ঢাবির শহীদুল্লাহ হল সংসদের এজিএসের রুমে সমকামিতার অভিযোগ
“ঘটনাটি আমার রুমে ঘটলেও এ বিষয়ে আগে থেকে আমার কোনো ধরনের ধারণা বা সম্পৃক্ততা ছিল না,” বলেন এজিএস খলিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল সংসদের এজিএস ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে অবস্থান করা বহিরাগত দুই যুবকের বিরুদ্ধে সমকামিতার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার সন্ধ্যায় ফেইসবুকে এ সংক্রান্ত ভিডিও ছড়ানোর পর এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে এজিএস ও ছাত্রশিবির কর্মী ইব্রাহীম খলিল বলছেন, ওই দুই যুবক চিকিৎসার কথা বলে আসায় তিনি তাদের থাকতে দিয়েছিলেন।
সমকামিতার অভিযোগ ওঠার পর প্রতিবাদে হল চত্বরে মিছিল করেছেন হলের একদল শিক্ষার্থী।
ইব্রাহীম খলিল ডাকসুর হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের সমর্থনে হলের সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) নির্বাচিত হন। তিনি ছাত্রশিবিরের কর্মী বলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুহা. মহিউদ্দিন খান জানিয়েছেন।
শনিবার খলিলের রুমমেট অনয় চৌধুরী ফেইসবুকে তিনটি ভিডিও প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, গত ২৭ জুলাই তার কক্ষে খলিলের দুজন মাদ্রাসায় পড়ুয়া গেস্টকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাদের ‘বক্তব্য ও স্বীকারোক্তিও’ নেওয়া হয়।
বিষয়টি নিয়ে ফেইসবুক পোস্টে খলিল লেখেন, “ঘটনাটি আমার রুমে ঘটলেও এ বিষয়ে আগে থেকে আমার কোনো ধরনের ধারণা বা সম্পৃক্ততা ছিল না। অতিথিরা চিকিৎসার জন্য এসেছিল বলে আমি থাকতে দিয়েছিলাম।
“ঘটনার সময় আমি রুমে ছিলাম না এবং পরে কেউ আমাকে বিষয়টি জানায়নি। বিষয়টি জানতে পেরেই আমি এর নিন্দা জানাচ্ছি এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে সহযোগিতা করব।”
বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করে দেখার কথা বলছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মহিউদ্দিন খান।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তদন্ত করে দেখব আসলে সে (খলিল) একাজের সঙ্গে জড়িত কি না, বা তার অজান্তেই তার রুমে অতিথিরা একাজ করছে কি না। আর আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল প্রশাসনকে বলব অপরাধ হলে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে।”
এ বিষয়ে জানতে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম ভূইয়াকে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল রতন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ বিষয়ে এখনো অভিযোগ আসেনি। এখন পর্যন্ত ফেইসবুকে দেখেছি। এটা নিয়ে আরও বিস্তারিত দেখে করণীয় নির্ধারণ করব।”
