Published : 07 Sep 2025, 03:36 PM
‘কৃত্রিম লাইন’ তৈরির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সেজন্য লাইন ব্যবস্থাপনায় জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।
রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে আরও নয়টি দাবি ও আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটি। এরপর তাদের লিখিত বক্তব্য তারা ডাকসুর নির্বাচন কমিশনের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান শিক্ষক নেটওয়ার্কের সংগঠক, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক কামাল চৌধুরী এবং তাসনীম সিরাজ মাহবুব।
তাসনীম সিরাজ মাহবুব বলেন, “আমরা বুথের বাইরে লাইন ব্যবস্থাপনার জন্য জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছিলাম মৌখিকভাবে। আজ সুনির্দিষ্টভাবে দাবি জানাচ্ছি-শিক্ষক এবং সহকারী হিসাবে একজন অফিসার নিয়োগ দিতে হবে।”
ক্যাম্পাসে সর্বসাধারণের প্রবেশ বন্ধ করতে গিয়ে ঢোকার পথে বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন কামাল চৌধুরী।
তিনি বলেন, “আমরা এর আগে বিভিন্ন ফোরামে বলেছিলাম, সর্বসাধারণের প্রবেশপথ বন্ধ না করে কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হোক, বুথের বাইরে লাইন জ্যামিং এড়াতে শৃঙ্খলা নিশ্চিতের জন্য অফিসার ও শিক্ষক নিয়োগ করা হোক।
“আমরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম- সর্বসাধারণের প্রবেশপথ বন্ধ থাকলেও যারা বিঘ্ন ঘটাতে চায় তাদের প্রবেশ রোধ করা যায় না। বরং প্রবেশ পথ বন্ধের কারণে যে জ্যাম তৈরি হয় তাতে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভোট দিতে আসার ব্যাপারে মনস্তাত্বিক বাধা তৈরি হয়।”
আইডি কার্ড দেখে কারা ঢোকার ব্যবস্থা করবেন, সেটা স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আরও প্রশ্ন তুলেছিলাম, যাদেরকে প্রবেশপথে আইডি দেখে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেবার দায়িত্ব দেওয়া হয়, তারা কারা? বিভিন্ন সময়ে আমরা দেখেছি শিক্ষার্থীদের এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং জিজ্ঞেস করলেও তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। এ বিষয়ে এমনকি প্রশাসনও লিখিতভাবে জবাব দেয়নি।
“আমরা আবারও প্রশ্ন করছি, কাদেরকে কর্তৃপক্ষ এই দায়িত্ব দিচ্ছে, সে বিষয়ে আমাদের জানার অধিকার আছে। এগুলো প্রকাশ করতে হবে।”
বোরকা পরিহিতা নারী ভোটারদের পরিচয় নিশ্চিতে নারী শিক্ষকদের যুক্ত করার দাবি জানিয়ে তাসনীম সিরাজ মাহবুব বলেন, “আমরা জানি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সব ধরনের পোশাক পরিহিতা নারীর বিচরণ রয়েছে। এই বৈচিত্র্য থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে যে কোনো পুরুষের জন্য বোরকা পরা নারীদের চেহারা দেখে পরিচয় শনাক্ত করা অনেক নারীর কাছেই গ্রহণযোগ্য নয়।
“তাই পুরুষদের পাশাপাশি নারী শিক্ষকদেরও থাকতে দিতে হবে, যাতে তারা স্বাক্ষরসহ, চেহারা দেখে পরিচয় যাচাই করতে পারেন–এমন ব্যবস্থা করতে হবে।
ভোটের সময় বাড়িয়ে বিকাল ৫টা পর্যন্ত করার আগের দাবি পূরণ না হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা দেখলাম সময় পরিবর্তন করে ৫টা উল্লেখ করা হয়নি। বরং আমাদের বলা হয়েছে ৪টা পর্যন্ত যারা আসবে তাদের ভেতরে ঢুকিয়ে ভোট দিতে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে আমাদের দাবি, ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণের সময় বাড়াতে হবে।”
পোলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রের ভেতরে থাকার ব্যবস্থা করার দাবির পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মী ও পোলিং এজেন্টদের জন্য গাইডলাইন প্রকাশের দাবি জানিয়েছে শিক্ষক নেটওয়ার্ক।
গুজব বা আতঙ্ক সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে তাসনীম সিরাজ মাহবুব বলেন, “নির্বাচনের আগে গুজব বা আতংক ছড়িয়ে কোনো পোস্ট দিলে এবং এর মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রে আসা নিরুৎসাহিত করলে, পোস্টদাতার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিতে হবে। অপরিচিত কোনো আইডি থেকে মিথ্যা তথ্য ছড়ালে সাথে সাথে ব্যবস্থা নিতে হবে।”
তিনি বলেন, “পর্যবেক্ষকরা দীর্ঘ সময় ঘুরে ঘুরে দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের মধ্যে অনেকে বয়স্ক। তাদের সুবিধার্থে প্রতিটি কেন্দ্রে বিশ্রামকক্ষ নির্দিষ্ট করতে হবে। কোনো কারণে পোলিং এজেন্টের সংখ্যা বেশি হলে, এবং পালা করে কাজ করার প্রয়োজন হলে তারাও যেন এই বিশ্রামকক্ষে সময় কাটাতে পারেন।
“নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো অস্বচ্ছতা থাকলে নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনকে জবাবদিহিতা করতে হবে।”
অন্যদের মধ্যে শিক্ষক নেটওয়ার্কের সংগঠক মোশাহিদা সুলতানা ঋতু, তাহমিনা খানম ও কাজলী শেহরিন ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।