১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলা নববর্ষে জগন্নাথের বর্ণিল আয়োজন

প্রথমবারের মত দুই দিনব্যাপী নববর্ষ উদযাপনের আয়োজন করা হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Apr 2026, 03:01 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:24 PM

'বৈশাখের আবাহন, ঐক্য-শান্তি-উত্তরণ' প্রতিপাদ্যে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। 

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার থেকে দুই দিনব্যাপী নানা ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

এই আয়োজনে মেলা, গ্রামীণ খেলাধুলা, নাগরদোলা, কনসার্ট, বাউল ও লোকজ সংগীত পরিবেশনা, আদিবাসী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবেশনা এবং বইমেলা থাকছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চ ও পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে আয়োজিত বৈশাখী মেলা উদ্ভোধন করবেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্‌দীন।

মঞ্চ, কনসার্ট ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন উপকমিটির আহ্বায়ক ও চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক বজলুর রশিদ খান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্যের উদ্যোগে এবার প্রথমবারের মত দুই দিনব্যাপী নববর্ষ উদযাপনের আয়োজন করা হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য একটি প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা। 

“আমরা আশা করছি, শিক্ষার্থীরা আনন্দ ও উৎসাহের সঙ্গে এ আয়োজনকে উপভোগ করবে। আয়োজনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে আশেপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং পুরান ঢাকার বাসিন্দাদেরও এতে যুক্ত করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে বৈশাখী শোভাযাত্রান জন্য ‌বিভিন্ন ধরণের ফুল ও পাখির নকশা এবং প্রতিকৃতি তৈরী করা হয়েছে। লোকজ নকশাগুলোর মধ্যে রয়েছে তিন রকমের ফুল, দুই রকমের পাখি, চরকা, ফড়িং ও প্রজাপতি। এছাড়া চলমান যুদ্ধ-বিগ্রহের মধ্যে শান্তির প্রতিক হিসেবে 'শ্বেত পায়রা', ঘুম জাগানিয়া প্রতিকৃতি হিসেবে বর্ণিল মোরগের প্রতিকৃতিও রয়েছে।

এ আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রও অংশ নিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পুরান ঢাকার কলেজিয়েট স্কুল, হীড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, গভ. মুসলিম হাই স্কুল, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি এবং পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে।

গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ। প্রথম দিন লোকজ সংগীত পরিবেশনায় থাকবেন আব্দুল কুদ্দুস বয়াতী এবং দ্বিতীয় দিনের কনসার্টে থাকবে 'লালন ব্যান্ড'। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, আবৃত্তি সংসদ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রঙ্গভূমি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ব্যান্ড মিউজিক অ্যাসোসিয়েশনের পরিবেশনা থাকবে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত অনুষ্ঠানসূচিতে বরা হয়েছে, মঙ্গলবার প্রথমদিনের অনুষ্ঠানে সকার ৮ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হবে। সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চারুকলা অনুষদের আয়োজনে 'বৈশাখী শোভাযাত্রা' শুরু হয়ে রায়সাহেব বাজার ও ভিক্টোরিয়া পার্ক ঘুরে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে শেষ হবে। 

দুদিনে যখন যা

সংগীত বিভাগের আয়োজনে বেলা ১১টায় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এরপর নাট্যকলা বিভাগের পরিবেশনা 'নব আবাহন',  থাকছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পরিবেশনা। দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে। 

দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, আবৃত্তি সংসদ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রঙ্গভূমির পরিবেশনার পর বুলবুল ললিতকলা একাডেমির আয়োজনে 'মরমী লোকগীতি শিল্পীগোষ্ঠী'-এর পরিবেশনা থাকছে। 

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা থাকবে। বিকাল সোয়া ৪টায় শুরু হবে প্রথম দিনের শেষ আয়োজন আবদুল কুদ্দুস বয়াতির লোকজ সংগীত। 

দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান শুরু হবে দুপুর ২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। এর আগে ওইদিন ক্লাস পরীক্ষা স্বাভাবিকভাবে চলমান রাখার নির্দেশণা দিয়েছে শিক্ষালয়টি। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যান্ড মিউজিক অ্যাসোসিয়েশনের পরিবেশনা ও বিকাল ৫ টায় সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠান হবে।

বিকাল সাড়ে ৫টায় শুরু হবে সর্বশেষ আয়োজন লালন ব্যান্ডের কনসার্ট।

সার্বিক আয়োজন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদদীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাঙালি জীবনের অসাম্প্রদায়িক, সর্বজনীন একটি উৎসব হলো পহেলা বৈশাখ, বর্ষবরণের দিন। এবার প্রপথমবারের মত বাংলা নববর্ষ দুইদিন উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ উদযাপনে গ্রাম বাঙলার ঐতিহ্য ফুটে উঠবে।

"সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল টিমের সাথে সমন্বয় করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।"