০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

আট মাসের মাথায় যমুনা সার কারখানায় উৎপাদন শুরু

“আশা করছি, প্রতিদিন এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টন সার উৎপাদন করা সম্ভব হবে।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 06 Oct 2026, 11:13 AM

Updated : 06 Oct 2026, 11:17 AM

গ্যাস সংকটে প্রায় আট মাস বন্ধ থাকার পর জামালপুরের সরিষাবাড়ীর যমুনা সার কারখানা উৎপাদনে ফিরেছে।

সোমবার রাত ৩টা ১০ মিনিটের দিকে সার উৎপাদন শুরু হয় বলে জানিয়েছেন কারখানার উৎপাদন বিভাগের প্রধান ফজলুল হক।

তিনি বলেন, গ্যাস না থাকা ও বিভিন্ন যান্ত্রিক জটিলতার কারণে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ মাস বন্ধ থাকে যমুনা সার কারখানা। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাস সংকটের ফলে কারখানাটির উৎপাদন ফের বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও ‘পর্যাপ্ত চাপ’ না থাকায় উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি বলে জানান কারখানার কর্মকর্তা ফজলুল হক।

তিনি বলেন, নিরবচ্ছিন্ন ইউরিয়া উৎপাদনের জন্য আদর্শভাবে গ্যাসের চাপ ৪৬ এমএমসিএফ প্রয়োজন। তবে ৪২ থেকে ৪৩ এমএমসিএফ চাপেও সার উৎপাদন সম্ভব হয়।

উৎপাদন বিভাগের প্রধান ফজলুল হক বলেন, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ২৭ থেকে ২৮ এমএমসিএফ চাপে গ্যাস সরবরাহ করছিল। প্রয়োজনের তুলনায় চাপ কম থাকায় কারখানা চালুর কার্যক্রম শুরু হলেও উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি। এরপর গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ পেয়ে সোমবার গভীর রাতে সার উৎপাদন শুরু হয়েছে।

এদিকে কারখানাটি পুরোদমে চালু হওয়ার খবরে আশপাশের এলাকায় কর্মচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করেছে।

খাবার দোকানি বিনয় দত্ত বলেন, “হোটেলের আয়ের উপর আমাদের সংসার চলে। কারখানা বন্ধ থাকলে আমাদের হোটেলে লোকজন আসে না। কোনো বেচাকেনাও হয় না।

“কারখানা বন্ধ থাকায় অনেক টাকা ঋণ করতে হয়েছে। এখন চালু হইছে, দেখি কতদিন চলে!”

ট্রাক চালক শামীম মিয়া বলেন, কারখানা চালু থাকলে মাসে ২০ থেকে ২৫টি ভাড়া মেলে। অনেকদিন থেকে কারখানা বন্ধ থাকায় মাসে ভাড়া মিলত মোটেই ২-৩টি।

কারখানার শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলাম তালুকদার বলেন, দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকার পর অনেক শ্রমিক ও কর্মচারীরা ‘মানবেতর’ জীবন যাপন করছিলেন।

“এখন সার উৎপাদন শুরু হয়েছে, আশা করি—সার উৎপাদন অব্যাহত থাকলে আমাদের শ্রমিক কর্মচারীরা তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।”

দিনে ১৭০০ টন সার উৎপাদনের সক্ষমতা নিয়ে যাত্রা করা যমুনা সার কারখানায় বেশ কয়েক বছর ধরে গ্যাসের চাপ স্বল্পতা ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ১২০০ থেকে ১৪০০ টনের মতো সার উৎপাদন হচ্ছিল।

কারখানাটি বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) তালিকাভুক্ত ১৯০০ ডিলারের মাধ্যমে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করে থাকে।

কারখানার কর্মকর্তারা জানান, স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ থাকলে সেখানে মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদন হয়। এতে কারখানার মুনাফা হয় প্রায় ৬০ কোটি টাকা। অন্যদিকে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও যন্ত্রপাতি সচল রাখতেও গ্যাস বিল দিতে হয় প্রায় ৬ কোটি টাকা।

যমুনা সার কারখানার অ্যামোনিয়া অ্যান্ড ইউটিলিটি বিভাগের প্রধান ফজলুল হক বলেন, “দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর যমুনা সার কারখানায় আবারও সার উৎপাদন শুরু হয়েছে। বর্তমানে কারখানার সবকিছু সচল রয়েছে।

“আশা করছি, প্রতিদিন এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টন সার উৎপাদন করা সম্ভব হবে।”