১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাবির শহীদুল্লাহ হলে শিবির-ছাত্রদলের হাতাহাতি

হল সংসদের এজিএসের কক্ষে অবস্থান করা বহিরাগত দুইজনের সমকামিতায় জড়ানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Aug 2026, 08:48 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:46 PM

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষের রুমে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হাতাহাতিতে জড়িয়েছেন।

হল সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে দুজন বহিরাগতের বিরুদ্ধে ‘সমকামী কর্মকাণ্ডে’ জড়ানোর অভিযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হাতাহাতির সূত্রপাত বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন।

রোববার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে প্রাধ্যক্ষের রুমে এ ঘটনা ঘটে। উভয় ছাত্র সংগঠন এক অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ এনেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, হলের প্রভোস্টের কাছ থেকে মারামারির বিষয়ে জানতে পেরে প্রক্টরের দপ্তরের একটি দল সেখানে গিয়ে দুপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। 

“দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করে পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাটির তদন্ত কার্যক্রম চলছে বলে আমার জানা আছে।”

‘ছাত্রদলই হামলা’ করেছে দাবি করে শিবির সমর্থিত শহীদুল্লাহ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) তৌকির হাসান ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে হলের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির ডাকে তদন্তে অংশ নিতে যাই। ওই তদন্তে হল সংসদের এজিএস এবং তার রুমমেটকে ডাকা হয়েছিল। তদন্ত শুরু হওয়ার পরপরই ছাত্রদলের দুইজন সদস্য তদন্ত কমিটির বৈঠক চলাকালে রুমে প্রবেশ করেন। পরে ঘটনার বিষয়টি দেখার জন্য আমি প্রভোস্ট অফিসে যাই। সেখানে হাউজ টিউটররা সবাইকে রুম থেকে চলে যেতে বলেন। 

“এরপর ছাত্রদলের সদস্যরা প্রভোস্ট অফিসের সামনে অবস্থান নেয় এবং আমরা প্রভোস্ট অফিসের দ্বিতীয় তলায় অবস্থান করি। তারা (ছাত্রদল) অভিযোগ তোলে যে ছাত্রশিবিরের একজন সদস্য তাদের ছবি তুলেছেন। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে তারা ওই ব্যক্তির ওপর হামলা চালায়। এরপর আমরা সবাই প্রভোস্টের কক্ষে আশ্রয় নিই। সেখানে কী ঘটছে, সেটি ধারণ করার জন্য আবার ভিডিও করা হয়।“

সেই ভিডিওকে কেন্দ্র করেও ছাত্রদল পুনরায় হামলা শুরু করে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ওই সময় ঘটনাস্থলে পাঁচজন হাউস টিউটর উপস্থিত থাকলেও, তাদের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।

শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোছাদ্দিক হক বলেন, “গতকালকের (শনিবার) ঘটনায় ছাত্রশিবির এজিএস ইব্রাহীম খলিলকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। সমকামিতাকে প্রমোট করতে গিয়ে শিবির বিভিন্নভাবে তাকে (এজিএসকে) ডিফেন্ড করার চেষ্টা করছে এবং এজন্য নানা ধরনের মিথ্যাচার শুরু করেছে। 

“গতকাল (শনিবার) তারা সিসিটিভি ফুটেজ ডিলিট করে দিয়েছে, যাতে কোনোভাবেই প্রমাণ করা না যায় যে ওই সময় সে সেখানে উপস্থিত ছিল। এভাবে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যাচারের মাধ্যমে তারা তাদের পক্ষ নেওয়ার চেষ্টা করেছে।”

মারামারি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আজকে দুপুরে প্রভোস্ট ইব্রাহীমকে ডাকলে একপর্যায়ে প্রভোস্ট অফিসে তারা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। আমরাও প্রভোস্ট অফিসে অবস্থান নেই। পরে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। সে সময় আমরা বাইরে ছিলাম। পরবর্তীতে যখন ভেতরে ঢুকি, তখন তারা আবার আমাদের ওপর হামলা করে। এতে আমাদের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।”

এঘটনার প্রেক্ষিতে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম ভূইয়া তাৎক্ষণিক পদত্যাগ করেছেন বলে দুইপক্ষই দাবি করেছে। তবে এ বিষয়ে প্রাধ্যক্ষকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলে শিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে বলে হল প্রভোস্ট জানালে সঙ্গে সঙ্গে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রক্টরসহ একটি মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

“আমরা তো পুলিশ নই, তারপরও দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করে পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাটির তদন্ত কার্যক্রম চলছে বলে আমার জানা আছে।”

আরও পড়ুন:   

ঢাবির শহীদুল্লাহ হল সংসদের এজিএসের রুমে সমকামিতার অভিযোগ