গ্রামের ৫ টাকার কপি ঢাকায় ৬০ টাকা: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
মন্ত্রী বলেন, “যারা উৎপাদন করেন, তারা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার অধিকার রাখেন, আবার আমরা যারা ভোক্তা, ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে জিনিস পাওয়া আমাদেরও পাওনা।“
মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের কারণে উৎপাদক ও ভোক্তা পর্যায়ের মধ্যে নিত্যপণ্যের দামে অনেক ব্যবধান থেকে যায় বলে মনে করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রহমান। তিনি সেই বাড়তি মুনাফার আকাঙ্ক্ষাকে ছেঁটে ফেলতে চান।
বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ খাত: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ বিষয়ে এক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “আমাদের বাজারে মাছ আছে, মুরগি আছে, ডিম আছে, সব আছে; কিন্তু দামটা আমার ক্রয়ক্ষমতার অনেক সময় বাইরে।
“যারা উৎপাদন করেন, তারা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার অধিকার রাখেন, আবার আমরা যারা ভোক্তা, ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে জিনিস পাওয়া আমাদেরও পাওনা।
“কিন্তু মাঝখান থেকে যে মধ্যস্বত্ত্বভোগী গ্রামের ৫ টাকার একটা কপি, সেটা ঢাকা শহরে এনে ৬০ টাকা বিক্রি করেন। এই জায়গাটা আমার মনে হয় আপনাদের অ্যাড্রেস করতে হবে এবং করে মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের আকাঙ্ক্ষার জিহ্বাকে টেনে ধরতে হবে।”
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব সেলিম উদ্দিন বলেন, “বাংলাদেশে জায়গা কমেছে, লোকসংখ্যা বেড়েছে। এই কম জায়গাতেও মৎস্য, কৃষি, পশুর উন্নতি হয়েছে, এটি অসাধারণ। এটাতে সবার অংশগ্রহণ ছিল।”
তিনি বলেন, “চিটাগুড়, সয়াবিন ও যে ভ্যাকসিন আমদানি হয়, সেটা যদি আমরা আরেকটু কম মূল্যে দিতে পারি, আমার বিশ্বাস, খাদ্যের দাম অনেক কমে আসবে এবং খামারিরা বড় সুবিধা পাবে। সার্বিকভাবে জনগণই এটার সুফল ভোগ করবে।“
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এমদাদুল হক তালুকদারের সভাপতিত্বে কর্মশালায় মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের প্রধান কারিগরি সমন্বয়ক গোলাম রব্বানী।
‘প্রাণিসম্পদ খাত, সমস্যা ও সম্ভাবনা: গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক নিবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিবিসি নিউজের সম্পাদক প্রণব সাহা। ‘লাইভস্টক জার্নালিজম’ শীর্ষক নিবন্ধ উপস্থাপন করেন গ্লোবাল টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা।
সাংবাদিক সৈয়দ বোরহান কবীরের সঞ্চালনায় কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক (যুগ্মসচিব) আব্দুর রহিমও।
