Published : 19 Nov 2025, 10:46 PM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি বাতিলের পর রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজ নিয়ে গঠিত হতে যাওয়া ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশের খসড়া পুণর্মূল্যায়ন ও পরিমার্জন করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রস্তাবিত কাঠামো তুলে ধরে প্রকাশ করা খসড়া অধ্যাদেশের ওপর অংশীজনদের দেওয়া মতামত ‘বিবেচনায় নিয়ে’ এই পরিমার্জনের কাজটি করা হচ্ছে।
তবে পরিমার্জনের পর অধ্যদেশ চূড়ান্ত করে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠন করতে কতটা সময় লাগবে-সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।
এমন বাস্তবতায় ‘অস্তিত্ব পেতে যাওয়া’ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রথম ব্যাচে ভর্তি হাওয়া ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হচ্ছে আগামী রোববার।
মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অতিরিক্ত সচিব আলিফ রুদাবা বুধবার বিকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অধ্যাদেশের খসড়ার ওপর আমরা ছয় হাজারের বেশি মতামত পেয়েছি অনলাইনে ও অফলাইনে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে আলোচনা করেও খসড়ার ওপর মতামত সুপারিশ নেওয়া হয়েছে। সেসব মতামত পর্যালোচনা করে তার ভিত্তিতে খসড়া অধ্যাদেশ পরিমার্জন হচ্ছে।
“আমরা মতামতগুলো পর্যালোচনা করেছি, অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে সংশোধন এসে খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে।”
ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ নিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের কার্যক্রম যখন চলছে, তখন এর কাঠামো নিয়ে কলেজগুলোর শিক্ষক শিক্ষার্থীরা মুখোমুখী অবস্থানে রয়েছেন।

প্রস্তাবিত কাঠামোতে সাতটি কলেজসহ সারা দেশের সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষক হিসাবে কর্মরত বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা পদোন্নতির মত মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার শঙ্কায় আছেন।
আর কলেজগুলোর বর্তমান শিক্ষার্থীরা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টির আইনি কাঠামো দ্রুত নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে দ্রুততম সময়ে অধ্যাদেশ জারির দাবি জানিয়েছেন।
এক সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থাকা এ কলেজগুলোকে ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়েছিল। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তুলে কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি তোলেন।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ‘ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে’ সরকার পরিবর্তনের পর সে আন্দোলন আরও বেগবান হয়। সাত কলেজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমকক্ষ একটি স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর রূপরেখা প্রণয়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানকে প্রধান করে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে গত ২৭ জানুয়ারি কলেজগুলোর অধিভুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, তখন এ কলেজগুলোতে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়া চলছিল।
পরে অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠন করে কলেজগুলোতে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু হয়ে গেলেও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস এখনও শুরু হয়নি।
ইউজিসি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপরেখা প্রস্তাব করে। বর্তমানে সংসদ না থাকায় অন্তর্বর্তী সরকার এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অধ্যাদেশ আকারে জারির উদ্যোগ নেয়।
ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খানের নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি অধ্যাদেশের খসড়া প্রণয়ন করে। প্রস্তাবিত প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাঠামোর বিষয়ে অংশীজনদের মতামত নিতে গত ২৪ সেপ্টেম্বর অধ্যাদেশের খসড়া প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
খসড়ায় সাতটি কলেজকে চারটি স্কুলে বিভক্ত করে ‘ইন্টারডিসিপ্লিনারি’ কাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী কলেজগুলো উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদানও চালু থাকবে।
এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা শঙ্কায় আছেন, সাতটি কলেজের দেড় হাজার পদ এ ক্যাডারে বাইরে চলে যাবে। পদ খালি থাকার শর্তে পদোন্নতি পাওয়া শিক্ষা ক্যাডারে দেড় হাজার পদ একেবার বের হয়ে গেলে পদোন্নতি নিয়ে জটিলতার সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন তারা।
মন্ত্রণালয় বলছে অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করা ‘সময়সাপেক্ষ’
শিক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং সুধীজনের কাছ থেকে খসড়া অধ্যাদেশটির ওপর পাঁচ হাজারেরও বেশি মতামত পাওয়া যায়। অনলাইন ও সরাসরি মতামত গ্রহণের পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ পর্যন্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে তিনটি মতবিনিময় সভা হয়েছে। খসড়া অধ্যাদেশের ওপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়-বিভাগের মতামতও গ্রহণ করা হয়েছে।
“মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ প্রতিটি মতামত আইনগত ও বাস্তবতার নিরীখে গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করছে। অনলাইনে প্রাপ্ত ও প্রত্যক্ষ মতামত পর্যালোচনা করে খসড়াটি পুণর্মূল্যায়ন ও পরিমার্জন কাজ শুরু হয়েছে।”
অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করার সামগ্রিক প্রক্রিয়া ‘সময়সাপেক্ষ’ জানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ সময়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমের ধারবাহিকতা কোনোভাবেই যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ‘সচেতন ও সক্রিয়’ রয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ বলছে, “দেশে উচ্চশিক্ষার গুরুত্ব, সংশ্লিষ্ট অংশীজনের ব্যাপকতা এবং সাত কলেজের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের পদ সংরক্ষণ, কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় সমন্বয়ের জটিলতা বিবেচনায় বস্তুনিষ্ঠভাবে এবং বিধিবদ্ধ পদ্ধতি অনুসরণ করে অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত করা হবে।
“প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ হলেও এর মাধ্যমে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য ও সমন্বিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ বিশ্বাস করে।”
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনির্ভাসিটি প্রতিষ্ঠা কার্যক্রমকে ‘দেশের উচ্চ শিক্ষার মানোন্নয়নের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অভিভাবকসহ সব অংশীজনের ন্যায্য স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে ইতিবাচক একাডেমিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করা এ বিভাগের প্রধান লক্ষ্য।
“ব্যক্তিগত ধারণা, অসম্পূর্ণ তথ্য বা গুজবের ভিত্তিতে বিভ্রান্তি বা পারস্পরিক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি না করে সবাই দায়িত্বশীল আচরণ করবেন- মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এ প্রত্যাশা করে।”
রোববার থেকে ক্লাস
অন্তবর্তীকালীন প্রশাসন গঠনের পর নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম ব্যাচে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাস রোববার থেকে শুরু হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভর্তি, রেজিস্ট্রেশন, ক্লাস পরিচালনা ইত্যাদি বিষয়ে অন্তবর্তীকালীন প্রশাসন, সাত কলেজের অধ্যক্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে গত ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এক সভায় করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
“অন্তর্বর্তী প্রশাসন পরিচালনা এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ভর্তি, রেজিস্ট্রেশন ও পাঠদানের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের অপারেশন ম্যানুয়ালও অনুমোদন করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করে ক্লাস শুরুর তারিখ আগামী ২৩ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।”

অনেকটা দেরি হলেও অবশেষে ক্লাস শুরুর ঘোষণা আসায় খুশি নতুন শিক্ষার্থীরা। ক্লাস শুরুর দাবিতে তারা কিছুদিন আগে অনশন কর্মসূচিও শুরু করেছিলেন।
শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চয়ন চলবে ১৭ থেকে ২০ নভেম্বর।
বুধবার ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে ভর্তি নিশ্চয়ন করছেন ক্লাস শুরুর দাবিতে আন্দোলন করা ২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান জিহাদ। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা খুশি, অবশেষে ক্লাস শুরু হচ্ছে। এমনিতেই অনেকটা দেরি হল, যা সেশন জটের শঙ্কা সৃষ্টি করেছে। আমার দ্রুত শিক্ষাকার্যক্রমে সম্পৃক্ত হতে চাই।”
ভিসি-প্রভিসির পদও চায় শিক্ষা ক্যাডার
খসড়া অধ্যাদেশে করা ইন্টারডিসিপ্লিনারি কাঠামোর বিষয়ে জানতে চাইলে ‘বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার মর্যাদা রক্ষা কমিটি’র সাধারণ সম্পাদক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের কলেজ শাখার সহকারী পরিচালক মো. মাঈন উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ কলেজগুলোতে ইন্টারমিডিয়েট থাকবে বলা হচ্ছে। ইন্টারমিডিয়েট থাকলে দেড় হাজার পদ থেকে এ সাতটি কলেজে শিক্ষা ক্যাডারের পদ থাকবে ১১২টির মত।
“শিক্ষা ক্যাডারে পদের বিপরীতে পদোন্নতি হয়, শূন্য পদ না থাকার অজুহাতে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদেরকে পদোন্নতি বঞ্চিত রাখা হয় বছরের পর বছর। কিন্তু সাত কলেজ নিয়ে প্রস্তাবিত কাঠামো বাস্তবায়ন হলে এখন যতটুকু পদোন্নতির সুযোগ আছে সেটাও কমে যাবে।”
প্রস্তাবিত কাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয়টি গঠিত হলে কলেজগুলো ‘স্বাকীয়তা হারাবে’ বলেও মনে করছেন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা।
এমন পরিস্থিতিতে অধিভুক্তিমূলক বা এফিলিয়েটিং কাঠামোতে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টি গঠন করে এর উপাচার্য, উপউপাচার্য ও কোষাধক্ষ্যের মত গুরুত্বপূর্ণ পদে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করেছেন এ ক্যাডারের সাবেক সদস্যরা।
অবসরে যাওয়া শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা ও ঢাকা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সাত কলেজের বর্তমান স্বকীয়তা ও স্বাধীন সত্তা বজায় রেখে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে এফিলিয়েটিং বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করে এর ভিসি, প্রোভিসি, ট্রেজারারসহ সকল পদে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিশ্চিত করে আইন করতে হবে।
“আর্মিরা তাদের নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি, প্রোভিসি হচ্ছেন। যেহেতু, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মত দলীয় রাজনীতি ও দলাদলি নেই, তাই আর্মিদের প্রতিষ্ঠানগুলো ভালোই চলছে, অভিভাবকদেরও পছন্দ।
“শিক্ষা ক্যাডার সদস্যদের দলীয় রাজনীতি করার সুযোগ নেই। তাছাড়া ১৭ হাজার শিক্ষা ক্যাডার সদস্য লাখ লাখ প্রতিযোগীর মধ্য থেকে (বিসিএসের মাধ্যমে) বাছাইকৃত, ক্যাডারে অনেক পিএইচডিধারী শিক্ষকও রয়েছেন।”

শিক্ষার্থীরা চান দ্রুততম সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় গঠন
ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় গঠন করে দ্রুততম সময়ে অধ্যাদেশ জারি করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে কলেজগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীরা বলছেন, তারা শিক্ষার সুযোগ চান।
সাত কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর আন্দোলনের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের অধিভুক্তির নামে যে বঞ্চনা দিয়েছে তাতে শব্দটিই আর শুনতে ইচ্ছা করে না। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজে ভর্তি হয়েছিলাম, কিন্তু মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাইনি।
“আমার কলেজের যে শিক্ষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কারিকুলামে পাঠদান করাতেন, তারা হঠাৎ বদলি হয়ে চলে যেতেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে পড়াতেন। আবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামের পাঠদান করানো ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজের শিক্ষকরা বদলি হয়ে ঢাকা কলেজে এসে আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে পাঠদান করাতেন। এমন বাস্তবতায় শিক্ষা মান কোথায় তা বোঝার অপেক্ষা রাখে না।
“আমাদের কলেজগুলোর সক্ষমতা থাকার পরও গবেষণার কালচারটাই এখানে গড়ে ওঠে নাই। আমি শিক্ষকদের দোষারোপ করে চাই না, কিন্তু অনেক আশা নিয়ে দেশের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী কলেজে ভর্তি হওয়ার পরও তারা আমাদের ওই মানের শিক্ষা প্রোভাইড করতে পারেন নাই। শিক্ষক সংকটে কখনও কখনও ক্লাস চালিয়েছেন প্রক্সি শিক্ষকরা।”
দ্রুত অধ্যাদেশ জারি করে বিশ্ববিদ্যালয় গঠন প্রক্রিয়া শেষ করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আর ওই পরিস্থিতিতে থাকতে চাই না। আমরা চাই মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ। তাই সরকারের উচিত হবে সব শিক্ষার্থীর জন্য মঙ্গলজনক কাঠামোতে এ বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের কাজ শেষ করে দ্রুত অধ্যাদেশ জারি করা।”
পুরনো খবর
ভিত পাওয়ার আগেই সংশয়, সঙ্কটে জর্জর 'ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি'