১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে শহীদ স্মরণে ‘ভাষার ক্ষুধা’

“রক্তের বিনিময়ে পাওয়া ভাষায় আমরা প্রতিবাদ জানাতে পারি না, আমরা ভয় পাই।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Feb 2026, 03:28 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:00 PM

ভাষার জন্য জীবন বাজি রেখে যারা রাজপথে নেমেছিলেন, সেই বীরদের স্মরণে ‘ভাষার ক্ষুধা’ নাটক মঞ্চায়ন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্য সংসদ।

শনিবার সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে নাটকটি মঞ্চায়িত হয়।

নাটকটি রচনা ও নির্দেশনায় ছিলেন মোবাশ্বের মাহমুদ নিবিড়। 

মঞ্চায়নের শুরুতে অভিনেতাদের কালো পোশাকে ‘রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই’ প্লাকার্ডের সামনে হাঁটতে দেখা যায়। ‘কারার ঐ লৌহ কপাট, ভেঙে ফেল কররে লোপাট’ কবিতার ছন্দে কলাকৌশল দেখানোর পাশাপাশি অভিনেতারা ভাষা সংগ্রামীদের সেই দাবি, বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার আওয়াজ তোলেন। 

নাটকে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরা হয়। এছাড়াও তুলে ধরা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তাদের অবদান।

এত বছর পরেও বাংলা ভাষায় আমরা কথা বলতে কেন হীনমন্যতায় ভুগছি-এ প্রশ্ন তুলে সহনির্দেশক নুসরাত জাহান সাদিয়া বলেন, “বাংলা ভাষা কতটা সুন্দর, তা আমরা এখনো উপলব্ধি করতে পারিনি। যখন আমরা বুঝতে পারবো যে, শুধুমাত্র বাংলা ভাষা নিয়ে লড়াই করার জন্য আজকে বিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হচ্ছে, যখন এই বোধটা আমাদের ভেতর তৈরি হবে, তখন আমাদের বাংলা ভাষাকে আর ছোট মনে করব না।”

নাটকের শেষে পরিচালক মোবাশ্বের মাহমুদ নিবিড় বলেন, “রাষ্ট্র এবং ক্ষমতা ভাষাকে ততক্ষণ ভালোবাসে, যতক্ষণ ভাষা চুপ করে থাকে। যখনই ভাষা প্রশ্ন করে, ক্ষমতার চোখে আঙুল দিয়ে কথা বলতে চায়, তখনই কোনো না কোনোভাবে আমাদের ভাষাকে দাবায় রাখা হয়। এই জায়গা থেকে আমাদের নাটকের সূচনা।”

বাংলাকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার ও প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে তুলে করে নাট্য সংসদের সাবেক সভাপতি নাজমুল হোসাইন বলেন, “বাংলা ভাষা হওয়ার কথা ছিল প্রতিবাদের ভাষা, বিক্ষোভের ভাষা। দুঃখের বিষয় যে এত বছর পরেও আমাদের ভাষা ওই জায়গায় পৌঁছায়নি। রক্তের বিনিময়ে পাওয়া ভাষায় আমরা প্রতিবাদ জানাতে পারি না, আমরা ভয় পাই।”