Published : 17 Sep 2026, 03:44 PM
এক যুগের বেশি সময় পর ঢাকায় আবারও বসছে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের বড় প্রদর্শনী ‘বাটেক্সপো’।
আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাটেক্সপো ২০২৬’-এর রজতজয়ন্তী আসর বসবে।
প্রথম দিন এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১৯ নভেম্বর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আয়োজনের বিস্তারিত তুলে ধরেন তৈরি পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
সর্বশেষ বাটেক্সপো হয়েছিল ২০১৩ সালে। এবারের প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য তুলে ধরে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, "পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশের পোশাক খাতের অভূতপূর্ব রূপান্তর, উন্নত কর্মপরিবেশের নিরাপত্তা ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য।"
তিনি বলেন, মেলায় দেশি-বিদেশি ক্রেতারা উপস্থিত থাকবেন। বাজার সম্প্রসারণ, উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরি এবং প্রযুক্তির পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের মত বিষয়গুলো এবারের মেলায় গুরুত্ব পাবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নতুন বাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে বিজিএমইএ ও এইচএসবিসি বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আগামী ২৮ ও ২৯ অক্টোবর হংকংয়ে ‘বাংলাদেশ অ্যাপারেল রোডশো, হংকং ২০২৬’ হবে।
মাহমুদ হাসান বলেন, "যারা সচরাচর বাংলাদেশ থেকে পণ্য কেনেন না, এমন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদের আমাদের সক্ষমতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।"
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে ১৬৭টি দেশের মধ্যে জাপান অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি বাজার। জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) ফলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন বিজিএমইএ সভাপতি।
জাপানের বাজারে অংশীদারত্ব বাড়াতে ‘জাপান মার্কেট স্ট্র্যাটেজি কমিটি’ গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, "ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে লিয়াজোঁ ও বাণিজ্য প্রসারে এই কমিটি কাজ করছে। এজন্য ‘বিজিএমইএ-জাপান ডেস্ক’ চালু করা হচ্ছে, যা আগামী ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন।"
জ্বালানি সংকট ও উৎপাদন খরচ
সংবাদ সম্মেলনে পোশাক খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ নিয়েও কথা বলেন বিজিএমইএ সভাপতি।
সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো পোশাক কারখানা বন্ধ হয়নি জানালেও এর প্রকৃত প্রভাব বুঝতে আরও কয়েক মাস সময় লাগবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মাহমুদ হাসান বলেন, "গ্যাস পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে জ্বালানি সংকটের অভিঘাত বুঝতে অন্তত তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে। বৈশ্বিক ধাক্কার পাশাপাশি তীব্র জ্বালানি সংকট আমাদের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যবস্থায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় ডাইং-ওয়াশিং ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল।"
কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত রাতারাতি নেওয়া যায় না মন্তব্য করে তিনি বলেন, "পাইপলাইনে থাকা অর্ডার শেষ করা, শ্রমিকদের আইনগত ক্ষতিপূরণ এবং ব্যাংকের দায়দেনার বিষয়গুলো বিবেচনা করে একটি কারখানা বন্ধ করতে প্রায় ছয় মাসের পরিকল্পনা প্রয়োজন হয়।"
জ্বালানি সংকটের সময় বিকল্প উপায়ে উৎপাদন অব্যাহত রাখায় কারখানাগুলোর উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলেও তার ভাষ্য।
দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত আরও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ, এলএনজি মজুত সক্ষমতা বাড়াতে স্টোরেজ টার্মিনাল নির্মাণ এবং এসএমই কারখানায় গ্যাস সংযোগ প্রদান ও রেশনিংয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ।
এছাড়া এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় রপ্তানি খাতে অন্তত ৫ বছরের জন্য বিশেষ নীতিসহায়তা ও শুল্ক-কর কাঠামোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
কাস্টমস বন্ড নিরীক্ষার আধুনিকায়ন, প্রক্রিয়ায় পেশাদার প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং সফটওয়্যার ত্রুটির নামে অযাচিত হয়রানি বন্ধের আহ্বানও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।