‘আমরা উনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাই না’
নতুন দায়িত্ব পাওয়া উপাচার্যের বিষয়ে চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ এ মন্তব্য করেন।
উপাচার্য পদে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) শিক্ষক সমিতি।
আর নতুন দায়িত্ব পাওয়া অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের বিষয়ে সমিতির সভাপতি বলেছেন, “আমরা উনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাই না।”
বৃহস্পতিবার বিকালে ক্যাম্পাসে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন সমিতির নেতারা।
সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। নতুন উপাচার্য করা হয় শেখ শরীফুল আলমকে।
এই ‘আকস্মিক পরিবর্তনের’ ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
“একাডেমিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে, যা আমাদের প্রিয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে প্রলম্বিত করছে। আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।”
চুয়েট শিক্ষক সমিতির সিদ্ধান্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, “জারি করা প্রজ্ঞাপনসমূহ অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করা হোক।”
গত ২৭ জুলাই চুয়েট উপাচার্যের দায়িত্ব পান বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। ২১ সেপ্টেম্বর তাকে সরিয়ে উপাচার্যের দায়িত্ব দেওয়া হয় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে।
৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। তারা অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে এলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে উঠবে কি না, শিক্ষক সমিতির সংবাদ সম্মেলনে সেই প্রশ্ন তোলেন এক সংবাদকর্মী।
জবাবে সমিতির সভাপতি বলেন, “উনি এলে পরিস্থিতি ঘোলা হবে কি না, এটা আমরা জানি না। কিন্তু আমরা উনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাই না।”
তিনি এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত সবাই করতালি দেন। আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’।
অধ্যাপক আহসান উল্লাহ বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে এ সংকটের একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান সম্ভব।”
অল্প সময়ের সুরাহা না হলে চুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী বিভিন্ন কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন বলে মন্তব্য করেন মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ।
তিনি বলেন, “দাবি আদায়ে রোববার থেকে অবস্থান ধর্মঘট ও কর্মবিরতি পালন করব। নতুন কর্মসূচি থাকলে আপনাদের যথাসময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।”
