Published : 23 Oct 2025, 06:26 PM
শপথ গ্রহণ করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদে নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীরা।
বৃহস্পতিবার সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার নির্বাচিত চাকসু নেতাদের শপথ পড়ান। হল সংসদের নেতাদের শপথ পড়ান সংশ্লিষ্ট হলের প্রাধ্যক্ষরা।
এদিকে মেয়েদের নিয়ে ‘বিতর্কিত’ মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠা ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোটের’ নির্বাহী সদস্য দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থী আকাশ দাশ শপথ অনুষ্ঠানে ছিলেন না।
এছাড়া শপথ পাঠ অনুষ্ঠানের আগে চাকসু পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধেও অপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ তুলে তাকে শপথ অনুষ্ঠানে না রাখতে বিক্ষোভ করেন একদল শিক্ষার্থী।
পরে ভিপি ইব্রাহীম রনি তাদের শান্ত থাকার অনুরোধ করার পর তারা বসে পড়েন এবং শপথ পাঠ অনুষ্ঠান শুরু হয়।
উপাচার্য চাকসু নেতাদের শপথ পাঠ করানোর পর একে একে বিভিন্ন হল প্রাধ্যক্ষরা তাদের হল সংসদের নির্বাচিত প্রার্থীদের শপথ পাঠ করান।
শপথ পাঠ অনুষ্ঠানে চবি উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) মো. কামাল উদ্দিন, চাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার মনির উদ্দিন, চাকসুর দ্বিতীয় কেবিনেটের ভিপি শামসুজ্জামান হীরা, জিএস মাহমুদুর রহমান মান্না, তৃতীয় কেবিনেট ভিপি ও বিএনপি নেতা এসএম ফজলুল হক, চতুর্থ কেবিনেটের ভিপি মাজাহারুল হক শাহ এবং পঞ্চম কেবিনেটের ভিপি জসীম উদ্দিন সরকার উপস্থিত ছিলেন।
সম্প্রতি আকাশ দাশ বুয়েটের এক ছাত্রের বিরুদ্ধে ওঠা ধর্ষেণের অভিযোগ নিয়ে ফেইসবুকে একটি পোস্ট করেন। যদিও আপত্তির মুখে আকাশ দাশ ভুল স্বীকার করে পোস্টটি মুছে ফেলেন এবং দুঃখপ্রকাশ করেন।
আকাশ দাশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বুধবার চাকসুর নব নির্বাচিত তিন নেতা প্রক্টর কার্যালয়ে অভিযোগ জমা দেন। এছাড়া বিভিন্ন জন এর প্রতিবাদ জানিয়ে ফেইসবুকে পোস্ট করেন। রাতে ক্যাম্পাসে মিছিল করে বিভিন্ন সংগঠন।
এদিকে আকাশ দাশ শপথ নিলে অনুষ্ঠান বর্জনের হুমকি দেন নওয়াব ফয়েজুন্নেসা হলের ভিপি পারমিতা চাকমা।
পারমিতা নিজে এবং তার প্যানেলে হৃদ্যতার বন্ধনের ১২ জন এবং স্বতন্ত্র হিসেবে জয়ী হওয়া দুইজনও এ শপথ অনুষ্ঠান বর্জন করবেন বলে তিনি জানান।
গত ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত চাকসু নির্বাচনে ২৬টি পদের মধ্যে ২৪টি পদে জয় পায় ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’। দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থী আকাশ দাশ ছিলেন সে প্যানেলের হিন্দু ধর্মাবলম্বী প্রার্থী।
পাঁচ নির্বাহী সদস্যের মধ্যে আকাশ তৃতীয় হয়েছিলেন।