২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯ আশ্বিন ১৪৩৩

তৃতীয় দিনের মত অচল চুয়েট, প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি

শিক্ষার্থীরা চিঠিতে লিখেছে, “সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আমাদের কোনো ব্যক্তিগত অবস্থান নেই। আমরা অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যারকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহাল চাই।”

তৃতীয় দিনের মত অচল চুয়েট, প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি

অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে তৃতীয় দিনের মত অচল চুয়েট। বৃহস্পতিবার এই দাবিতে ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 24 Sep 2026, 03:31 PM

Updated : 24 Sep 2026, 03:31 PM

অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে তৃতীয় দিনের মত ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে তারা ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেন।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক সায়েমকে অব্যাহতি এবং নতুন উপাচার্য নিয়োগসংক্রান্ত দুটি প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবি জানান।

মানববন্ধন চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘ভিসি কে, ভিসি কে, সায়েম স্যার ছাড়া আবার কে?’, ‘গর্জে উঠুক রাজপথ, সায়েম স্যারের প্রত্যাবর্তন হোক’, ‘দাবি মোদের একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’ ইত্যাদি স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

মানববন্ধনে চুয়েটের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তফা খালিদ বিন শামস আরিয়ান প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে লেখা একটি খোলা চিঠি পাঠ করেন।

সেখানে বলা হয়, “আমরা দিনের পর দিন ক্লাস, পরীক্ষা ও ল্যাব থেকে দূরে আছি। যে সময়টুকু আমাদের পড়ার টেবিলে, গবেষণাগারে কিংবা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কাটানোর কথা, সেই সময়টুকু এখন কাটছে অনিশ্চয়তা, অবস্থান আর অপেক্ষার মধ্যে। এই সংগ্রামের প্রতিটি দিন আমাদের কাছ থেকে কিছু না কিছু কেড়ে নিচ্ছে।”

উপাচার্য পরিবর্তনের প্রজ্ঞাপনে ‘আকস্মিক পরিবর্তনের’ কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি দাবি করে চিঠিতে বলা হয়, “আমাদের আপত্তি নতুন উপাচার্যের ব্যক্তি বা যোগ্যতা নিয়ে নয়। এই অল্প সময়েই অধ্যাপক সায়েম স্যারের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যে আস্থা তৈরি হয়েছিল এবং শিক্ষা, গবেষণা, উচ্চশিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের সুযোগ নিয়ে যে কাজ ও পরিকল্পনাগুলো শুরু হয়েছিল, আমরা সেই আস্থা ও ধারাবাহিকতা হারাতে চাই না।”

শিক্ষার্থীরা বলেন, “এই দাবির জন্য আমরা যে মূল্য দিচ্ছি, সেটিও ছোটো নয়। আমাদের ক্লাস থেমে আছে, ল্যাব থেমে আছে, পরীক্ষা অনিশ্চিত। একেকটি দিন চলে যাওয়ার অর্থ একেকটি ব্যাচের একাডেমিক ক্যালেন্ডার আরও পিছিয়ে যাওয়া; কারও ইন্টার্নশিপ, কারও স্কলারশিপের আবেদন, কারও উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি, কারও চাকরির পরিকল্পনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়া।”

চিঠিতে বলা হয়, “তবু আমরা দাঁড়িয়ে আছি। কারণ কিছু দাবি শুধু সুবিধা-অসুবিধার হিসাব দিয়ে মাপা যায় না; কিছু জায়গায় নিজের ক্ষতি জেনেও নিজের বিশ্বাসের পাশে দাঁড়াতে হয়। এই অবস্থান আমাদের জন্য উৎসব নয়, ছুটি নয়, কোনো রোমাঞ্চও নয়। এর পেছনে আছে ঘুমহীন রাত, পড়াশোনার ক্ষতি, পরিবারের উদ্বেগ, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় এবং প্রতিদিন আরও পিছিয়ে পড়ার চাপ।”

শিক্ষার্থীরা বলছেন, “আমরা এই ত্যাগকে দীর্ঘ করতে চাই না; কিন্তু এত কিছু পর কোনো সমাধান ছাড়াই ফিরে যাওয়াটাও আমাদের কাছে সেই ত্যাগকে অর্থহীন করে দেওয়ার মত।

“আমাদের অবস্থান তাই স্পষ্ট এবং সীমিত। সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আমাদের কোনো ব্যক্তিগত অবস্থান নেই। আমরা অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যারকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহাল চাই। একই সঙ্গে চাই এই সংকটের দ্রুত সমাধান, যাতে আর একটি দিনও অকারণে নষ্ট না হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রমে আমরা ফিরে যেতে পারি।”

খোলা চিঠিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, “আমরা আমাদের দাবি পূরণ হতে দেখতে চাই, আবার ক্লাসে ফিরতে চাই, ল্যাবে ফিরতে চাই, পরীক্ষার হলে ফিরতে চাই।

“অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যারকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহালের মাধ্যমে এই দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটুক- এটাই আমাদের একমাত্র প্রত্যাশা।”

গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। ২১ সেপ্টেম্বর তাকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য করা হয়।

৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া শাটডাউন কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করছেন। বুধবার দ্বিতীয় দিনের মত কর্মসূচি চলে।

বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসের মূল ফটক বন্ধ রেখে ভেতরে মানববন্ধন করেন তারা।

পুরানো খবর:

উপাচার্য পুনর্বহালের দাবি: দ্বিতীয় দিনের মত অচল চুয়েট
উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা
ভিসি বহালের আন্দোলনে অচল চুয়েট