Published : 04 Aug 2026, 09:55 PM
আগের মারামারির রেশ ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে তৃতীয় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার দিনভর এসব সংঘর্ষে এ পর্যন্ত অন্তত ৭০ জনের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে এদিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আয়োজিত এক সেমিনারে ঢোকা নিয়ে প্রথমে ক্যাম্পাসে মারামারিতে জড়ান উভয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা; পরে যা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে ক্যাম্পাসের অদূরে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরেও। বিকালে সেখানে তৃতীয় দফা সংঘর্ষ বাঁধে উভয় সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে।
উভয় পক্ষ ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি দেশি অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়।
এদিকে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাস ও আশপাশে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করার কথা বলেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাশনের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ হামলার ঘটনা দুঃখজনক। সব পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
“যখন হামলার ঘটনা ক্যাম্পাসের বাইরে গড়ায়, তখন আমি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করি। ঘটনার পরপরই তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার মকবুল হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দুপুর থেকে আহতরা চিকিৎসা নিতে আসছেন। বিকাল ৬টা পর্যন্ত ৭০ জনের বেশি আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিয়েছেন।”
মঙ্গলবার প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এবং পরে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরপর দুই দফা সংঘর্ষের পর বিকালে সেখানে আরও এক দফা সংঘর্ষ হয়।
দিনের শুরুতে ক্যাম্পাসে সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, শিবিরের সভাপতি ও জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ এবং এজিএস মাসুদ রানা।
এছাড়া জবি ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসিবসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক সেমিনার আয়োজন করে, যাতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান মামুন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে সেমিনার কক্ষে প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়।
ঘটনার শুরুর বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) প্রতিনিধিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী প্ল্যাকার্ড হাতে মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করলে বাধার মুখে পড়েন। প্ল্যাকার্ডে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, বরাদ্দ করা ২০ কোটি টাকা দিয়ে অস্থায়ী হল নির্মাণ এবং মেডিকেল সেন্টারে পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধা, টেকনিশিয়ান ও চিকিৎসক নিয়োগের দাবি তুলে ধরা হয়। এসময় ইনকিলাব মঞ্চের কয়েকজন সদস্যও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, এসময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিলনায়তনের প্রবেশমুখ থেকে জকসুর নেতাদের টেনে বাইরে নিয়ে যান। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে আহতদের নিকটবর্তী ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এরপর হাসপাতালের ভেতরে ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা জড়ো হন এবং বাইরে অবস্থান নেন ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা।
এরপর দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালের ভেতর থেকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা হাসপাতালের ফটকে অবস্থান নেওয়া ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধাওয়া দেয়। পরে পাল্টা ধাওয়া করে ছাত্রদল হাসপাতালের ভেতরে ঢোকে। এ সময় দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। দুই পক্ষ ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি দেশি অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়।
পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার পর সংঘর্ষে যোগ দেন যুবদলের নেতাকর্মীরাও। পুরান ঢাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আসা এসব নেতাকর্মী ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চারপাশে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সেখানে তৃতীয় দফায় সংঘর্ষ বাঁধে। তিন দফা সংঘর্ষে আহত অন্তত ৭০ জন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন।