চুয়েটে নতুন উপাচার্য: শিক্ষার্থীদের ‘প্রত্যাখান’, লাগাতার কর্মবিরতির ডাক শিক্ষকদের
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের সমিতিও কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-চুয়েটের উপাচার্য পদে যোগ দেওয়া অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে ‘প্রত্যাখান’ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার দুপুরে তাদের এ বিক্ষোভ মিছিল থেকে আগের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়।
একই দাবিতে আগামী রোববার থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি।
পাশাপাশি চুয়েট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি একাত্মতা জানিয়ে তারাও কর্মবিরতি কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।
এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির পর সেদিন রাত থেকেই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।
আগের উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের ‘শাটডাউন’ কর্মসূচিতে অচল হয়ে পড়েছে চুয়েট।
সবশেষ বৃহস্পতিবার বিকালে অনলাইনে উপাচার্য পদে যোগ দেন নতুন দায়িত্ব পাওয়া অধ্যাপক শরীফুল আলম।
এরপর বৃহস্পতিবার রাতে ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মশাল মিছিল করেন।
উপাচার্য পদে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের যোগদান ‘প্রত্যাখ্যান করে’ শুক্রবার দুপুরে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তন থেকে তাদের পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘ভিসি হিসেবে কাকে চাই, সায়েম স্যারকেই আবার চাই’, ‘মোদের দাবি একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান ঘুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে মিছিল শেষ হয়। সেখানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্যের যোগদানকে ঘিরে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন। সমাবেশ থেকে পরবর্তী কর্মসূচি-‘দেয়াল লিখন’ এর ঘোষণা দেন।
আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, “গতকাল আমরা জেনেছি, উপাচার্য পদে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম যোগদানপত্র পাঠিয়েছেন। এর প্রতিবাদেই আজ আমরা বিক্ষোভ মিছিল করেছি। আমরা কোনোভাবেই অধ্যাপক শরীফুল আলমকে উপাচার্য হিসেবে চাই না।”
এদিকে অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে রোববার থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি ঘোষণা করেছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি।
জানতে চাইলে চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ ও নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমরা রোববার থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছি।
“বৃহস্পতিবার রাতে অনলাইনে শিক্ষক সমিতির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।”
তবে হল ও জরুরি কার্যক্রম কর্মবিরতির আওতামুক্ত থাকবে, বলেন তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে ক্যাম্পাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির সভাপতি বলেছেন, তারা নতুন উপাচার্যকে চান না।
গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম।
২১ সেপ্টেম্বর তাকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
মঙ্গলবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসের মূল ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
আগের খবর:
অনলাইনে যোগ দিলেন চুয়েটের নতুন উপাচার্য, ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল
‘আমরা উনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাই না’
তৃতীয় দিনের মত অচল চুয়েট, প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি
উপাচার্য পুনর্বহালের দাবি: দ্বিতীয় দিনের মত অচল চুয়েট
উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা
