Published : 03 May 2026, 07:58 PM
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অষ্টম ইনডোর গেমসে (ক্যারম টুর্নামেন্ট) স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে বিতণ্ডার একপর্যায়ে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈমকে থাপ্পড় দেওয়া এক ছাত্রীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
রোববার বিকালে নিজ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদদীন তাকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানান সাংবাদিকদের।
বহিষ্কৃত ছাত্রী আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের।
উপাচার্য বলেন, “ইনডোর গেমসে এক শিক্ষার্থীর দ্বারা অন্য শিক্ষার্থীর ওপর শারীরিক আঘাতের ঘটনা বহু প্রত্যক্ষদর্শীর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করে তাকে সাময়িকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
“এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অসঙ্গত আচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতির পরিপন্থী এবং এসব কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা হবে।”
গত ২৯ এপ্রিল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়টির শহীদ সাজিদ অ্যাকাডেমিক ভবনের নিচতলায় ক্যারম ইভেন্টের ফাইনালে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদকের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে বিতণ্ডায় জড়ান সেই ছাত্রী। পরবর্তীতে তাকে থাপ্পড়ও মারেন।
বিষয়টি নিয়ে ওই ছাত্রী ফেইসবুকেও পোস্ট দেন। থাপ্পড় মারার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, পুনরায় স্বজনপ্রীতি করলে আবারও একই কাজ করবেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, “এখন তো শুধু একটা দিছি। এরপর থেকে খেলায় স্বজনপ্রীতি করলে এর চেয়ে বেশি থাপ্পড় খাবেন। আপনার স্বজনপ্রীতির সব প্রমাণ কিন্তু আছে আমার কাছে। ক্রীড়া সম্পাদক হয়ে ঠিকঠাক দায়িত্ব পালন করেন। অবৈধভাবে কাউকে চ্যাম্পিয়ন করার চেষ্টাও করবেন না।”
ওই ছাত্রীর দাবি, ডুয়েট গেমসে একই বিভাগের দুই খেলোয়াড় থাকার নিয়ম থাকলেও তার প্রতিপক্ষ দল সেটি মানেনি। বিষয়টি জানানো হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গৌতম কুমার ওই দলকে বহিষ্কার করে তাদের দলকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। তবে ক্রীড়া সম্পাদক সেই সিদ্ধান্ত মানেননি ও অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়েছেন।
জর্জিস আনোয়ার নাঈম বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী একটি দলের দুই খেলোয়াড় একই বিভাগের হওয়ার কথা থাকলেও ফাইনালে ওঠা একটি দলের খেলোয়াড় ভিন্ন বিভাগের ছিল। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে উত্তেজনা তৈরি হয়।
“পরিস্থিতি সামাল দিতে আমি দুই দলকেই যৌথ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করার প্রস্তাব দিই। তবে সেই ছাত্রী এতে রাজি হননি। তার দাবি ছিল, কোনো ম্যাচ ছাড়াই তাদের দলকে একক চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করতে হবে।”
নাঈম বলেন, “এরপর বিষয়টি ক্রীড়া উপকমিটির ওপর ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে সেই ছাত্রী আমাকে বিভিন্নভাবে চাপ দেন এবং হুমকি দেন। পরে পুরস্কার বিতরণ শেষে বিজনেস অনুষদের ডিন ও জকসুর ভিপির সঙ্গে অডিটোরিয়াম থেকে বের হওয়ার সময় তিনি আবার কথা বলতে এসে একপর্যায়ে সবার সামনে আমাকে থাপ্পড় মারেন। অশালীন ভাষায় গালিগালাজও করেন।”