Published : 16 Jul 2026, 02:10 PM
ছাত্রশিবির হয়ে সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে যোগ দেওয়া সাদিক কায়েম ডাকসু ভিপি পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন।
বৃহস্পতিবার নিজের ফেইসবুক পোস্টে তিনি বলেন, “জুলাইয়ের ৯ দফার মধ্যে ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের জন্য চাপ দেয় শিবির। কিন্তু আব্দুল কাদের (বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা) সে বিষয়ে সম্মত হয়নি। পরবর্তীতে আলোচনার ভিত্তিতে লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের বিষয়ে দফা সংযুক্ত করা হয়।”
সেই ছাত্রশিবিরই এখন ‘সবচেয়ে বড়’ লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র সংগঠন মন্তব্য করে রাশেদ বলেন, “জাতীয় নির্বাচনের সময় ডাকসুর বর্তমান ভিপিসহ ডাকসুর অধিকাংশ নেতারা দাঁড়িপাল্লার পক্ষে খ্যাপ মেরেছে। এখন আবার ডাকসুর ভিপি থাকা অবস্থায় সাদিক কায়েম শিবির থেকে পদত্যাগ করে জামায়াতে যোগদান করেছে এবং জামায়াতের পক্ষ থেকে দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী হয়েছেন!
“অথচ জুলাইয়ের সময় ও ছাত্র সংসদ নির্বাচনের আগে তারা লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার ওয়াদা করেছিল। কিন্তু এখন তারা ওয়াদা ভঙ্গ করে প্রকৃতপক্ষে শহীদের রক্তের সাথে বেইমানি করেছে। সাদিক কায়েমও জামায়াতে যোগদান করে ডাকসু ভিপি থাকার নৈতিকতা হারিয়েছে।”
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘প্রতারণার জন্য’ অনতিবিলম্বে ক্ষমা চাইতে এবং ভিপি পদ থেকে সরে দাঁড়াতে সাদিক কায়েমের প্রতি আহ্বান জানান রাশেদ।
এর আগে গত সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদকের পদ ছাড়েন সাদিক কায়েম। সেদিন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ এক বার্তায় বলেছিলেন, “বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ষাণ্মাসিকে নেতাদের সাংগঠনিক ছুটি হয়েছে।”
ওই বার্তায় সাদিক ছাড়াও শিবিরের আটজন কেন্দ্রীয় নেতার পদ ছাড়ার তথ্য দেওয়া হয়। তারা হলেন, কেন্দ্রীয় মিডিয়া সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ শাহেদী, কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক শরীফ মাহমুদ, কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার সম্পাদক মুহিবুর রহমান মুহিব, কেন্দ্রীয় প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ব্যবসায় শিক্ষা সম্পাদক নুরুল হুদা, কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক আরাফাত হোসেন মিলন, কেন্দ্রীয় বিতর্ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান আরমান, কেন্দ্রীয় দাওয়াহ সম্পাদক শাহীন আহমেদ।
এরপর তারা বুধবার বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে অভ্যুত্থানের সময় আলোচনায় আসেন সাদিক কায়েম। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাত্রশিবিরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সবশেষ তিনি শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব সামলেছেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে অনেকদিন ধরেই সাদিক কায়েমের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে সাদিক কায়েমকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।