Published : 21 Jul 2023, 06:10 PM
এক যুগ আগে যাত্রা করা মোবাইলে আর্থিক সেবাদানকারী কোম্পানি বিকাশ এখন সাত কোটি গ্রাহকের পরিবার।
এই সময়ে ৩ লাখ ৩০ হাজার এজেন্টের নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে কোম্পানিটি, যারা আর্থিক সেবা দিয়ে যাচ্ছে নিজ নিজ এলাকায়।
বিকাশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, টাকা স্থানান্তর, বিল পরিশোধ থেকে শুরু করে কেনাকাটা, সঞ্চয়, বিদেশ থেকে প্রবাসী আয় পাঠানোসহ নানা সেবা যুক্ত হয়ে এক যুগের ব্যবধানে পূর্ণাঙ্গ আর্থিক সেবার মাধ্যম হয়ে উঠেছে কোম্পানিটি।
বিকাশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর বলেন, “১২ বছরের পথচলায় ৭ কোটি ভেরিফাইড কাস্টমারের যে বিশাল পরিবার সৃষ্টি হয়েছে, এরাই নির্ভরযোগ্য সহযোগী হিসেবে বিকাশের উপরে তাদের আস্থা রেখে সেবাটি ব্যবহার করছেন।
“এই অর্জনের পেছনে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত সহায়তা ও সরকারের দিক নির্দেশনা, যার পরিপ্রেক্ষিতে এই অন্তর্ভুক্তিমূলক কাজটা সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে একটা যথার্থ সহযোগী হিসেবে বিকাশ কাজটা করতে পেরে পুরো দেশের প্রতি কৃতজ্ঞ।”
মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আর্থিক সেবা পৌঁছে দিতে ২০১১ সালের ২১ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত এমএফএস হিসেবে বিকাশ যাত্রা শুরু করে।
বিকাশ জানিয়েছে, ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত উপবৃত্তি, প্রধানমন্ত্রীর করোনাকালীন আর্থিক সহায়তা ভাতা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় খামারিদের প্রণোদনা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের ভাতা এবং সেই সাথে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকের বেতনসহ সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি উপকারভোগীর কাছে ভাতা ও প্রণোদনা পৌঁছে দিয়েছে বিকাশ। সরকারের বেতন-ভাতা-সহায়তা বিতরণও করছে প্রতিষ্ঠানটি।
এখন বিদেশে বসেও বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করে হিসাব খোলা যাচ্ছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রেমিটেন্স পাঠানো সহজ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৯০টির বেশি দেশ থেকে ৮০টির বেশি মানি ট্রান্সফার কোম্পানি হয়ে দেশের ১৭টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয় এই রেমিটেন্স।
২০২২ সালে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার রেমিটেন্স আসে বিকাশে, এর আগের বছরের প্রথম ছয় মাসেই আসে ৩ হাজার কোটি টাকা।
বিকাশ জানিয়েছে, শুধু সঞ্চয় নয়, বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করে ক্ষুদ্র ঋণও মিলছে। এ জন্য সিটি ব্যাংক ও বিকাশ যৌথভাবে ২০২১ সালে দেশের প্রথম ডিজিটাল ন্যানো লোন চালু করে।
বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে ৫০০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মিলছে। এখন পর্যন্ত গ্রাহকরা ২৭৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন, যার মধ্যে ২৩০ কোটি টাকা ইতিমধ্যে পরিশোধ হয়ে গেছে।