Published : 06 May 2026, 01:34 AM
সরকারি তিতুমীর কলেজে তিন ছাত্রীর হলের সিট বাতিলকে কেন্দ্র করে রাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন আবাসিক ছাত্রীরা।
মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে কলেজের সুফিয়া কামাল ছাত্রীনিবাসের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে তারা বিক্ষোভে নামেন।
তাদের দাবি, কলেজে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি তোলায় সুফিয়া কামাল ছাত্রীনিবাসে থাকা তিন ছাত্রীর সিট বাতিল করে হলত্যাগের নির্দেশ দেয় প্রশাসন।
এই তিন শিক্ষার্থী হলেন- ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের দর্শন বিভাগের ছাত্রী সামিয়া আক্তার স্বর্ণা, উম্মে হাফসা ও জান্নাতুল ফেরদৌস লিমা।
তবে মঙ্গলবার সকালে কলেজ প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছে, ওই তিন ছাত্রীর বিরুদ্ধে শনিবার রাতে অন্য ছাত্রীদের হলের ডাইনিংয়ে জড়ো করা ও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। তাই তাদের সিট বাতিল করে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাতে বিক্ষোভের সময় ছাত্রীরা ‘হল কারো বাপের না, রাজনীতি চলবে না’, ‘সুফিয়া কামালে রাজনীতি, চলবে না চলবে না; বহিষ্কারের ভয় দেখিয়ে, দমন করা যাবে না’- এর মত নানা স্লোগান দেন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ ছাত্রীর মুখ ছিল ঢাকা।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিক্ষোভরত ছাত্রীদের পক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করা হয়। ওড়না ও মাস্কে মুখ ঢেকে পাঁচ ছাত্রী ব্রিফিংয়ে অংশ নেন। নিজেদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি তারা।
ব্রিফিংয়ে এক ছাত্রী বলেন, “গত শনিবার সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রদলের একটা কমিটি দেওয়া হয়েছে; অথচ আমরা হলের কোনো শিক্ষার্থী জানি না যে তারা হলে কমিটি দেবে। তারা একরকম মুক্ত অবস্থায় একটা কমিটি দিল। সেই প্রতিবাদে সেদিন রাতে একটা হল মিটিং দিয়েছিলাম। সেই মিটিংয়ে নাকি ছাত্রদলের কমিটিতে থাকা শিক্ষার্থীদের মানসিক নিপীড়ন করেছি।

“সেই পরিপ্রেক্ষিতে কলেজ প্রশাসন একটা তদন্ত কমিটি গঠন করল। কিন্তু সেই তদন্ত কমিটি হলে এল না, কোনো সাধারণ শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলল না, কিন্তু তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল। তিনজন ছাত্রীর হলের সিট বাতিল করা হল। আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং এখানে একটাই দাবি, সাধারণ শিক্ষার্থীরা হলে কোনো ধরনের রাজনীতি চাই না। ছাত্রদল নয়, ছাত্রশিবির না, ছাত্রশক্তি না। কোন ধরনের রাজনীতি চাই না।”
ব্রিফিং শেষে রাত পৌনে ১২টার দিকে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা আবার হলে ফিরে যান।
এর আগে ৩ মে সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রদলের ১১ সদস্যের কমিটি ঘোষণার পর ছাত্রীদের ক্ষোভের মুখে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কলেজ প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
ছাত্রীদের বিক্ষোভের বিষয়ে জানতে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ছদরুদ্দিন আহমেদের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া মেলেনি।