্রম প্রায় অচল হয়ে আছে।

আন্দোলনকারীরা শাটডাউনসহ অন্যান্য কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন, অন্যদিকে নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে ঢুকতে না পেরে অনলাইনে দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

২১ সেপ্টেম্বর থেকে এ পরিস্থিতি চললেও চুয়েটি নিয়ে সরকার এখনও চুপচাপই রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

সবশেষ সোমবার (১৯) অচলাবস্থা নিরসনে সুপারিশ দিতে ছয় সদস্যের পরামর্শক কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি আসার পর এ কমিটি গঠন করে কমিশন।

Image

নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমকে অপসারনের দাবিতে চুয়েটের আন্দোলন। ফাইল ছবি

৫৬ দিনের উপাচার্যকেই কেন?

চলতি বছরের ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম।

দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে বসানো হয় এ পদে।

বিষয়টি জানতে পেরে সেদিন রাতেই ক্যাম্পাসে আন্দোলন শুরু করেন একদল শিক্ষার্থী। পরের দিন সকাল থেকেই শুরু হয় শিক্ষার্থীদের লাগাতার শাটডাউন কর্মসূচি।

মাত্র ৫৬ দিন দায়িত্ব পালন করা একজনকে ফেরাতে কেন আন্দোলন, তা জানতে চাইলে আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভিসি হওয়ার বহু আগে, ২০০৫ সালে চুয়েটে শিক্ষকতা শুরুর সময় থেকে অধ্যাপক সায়েম স্যার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন।

“ভিসি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর খুব অল্প সময়েই তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে এমন একজন প্রশাসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন, যিনি আমাদের সব সমস্যা শুনেছেন। দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন।”

চুয়েটের শিক্ষার্থীরা যেন বিশ্বমানের শিক্ষা, গবেষণা, স্কলারশিপ ও চাকরির সুযোগ পায় সেলক্ষ্যে অনেক উদ্যোগ অধ্যাপক সায়েম নিয়েছেন বলেও দাবি এই শিক্ষার্থীর।

আন্দোলনে নামা আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “ছাত্র-ছাত্রীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তির সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক চাকরির ক্ষেত্র তৈরি করার প্রচেষ্টাও চালাচ্ছিলেন সায়েম স্যার।

“এগুলো আমাদের কাছে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, উনার আগের কাজের ধারাবাহিকতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে এগুলো বাস্তবায়নের সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।”

আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের মতো একই ধরনের মূল্যায়ন করেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. মইনুল ইসলাম।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “উনি যেভাবে কাজ শুরু করেছিলেন এবং অল্প সময়ে যেসব উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তাতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমরা শিক্ষকরাও মনে করেছিলাম, চুয়েট উনার নেতৃত্বে স্বপ্নের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে।

“আমাদের ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা জীবন শেষে বিদেশে উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ লাভের পাশাপাশি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে যে ধরনের কোলাবোরেশন প্রয়োজন, সেই যোগাযোগ উনার আছে।”

Image

প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর প্রশাসনের সহায়তায় ক্যাম্পাস ছাড়েন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। ফাইল ছবি

তাহলে অপসারণ কেন?

উপাচার্য পদে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে ফেরানোর আন্দোলনে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি শুরু করেন শিক্ষকরা। চুয়েট শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় নেওয়া এ কর্মসূচি এখনো চলছে।

আন্দোলনের সূত্রপাত শিক্ষার্থীদের হাতে হলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসন বা সরকারের কোনো পর্যায় থেকে তাদের সঙ্গে বসার খবর পাওয়া যায়নি।

কোনো কোনো আন্দোলনকারী মনে করেন, অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরানোর নেপথ্যে রাজনৈতিক নেতাদের টানাপড়েন থাকতে পারে।

টানাপড়েনের ধারণা তৈরি হওয়ার পেছনে চুয়েটের ওয়েবসাইটে ‘একাডেমিক নিউজ’ শাখার দুটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির কথা সামনে আনছেন কেউ কেউ।

এরমধ্যে ২৫ অগাস্টের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের সঙ্গে চুয়েটের তৎকালীন উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের সাক্ষাত বিষয়ক।

ওই সংবাদের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন ঢাকায় প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন অধ্যাপক সায়েম।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লেখা হয়, “প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কে চুয়েটের সার্বিক বিষয় তুলে ধরেন ভাইস চ্যান্সেলর মহোদয়। একইসঙ্গে তিনি চুয়েটের উন্নয়নে প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। প্রতিমন্ত্রী চুয়েটের অধিকতর উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি কামনা করেন এবং সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।”

এরপর ৩০ অগাস্ট আরেকটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি আসে, যেটা চুয়েটের ২৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষ্যে।

তাতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের ১ সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

১ সেপ্টেম্বরের সেই অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। এর ২১ দিন পর ঢাকায় অবস্থানকালে পদ হারান অধ্যাপক সায়েম।

Image

অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিতে সংহতি জানিয়ে চুয়েক শিক্ষক সমিতির সংবাদ সম্মেলন।

অধ্যাপক সায়েমকে কেন সরানো হয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে আন্দোলনরত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মন্তব্য করতে রাজি হননি।

চুয়েটের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটা নিরসন করা শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা স্থানীয় প্রশাসনের বিষয়। কী জন্য চুয়েটে আন্দোলন হচ্ছে, সেটাও স্পষ্ট নয়। এর আগেও সেখানে ভিসি পরিবর্তন হয়েছে, তখন এরকম কোনো পরিস্থিতি হয়নি।”

চুয়েটের সংকট নিরসনে কোনো পক্ষ যোগাযোগ করেছে কিনা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, “এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নেবে। আমার সঙ্গে কারো কোনো যোগাযোগ হয়নি। এটা আমার বিষয়ও না। আমি তো এটার দায়িত্বশীল নই।”

সেশন জটের আশঙ্কা

আন্দোলন চালিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশঙ্কা এতে তারা পিছিয়ে পড়ছেন। পরীক্ষা ও ক্লাস না হওয়ায় যথাসময়ে টার্ম শেষ হবে না। ফলে সেশন জটের সৃষ্টি হতে পারে।

আন্দোলনরত এক ছাত্রী বলেন, “চুয়েটের প্রায় সব শিক্ষার্থী একটিমাত্র প্রাণের দাবি নিয়ে আন্দোলন করছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভিসি-প্রো ভিসি সরানোর দাবিতে আন্দোলন হয়। এখানে তার উল্টো। আমরা ভালো একাডেমিক পরিবেশ চাই বলেই সায়েম স্যারকে পুনবর্হালের দাবি জানাচ্ছি।

“কিন্তু সরকার বা প্রশাসনের দিক থেকে আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। আমরা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরতে চাই। আর দেরি না করে সরকারের উচিত দ্রুত দাবি মেনে আমাদের ক্লাসে ফেরার সুযোগ করে দেওয়া।”

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মইনুল ইসলাম বলেন, “বছরে আমাদের দুটি টার্ম। প্রথম টার্মের পর এক সপ্তাহ এবং দ্বিতীয় টার্মের পর তিন সপ্তাহ ছুটি থাকে। শিক্ষার্থীরা রাজি হলে এখন পর্যন্ত যে গ্যাপ হয়েছে, তারা টার্মের পরের ছুটিগুলো না কাটালে পূরণ করা সম্ভব।

Image

চুয়েটের উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলন। ফাইল ছবি

সরকার কেন চুপ

চুয়েট শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সামিউন বাসির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ৫ সেপ্টেম্বর তারা ঢাকা গিয়েছিলেন।

“সেখানে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আগে আমরা লিখিতভাবে জানিয়েছিলাম। সেদিন মৌখিকভাবে আমাদের দাবির যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করেছি। আমাদের দাবি, অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করা হোক।”

সামিউন বাসির বলেন, “উনারা সব শুনেছেন। পরে সিদ্ধান্ত নিয়ে জানাবেন বলেছেন। আমরা এখন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।”

নবনিযুক্ত উপাচার্যের সঙ্গে শিক্ষক সমিতির কোনো ধরনের যোগাযোগ হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা কোনো যোগাযোগ করিনি।”

সরকারের দিক থেকে শিগগিরই কোনো সিদ্ধান্ত না হলে চুয়েট শিক্ষক সমিতি সাধারণ সভা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “সরকারের দিক থেকে কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।”

বর্তমান পরিস্থিতি বিষয়ে জানতে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে গত কয়েক দিনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটস অ্যাপে বক্তব্য চেয়ে প্রশ্ন করলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

দায়িত্ব গ্রহণের ৫৬ দিনের মাথায় কেন আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে দেওয়া হলো, সে বিষয়ে সরকারের তরফে কিছু জানানো হয়নি। আবার এক মাস ধরে যে আন্দোলন চলছে, সে বিষয়েও সরকার চুপ রয়েছে।

সরকারের এ নিরবতার কারণ জানতে শিক্ষামন্ত্রীকে এহছানুল হক মিলনকে কয়েকবার ফোন দেওয়া হয়েছে। প্রথমবার ফোন ধরে ব্যস্ত থাকার কথা বলে তিনি সংযোগ কেটে দেন। এরপর আর ফোন ধরেননি।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ফোন দেওয়া হয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব আবদুল খালেককে। তবে তিনি দেশের বাইরে আছেন বলে ফোন কেটে দেন।

আরও পড়ুন

ভিসি বহালের আন্দোলনে অচল চুয়েট

চুয়েট: অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা করলেন উপাচার্য, ১৫ সদস্যের নয় জনই অনুপস্থিত

৩০ ঘণ্টা পর ডিসি-এসপির সঙ্গে ক্যাম্পাস ছাড়লেন চুয়েটের অবরুদ্ধ ভিসি

চুয়েট: নতুন উপাচার্যকে ‘অসহযোগিতার’ ঘোষণা শিক্ষক-কর্মচারীদের

পদত্যাগ করিনি, মুচলেকাও দিইনি, ক্যাম্পাসে ফিরব: চুয়েট ভিসি

চুয়েট: উপাচার্যসহ অবরুদ্ধদের নাস্তা দিল আন্দোলনকারীরা, ভবনের বিদ্যুৎ-পানি বন্ধ