Published : 21 Sep 2025, 12:42 AM
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ‘পোষ্য কোটা’ পুনর্বহালের আন্দোলনকে ঘিরে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)।
শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠনটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করেছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সাধারণ ছাত্রদের’ নামে তথাকথিত ‘সমন্বয়ক’ শিবির নেতা সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যকে লাঞ্চিত করা হয়েছে।
“আমরা মনে করি শিক্ষক-কর্মকর্তা কর্মচারীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা বেআইনি ঘটনা।”
এ ঘটনার দ্রুত স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও সক্রিয় তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছে ইউট্যাব।
সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম ও মহাসচিব অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, সাধারণ ছাত্রদের ব্যানারে ‘শিবিরের গুপ্ত কর্মীরা’ উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাইন উদ্দিন, রেজিস্ট্রার ও প্রক্টরকে অবরুদ্ধ করে রাখে, যা প্রশাসনিক কর্তব্য পালন ব্যাহত হয়েছে।
“এই ধরনের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ ও শিক্ষাগত পরিবেশের জন্য এক গভীর হুমকি। শিক্ষক, প্রশাসক ও শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আইনের সীমার মধ্যে থেকেই যে কেউই তার মতামত প্রকাশ বা আন্দোলন করতে পারবে- তা অবশ্যই স্বীকৃত পদ্ধতি কখনোই হিংসা, অবরুদ্ধকরণ বা সম্পত্তি ধ্বংসের দিকে যেতে পারে না।”
প্রক্টর মাহবুবুর রহমানের ঘড়ি ও প্রায় ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের প্রচারের মধ্যে ‘পোষ্য কোটা’ কার্যকরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে একদল শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি, উপ-উপাচার্য ও প্রক্টরকে অবরুদ্ধ করে রাখার মধ্যে ক্যাম্পাসের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এর প্রেক্ষিতে রোববার পূর্ণদিবস কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন ‘পোষ্য কোটার সমর্থক’ হিসেবে পরিচিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটা অংশ।
এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ইউট্যাব বলেছে, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করবেন যে, ভবিষ্যতে এমন কোনো ঘটনা হবে না; শান্তি ও আইনের শাসন বজায় রাখার জন্য সকল পক্ষ সচেতন হবে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অধিকার স্বীকৃত, তবে তা শান্তিপূর্ণ ও আইনি পথে হওয়া উচিত; প্রশাসন ও শিক্ষকরা পরিবেশ তৈরিতে সহযোগিতা করবেন।
“প্রশাসনিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনে পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে যেন শিক্ষক ও কর্মকর্তা তাদের কাজ নির্বিঘ্নে করতে পারেন।”
সংগঠনটির দাবি, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে সহিংসতা ও অশান্তি চলছে তা আজই বন্ধ হোক। বিশ্ববিদ্যালয় একটি অভ্যস্ত স্থান যেখানে শিক্ষা, গবেষণা ও মানসিক বিকাশ ঘটে- সেখানে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন অবৈধভাবে ভয় বা হুমকি দিয়ে কাজ করাতে পারবে না।”
আরও পড়ুন
'পোষ্য কোটা': মধ্যরাতে হল থেকে বেরিয়ে রাবির ছাত্রীরাও আন্দোলনে
'পোষ্য কোটা': রাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ধস্তাধস্তি, উত্তেজনা
‘পোষ্য কোটা’: অবরুদ্ধ রাবির প্রোভিসি-প্রক্টর-রেজিস্ট্রার, ক্যাম্পাসে উত্তেজনা