Published : 13 Oct 2025, 11:57 PM
প্রচার-প্রচারণার পর্বে ইতি টানলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) এবং হল সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীরা।
সোমবার মধ্যরাত রাত পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের আশপাশের ঝুপড়ি, ক্যাম্পাসের রেল স্টেশন, বিভিন্ন বিভাগ ও হলগুলো ছিল নির্বাচনের প্রচারে সরগরম।
এদিন ছিল প্রচারের শেষদিন। বিভিন্ন সংগঠন ও প্যানেলের প্রাথীরা সাংগঠনিকভাবে ও ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন স্থানে জোর নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন। প্রার্থীরা সশরীরের বাইরে অনলাইনেও প্রচার চালিয়েছেন।
সোমবার রাত ১২টায় শেষ হয় চাকসু নির্বাচনের ১৮দিনের প্রচারণা। মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চাকসু ভোটের প্রচারণা শুরু হয়েছিল।
ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোটের‘ প্রার্থীরা সোমবার শেষদিনে বিভিন্ন অনুষদ, ঝুপড়ি, রেল স্টেশন, শাটল ট্রেনসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচার চালান।
এই প্যানেলের ভিপি প্রার্থী ইব্রাহীম হোসেন রনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা শেষ দিনে ক্যাম্পাসের প্রায় সব জায়গায় একা অথবা প্যানেলের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রচার চালিয়েছি।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় রেল স্টেশন চত্বরে ‘প্রজেকশন মিটিং’ হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে আমাদের প্যানেলের প্রচার শেষ হবে।
চাকসুতে ছাত্রদলের প্যানেলের প্রার্থীরা কলা ভবন, ঝুপড়ি, বিভিন্ন আবাসিক হল ও অনুষদে প্রচার চালিয়েছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় রেল স্টেশন চত্বর, শাটল ট্রেনেও তারা জোর প্রচার চালান।
রাতে শামসুন্নাহ হলে ‘প্রজেকশন মিটিংয়ের’ মাধ্যমে তাদের প্রচারণা শেষ হচ্ছে বলে জানান জিএস প্রার্থী শাফায়াত হোসেন।
তিনি বলেন, “আমরা দিনভর প্রচার চালিয়েছি এবং শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে ভোট চেয়েছি। তাদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সাড়া মিলছে।”
বুধবারের ভোট সুষ্ঠু হবে আশা প্রকাশ করে শাফায়াত বলেন, “আশা করছি, শিক্ষার্থীদের রায় আমাদের পক্ষে আসবে।”
অপরদিকে বাম সংগঠন ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্যানেল ‘বৈচিত্র্যের ঐক্যের‘ভিপি প্রার্থী ধ্রুব বড়ুয়া জানান, দিনভর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে প্রচার চালানো হয়েছে। এছাড়া রাতে রেল স্টেশন চত্বরে নির্বাচনি সমাবেশ করেছি।
ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের যৌথ প্যানেল দ্রোহ পর্ষদের প্রার্থীরা পথ নাটকের মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচার চালিয়েছেন।
এ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী রিজু লক্ষ্মী অবরোধ বলেন, “আমরা বিভিন্নভাবে প্রচারণা করেছি। রেল স্টেশনে পথনাটক ছাড়াও বিভিন্ন ফ্যাকাল্টি, অনুষদের ঝুপড়িতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে ভোট চেয়েছি। আমরা সুষ্ঠু ভোট প্রত্যাশা করি।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বশেষ চাকসু নির্বাচন হয় ১৯৯০ সালে। প্রায় তিন যুগ পর ১৫ অক্টোবর ভোট হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ২৭ হাজার ৫১৬, যার মধ্যে ছাত্রী ভোট ১১ হাজার ৩২৯। চাকসু নির্বাচনে মোট ১৩টি প্যানেলে ৪১৫ জন এবং ১৪টি হল ও একটি হোস্টেলের নির্বাচনে মোট প্রার্থী ৪৯৩ জন।